এক কেন্দ্রেই ইসির খরচ হবে ৫০ হাজার টাকা

নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় ভোটারদের অনাগ্রহ দূর করে কেন্দ্রমুখী করতে নানামুখী উদ্যোগ নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর অংশ হিসেবে এবার ‘আদর্শ ভোটকেন্দ্র’ স্থাপন করা হচ্ছে। এই ভোটকেন্দ্রে ঢোকার শুরুতে থাকবে সুসজ্জিত গেট। কেন্দ্রের ভিতরে আরামে বসার জন্য চেয়ার, সোফা, সুপেয় পানি, পরিচ্ছন্ন টয়লেটের ব্যবস্থা রাখা হবে। প্রতিটি আদর্শ মডেল ভোট কেন্দ্র স্থাপনে ইসির খরচ হবে ৫০ হাজার টাকা। যেখানে সাধারণ ভোটকেন্দ্র স্থাপনে ইসির খরচ হয় মাত্র ৩ হাজার টাকা।

সম্প্রতি ভারতের নির্বাচন দেখে এসে সেই অভিজ্ঞতায় আদর্শ মডেল ভোটকেন্দ্র স্থাপনে প্রস্তাব করেন ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। সেই আলোকে আগামী ১৮ জুন অনুষ্ঠিত পঞ্চম ধাপের উপজেলা নির্বাচনের ৬টি উপজেলায় এই আদর্শ মডেল ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। যদিও ইসি সচিবকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হিসেবে বদলি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তিনি আনুষ্ঠানিক ইসি সচিবালয় থেকে বিদায় নিবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ ইত্তেফাককে বলেন, ভারতের অভিজ্ঞতার আলোকে স্বল্প পরিসরে আদর্শ মডেল ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকবে। ভোটারদের মধ্যে ভোটকেন্দ্রের প্রতি এক ধরনের আকর্ষণ তৈরি করা হবে। ভোটারদের যথাযথ সম্মান এবং মর্যাদা নিশ্চিত করার জন্য আদর্শ মডেল ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। ওই ভোটকেন্দ্রে একজন ভোটার যতক্ষণ অবস্থান করবেন ততক্ষণ আরামদায়ক পরিবেশ উপভোগ করতে পারবেন।

তিনি বলেন, আদর্শ মডেল ভোটকেন্দ্রগুলোর সুন্দর গেট থাকবে। ভিতরে বৃদ্ধ ও গর্ভবতী নাগরিকদের জন্য বসার চেয়ার বা সোফা থাকবে। পানির জার রাখা হবে। নতুন ভোটারদের সংবর্ধনা দেওয়া হবে। গোপন কক্ষে কাপড়ের পরিবর্তে বোর্ডের তৈরি আচ্ছাদন ব্যবহার করা হবে। এসব আচ্ছাদন ভাঁজ করা যাবে। পরবর্তীতে অন্য নির্বাচনেও ব্যবহার করা যাবে।

গত ৯ মে থেকে ১৬ মে পর্যন্ত ইসির সচিবের নেতৃত্বে একটি টিম ভারতের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেন। সেই টিমের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের গত ২১ মে অনুষ্ঠিত মাসিক সমন্বয় সভায় মডেল ভোটকেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। ওই সমন্বয় সভায় ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ ভারতের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। বৈঠকে সচিব বলেন, ভারতের নির্বাচনে গোপন কক্ষে কাগজের তৈরি ফোল্ডার, অপেক্ষমাণ ভোটারদের জন্য সামিয়ানা টানিয়ে বসার ব্যবস্থা, সুপেয় পানির ব্যবস্থা এবং নতুন ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে সংবর্ধনা প্রভৃতি প্রদান করা হয়। ওই সভার কার্যবিবরণীতে ২৩ মে স্বাক্ষর করেন ইসি সচিব। সভার সিদ্ধান্তে বলা হয়, পঞ্চম ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহূত হবে— এরূপ ৬টি উপজেলার প্রতিটিতে একটি করে মডেল ভোট কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। আগামী সভায় এ বিষয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদনও জমা দিতে বলা হয়েছে।

যে ৬ উপজেলায় হবে মডেল কেন্দ্র :পঞ্চম ধাপে ২১টি উপজেলায় ১৮ জুন ভোট হবে। এর মধ্যে ৬টি উপজেলায় একটি করে মোট ৬টি মডেল ভোট কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। উপজেলাগুলো হচ্ছে কুমিল্লার আদর্শ সদর, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ, নোয়াখালী সদর, গাজীপুর সদর, নারায়ণগঞ্জ বন্দর এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর। এসব উপজেলায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, মডেল ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের রোদ থেকে রক্ষায় সামিয়ানা টানানো হবে।

উল্লেখ্য, নির্বাচন ব্যবস্থাপনার প্রতি ভোটারদের এক ধরনের অনীহা দেখা গেছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে বেশিরভাগ কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিত ছিল একেবারেই কম। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে ইসি।