তিন পুলিশ পালিয়ে গেছে থানা থেকে

ঝুট ব্যবসায়ী মাহবুবুর রহমান ওরফে সুজনকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া মিরপুর থানার এসআই জাহিদুর রহমান খানসহ দুইজনকে পাঁচদিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এসআই জাহিদ ও পুলিশের সোর্স নাসিমকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে হাজির করে ১০ দিন রিমান্ডে নেয়ার আবেদন জানায় ডিবি পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত এই দুইজনের পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে বুধবার রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স থেকে এসআই জাহিদকে গ্রেফতার করা হয়। তারপর জাহিদসহ আটজনের বিরুদ্ধে সুজনকে হত্যার অভিযোগে বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন মিরপুর থানার এসআই রফিকুল ইসলাম খান। মামলা নং ৪৮। তাত্ক্ষণিক মামলাটির তদন্তভার ন্যস্ত হয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপর। এসআই জাহিদ ও নাসিমকে হস্তান্তর করা হলে গতকাল দুপুরে ডিবি পুলিশের পরিদর্শক নিবারণ চন্দ্র বড়ুয়া ঐ দুইজনকে রিমান্ডে নেয়ার আবেদন জানিয়ে আদালতে হাজির করেন। গ্রেফতারকৃত এসআই জাহিদ ও পুলিশের সোর্স নাসিম ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন— মিরপুর থানার এএসআই রাজকুমার, কনস্টেবল আনোয়ার ও রাশিদুল হক, পুলিশ সোর্স পলাশ, ফয়সাল এবং খোকন। এসআই জাহিদ ও নাসিম ছাড়া অন্য আসামিরা এখনও পলাতক। এদের মধ্যে এএসআই রাজকুমার, কনস্টেবল আনোয়ার ও কনস্টেবল রাশিদুল হক মঙ্গলবার রাতে থানা থেকে পালিয়ে যান। তাদের ঐ রাতে নিয়মিত ডিউটি করার কথা ছিল। কিন্তু হত্যার ব্যাপারে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে-এমন খবর জানতে পেরে তারা পালিয়ে যান বলে মিরপুর থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য জানিয়েছেন। তারা বুধবারের নিয়মিত ডিউটি করার জন্য থানায় হাজির হননি। মিরপুর থানার ওসি সালাউদ্দিন খান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তাদের গ্রেফতার করতে গ্রামের বাড়িতে পুলিশের অভিযান চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে, নিহতের বড় ভাই নজরুল ইসলাম শামীম জানান, হত্যার ঘটনায় তারা মিরপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার ইমতিয়াজ আহমেদ ও মিরপুর মডেল থানার ওসি সালাউদ্দিন খান ঐ মামলা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। এ ব্যাপারে মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) ও থানার ওসি তাদের পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছে বলে অভিযোগ করা হয়। তিনি আরো অভিযোগ করেন, ওসি তাকে মোবাইলে ফোন করে এ ব্যাপারে বাড়াবাড়ি না করার হুমকি দেন। তিনি আরো অভিযোগ জানান, ঘটনার পরদিন মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) ও ওসি বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদ কর্মীদের মোবাইল ফোনে অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়া তথ্য পাঠিয়েছিলেন। ঘটনার দিন রাতেই তারা মিরপুরের ডিসির কাছে তার ভাইকে ছেড়ে দেয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। ডিসি মিরপুর তাদেরকে জানিয়েছিলেন যে তার ভাই একজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী। এ ব্যাপারে তার করার কিছুই নেই। তিনি আরো অভিযোগ করেন, পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা না নিয়ে পুলিশকে দিয়ে এ ঘটনার দায়ের করা মামলায় তারা বিচার না পাওয়ার আশঙ্কা করছেন। কোর্ট রিপোর্টার জানান, জাহিদের রিমান্ড প্রতিবেদনে বলা হয়, গত শনিবার রাতে ব্যবসায়ী সুজনকে তার ধানমণ্ডিস্থ শঙ্করের বাসা থেকে মিরপুর থানায় ধরে নিয়ে যান এসআই জাহিদ। যাবার পথে সুজনকে অমানুষিক নির্যাতন করে জাহিদ। থানায় নিয়ে যাওয়ার পর আলাদা করে অন্য সেলে নিয়ে যাওয়া হয়। রবিবার সকালে থানার সেলে থাকা অবস্থায় সুজনের মৃত্যুর খবর জানা যায়। সুজনের ভাই মাকসুদুর রহমান বলেন, প্রতিমাসে এক লাখ টাকা চাঁদা না দিলে তার ভাইয়ের ঝুট ব্যবসা বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেয় এসআই জাহিদ। চাঁদা না দেয়ায় তার ভাইকে হত্যা করা হয়। এছাড়া নিহতের লাশের ময়নাতদন্ত ও সুরতহাল প্রতিবেদনে নির্যাতনের ফলেই সুজন নিহত হয়েছে মর্মে উল্লেখ করা হয়। প্রসঙ্গত, উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহিদ পল্লবী থানায় কর্মরত থাকাবস্থায় দুইজন বিহারী যুবককে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। ঐ ঘটনার পর তাকে ঐ থানা থেকে প্রত্যাহার করা হলেও পরে মিরপুর থানায় সংযুক্ত করা হয়।