শান্তি মিশনে দেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরুন: রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বিরোচিত কাজ, মেধা এবং বিচক্ষণতার মাধ্যমে জাতিসংঘ শান্তি মিশনে দেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরতে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে গতকাল বুধবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি জাতিসংঘ মিশনে কর্মরত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী বাহিনীর উদ্দেশ্যে বলেন, বাংলাদেশ একটি শান্তিকামী দেশ। আমার ধারণা, বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনী আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা তুলে ধরার মাধ্যমে একটি শান্তি প্রতিষ্ঠিত দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠিত করতে কাজ করে যাবে।

রাষ্ট্রপতি অন্যান্য দেশের শান্তিরক্ষীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় আইটির উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের তথ্য ও প্রযুক্তি এবং কারিগরি বিশেষজ্ঞ হওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘ শান্তি মিশন এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ দেশটিকে বিশ্বব্যাপী একটি মর্যাদার অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে। পাশাপাশি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীরা দেশের অর্থনীতিতে এবং দ্বিপক্ষীয় ও বহুমুখী কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে বিশেষ অবদান রাখছে।

রাষ্ট্রপতি পরে একটি বুক স্টল এবং জাতিসংঘ মিশনে ব্যবহূত মডেল অস্ত্রের একটি ‘ফলেন পিচকিপার’ এর ওপর একটি স্টলসহ কয়েকটি সুন্দর স্টল পরিদর্শন করেন। রাষ্ট্রপতি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের ৩০ বছরের অনুষ্ঠান উপলক্ষে একটি বিশেষ ডাক টিকিট অবমুক্ত করেন। এ সময় ডাক টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী মুস্তফা জব্বার উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী, কূটনীতিকগণ, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, সংসদ সদস্যবর্গ, পুলিশের আইজি, পদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাগণ এবং রাষ্ট্রপতির সচিবগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও গতকাল বুধবার যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী দিবস উদযাপিত হয়েছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী বিশ্বের সকল দেশের শান্তিরক্ষীদের অসামান্য অবদানকে এই দিনে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়। দিবসটি গতকাল বেলা ২টা ৩০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শহীদ শান্তিরক্ষীদের নিকট আত্মীয় এবং আহত শান্তিরক্ষীদের জন্য সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। এছাড়া জ্যেষ্ঠতম শান্তিরক্ষী হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বক্তব্য প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী মিয়া সেপ্পো। এছাড়া রাষ্ট্রপতি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নিয়োজিত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সাথে মতবিনিময় করেন। অনুষ্ঠানে তিন বাহিনীর প্রধানগণ, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও), পুলিশের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিদর্শক, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকগণ, বাংলাদেশে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এবং ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ভোর ৭টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার তেজগাঁওস্থ পুরাতন বিমান বন্দর মসজিদ কমপ্লেক্সে এবং অন্যান্য বিভাগীয় শহরে ‘পিসকীপার্স কমেমরেশন’র মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাহফুজুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে ‘পিসকীপার্স  কমেমরেশন  উদ্বোধন করেন।