রমজানে দ্রব্যমূল্য

রমজানে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বৃদ্ধি পায় কী করে? সব ধর্মে রয়েছে—দ্রব্যের অহেতুক দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের জীবনে দুর্ভোগ সৃষ্টি কোনো মতেই করা যাবে না। কিন্তু সেই কাজটি যখন করা হচ্ছে তখন ব্যবসায়ীদের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন না উঠে পারে না। রমজান আসে, রমজান যায়। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি নিয়ে মিডিয়ায় হৈচৈ হয়। এক সময় হৈচৈ থেমেও যায়। কিন্তু অবস্থা যে তিমিরে সেই তিমিরেই থেকে যায়। আমাদের দেশে ব্যবসায়ীদের মধ্যে তিন ধরনের সিন্ডিকেট কাজ করে। এক. পাইকারি ব্যবসায়ী, দুই. খুচরা বিক্রেতা ও তিন. দালাল চক্র। শহর ও মোকামের পাইকারি ব্যবসায়ীরা যে দ্রব্য ১০ টাকা দরে বিক্রি করে, সে দ্রব্য নানা হাত ঘুরে গ্রাম পর্যায়ে ক্রেতাদের কাছে ১৫/২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়। এ নিয়ে বহু লেখালেখি হয়েছে। কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি। এর অন্যতম কারণ বাজার মনিটরিংয়ের অভাব। বাজার মনিটরিংয়ে সরকারি লোক রয়েছে। তারা শুধু সাপ্তাহিক বাজারদরের একটা তালিকা জাতীয় পর্যায়ে পাঠায়। গ্রামগঞ্জের বাজার মনিটরিংয়ের দায়িত্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার। এছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে মনিটরিং করার দায়িত্ব ইউপি চেয়ারম্যানদের। কিন্তু আদৌ তা কেউ করেন বলে মনে হয় না। আর বাজার তদারকি নেই বলে দ্রব্যমূল্য আকাশচুম্বি হচ্ছে সর্বত্র। গ্রামাঞ্চলে অন্য সময় না হোক এই রমজানে দ্রব্যমূল্য কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বল্প আয়ের লোকজনের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। ঢাকার বাজারদরের তুলনায় কম তো নয়, বরং কোনো কোনো জিনিসের দাম ঢাকার তুলনায় বেশি। যেমন গ্রামের খেতে খামারে উত্পাদিত তরিতরকারি, শাকসবজির মধ্যে বেগুন ৭০-৮০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, ঝিঙ্গে ৪৫-৫০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ টাকা, কলা (বিচি) ২০ টাকা, কাঁচকলা ৩০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ২০ টাকা, ডাঁটাশাক ২০ টাকা, পুঁইশাক ২০ টাকা, আদা ১৩০-১৪০ টাকা, শসা ৩৫-৪০ টাকা ইত্যাদি। সরকার দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে টিসিবি থেকে রমজান মাসে নির্ধারিত মূল্যে কিছু পণ্যসামগ্রী বিক্রি করছে। তবে উপজেলা পর্যায়ে টিসিবি ডিলার থাকলেও অধিকাংশ ডিলার মাল তোলেন না। আর তুললেও তা সাধারণের ভাগ্যে জোটে না। শহরগুলোতে অভিজাত এলাকায় এসব সামগ্রী বিক্রি করা হয়। ফলে চাকরিজীবী ও বিত্তবানরা এসব পণ্যসামগ্রী ক্রয় করে থাকেন। গরিব মানুষের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও টিসিবির এ সুযোগ তারা পুরোপুরি গ্রহণ করতে পারে না। এভাবে মোট জনসংখ্যার সিংহভাগ সেই খেটে খাওয়া মানুষেরা দ্রব্যমূল্য হ্রাসের সুযোগ থেকে বঞ্চিত। অথচ এরাই সরকারের ভোট ব্যাংক। তবু এদের কথা কেউ ভাবে না। ভাবলে স্বাধীনতার ৪৩ বছর পর তাদের অবস্থার কিছুটা উন্নতি হতো। খুলনা