ঈদের কেনাকাটা
ছুটির দিনে মহা ভিড়
প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০১৪, ২১:৪০
ঈদবাজারে গতকাল ছিল উপচে পড়া ভিড়। বিক্রি নিয়ে যে আক্ষেপ ছিল, তা গতকাল পুষিয়ে নিতে পেরেছেন বলে জানান দোকানিরা। শুধু সালোয়ার কামিজ কিংবা শাড়ি কাপড়ের দোকানে নয়, জুতা-স্যান্ডেল, কসমেটিক, গহনা সবকিছুর দোকানেই ছিল ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। সকাল ৯টা থেকে শুরু করে রাত ১২টা পর্যন্ত ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত ছিল ক্রেতা-বিক্রেতারা।
চাঁদনী চক, নিউ মার্কেট, গাউসিয়া, ধানমন্ডি হকার্স, বসুন্ধরা সিটি, মৌচাক, পিঙ্কসিটি, রাপাপ্লাজা, মেট্রো শপিং মল, প্লাজা এ আর, বঙ্গবাজার, গুলিস্তান মার্কেটগুলো ঘুরে দেখা যায় ঈদের কেনাকাটায় মানুষের ঢল।
চাঁদনী চক ও গাউসিয়া মার্কেটে ভিড়ের কারণে একাধিক ক্রেতা তাদের সঙ্গে থাকা শিশু কিংবা সহযাত্রীকে হারিয়ে ফেলে শরণাপন্ন হয়েছিলেন দোকান মালিক সমিতির। শপিংয়ের পাশাপাশি প্রায়ই মাইকে ঘোষণা আসছিল ক্রেতাদের দলছুট হয়ে যাওয়ার খবর।
লালমাটিয়া থেকে আসা শিক্ষার্থী শিউলী অভিযোগ করে বলেন, আজ ক্রেতাদের ভিড় হওয়ার কারণে দোকানিরা দাম ১০ টাকাও কমাচ্ছেন না। যে, থ্রিপিস সপ্তাহখানেক আগেই কিনে নিয়েছিলাম হাজার টাকায়, সেই থ্রিপিস এখন একদাম লিখে রেখেছে ১৮৫০ টাকা। একটি পোশাকে দোকানিরা দ্বিগুণ বেশি দাম নিচ্ছে।
মধুবাজার থেকে আসা সিমন্তী বলেন, ভিড় ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করতে এবং পোশাক দেখতেও পারিনি। এতো ভিড় হয়েছে যে, ভালোমন্দ দেখে কেনা অনেক কষ্টকর হয়ে পড়েছে। গাউসিয়া মার্কেটে একজন ক্রেতার সঙ্গে বিক্রেতার কিছুটা বাক-বিতণ্ডা হতে দেখা যায়। ক্রেতা একটি থ্রিপিস খুলে দেখিয়ে দিতে বললেও, দোকানি তা করতে নারাজ। তিনি বলেন, ঈদের মাল কোনটা ছেঁড়া বা ফাটা থাকবে না। সব মাল ফ্রেস। কিন্তু ক্রেতা মেয়েটি বারবার বলছেন, আমরা অনেক দূর থেকে এসেছি, একটু দেখিয়ে দেবেন, সমস্যা থাকলে আবার ফিরে এসে বদলানো যাবে না। কিন্তু দোকানি তা করতে একেবারেই নারাজ।
এবার মার্কেটে দেখা যাচ্ছে হিন্দি সিরিয়ালের নায়িকার নামের সঙ্গে মিলিয়ে পোশাকের নাম দিয়েছেন ‘পাখি’। এসব ‘পাখি’ ড্রেসের দাম ১৫০০ টাকা থেকে শুরু করে যে যার মতো দামে বিক্রি করছেন। কিছু পোশাক ইন্ডিয়ান আবার কিছু ইন্ডিয়ান পোশাকের পুরোপুরি নকল। যারা দেখে কিনছেন তারা কেউবা ওসব পোশাক কিনে লাভবান হচ্ছেন, আবার কেউবা ঠকছেন।
এবার গরমে ঈদ হওয়ায় চলছে সূতি, এন্ডি কটন, সিল্ক বেশি। তবে জর্জেট, কাতান, সিনথেটিকও ভালই চলছে। রঙের ক্ষেত্রে নীল, কালো, সবুজ, বেগুনী, অফহোয়াইট, বেশি চলছে। অন্যান্য রঙের ওপর এম্বডারি করা, স্টোন বসানো ও ইয়োগ বসানো থ্রীপিসগুলো বেশি চলছে। তবে দেখা গেছে, ইন্ডিয়ান আর পাকিস্তানি পোশাক ও থানকাপড়ে ভরে গেছে মার্কেট। সেখানে দেশীয় কাপড়ের বাজার কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। বিক্রেতা আব্দুস সাত্তার বলেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে একসময় দেশীয় কাপড়ের বাজার হারাবে।