ধোনির বদলে কোহলিকে চান চ্যাপেল

ভারতীয় টেস্ট দলের অধিনায়ক হিসেবে মহেন্দ্র সিং ধোনির পরিবর্তে বিরাট কোহলিকে দেখতে চান ক্রিকেট কিংবদন্তী ইয়ান চ্যাপেল। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়া (পিটিআই) কে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে অস্ট্রেলিয়ার এই সাবেক বলেন, দলের নেতা হিসেবে ধোনি তার সেরা সময়টা পেরিয়ে এসেছে এবং বিরাট কোহলির হাতে নেতৃত্ব দেয়ার এটাই সঠিক সময়। বর্তমানে ধারাভাষ্যকার এবং ক্রিকেট বিশ্লেষক হিসাবে কাজ করা চ্যাপেল বলেন,‘আমি মনে করি এটাই ধোনির চলে যাওয়া এবং অধিনায়ক হিসেবে কোহলির আবির্ভূত হওয়ার সঠিক সময় হতে পারে।’ যদিও খেলাটির সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে এখনও ধোনিকেই সেরা পছন্দ বলে মানলেন তিনি, ‘অবশ্যই সে (ধোনি) একজন টেস্ট অধিনায়ক নয়, তবে সংক্ষিপ্ত ভার্সনে সে একজন ভাল অধিনায়ক।এখন কোহলির হাতে নেতৃত্ব দিলে কোন সমস্যা হবে বলে আমি মনে করি না।’ তবে ভারতে ক্রিকেটারদের মাত্রাতিরিক্ত জনপ্রিয়তা সব সময় দল নির্বাচকদের চাপে ফেলে দেয় ইঙ্গিত করে চ্যাপেল বলেন, ‘ভারতীয় দলের নেতৃত্ব দেয়ার জন্য দরকার একজন সতেজ মস্তিষ্ক। কিন্তু ভারতীয় নির্বাচকরা এ কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচকদের মত সাহসী সিদ্ধান্ত নেয়ার যোগ্যতা ভারতীয় নির্বাচকদের নেই। তারা খেলোয়াড়ের অবসর নেয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে। আমি বলছি সে (ধোনি) ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪-০ ব্যবধানে সিরিজ হারার পরও অধিনায়ক থেকে গেছে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক হলে তাকে বিদায় নিতে হতো। দলকে উজ্জীবিত করার মত কিছুই সে করতে পারে না। আপনি পরাজিত হতে পারেন, সেটা হতে পারে। কিন্তু আপনি লড়াই করার মানসিকতা হারাতে পারেন না। তেমন মানসিকতা আমি তার মধ্যে দেখিনি। আমার মতে অধিনায়ক হিসেবে সে কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলেছে এবং এখন তার চলে যাওয়ার সময়।’ চ্যাপেল বলেন, ২৭ বছর বয়সী কোহলির জন্য দলের নেতৃত্ব দেয়া এখন উপযুক্ত সময়। কোহলির ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে সেটা কোন প্রভাব ফেলবে না জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘আমি মনে করি না অধিনায়কত্ব কোহলির পারফরমেন্স কোন প্রভাব ফেলবে। কারণ সে খুবই শক্ত মানসিকতাসম্পন্ন এবং একজন আত্মবিশ্বাসী ক্রিকেটার। সুতরাং একজন অধিনায়ক হিসেবে সে সব কিছুই করতে পারবে। ২৭ বছর বয়সী একজন খেলোয়াড়ের কাছ থেকে তার সেরা ফর্মে ফিরতে আপনি আরো ৪/৫ বছর সময় পেতে পারেন এবং অধিনায়ক হিসেবে ঐ খেলোয়াড়টির জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ’। বরং এখনই তাকে দায়িত্ব দিলে সেটা তার ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সকে আরো শাণিত করে তুলবে বলে জানান চ্যাপেল, ‘তাকে ৩২-৩৩ বছর বয়সে অধিনায়কত্ব দিলে সে ভাল কিছু দিতে পারে না, এ সময়ে সে তার ভাল ফর্মের ভাটার টান শুরু হবে । আপনারা তাকে তার সেরা সুযোগ দিতে হবে।’ চ্যাপেল ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকান অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুক এবং গ্রায়েম স্মিথ সম্পর্কেও কথা বলতে গিয়ে বলেন তারাও খুব ভাল অধিনায়ক নন। তিনি বলেন, ‘ধোনি ছাড়া কুক এবং স্মিথ সবাই অতি সাধারণ মানের অধিনায়ক। আমার দৃষ্টিতে তারা মাইকেল ক্লার্কের চেয়ে কয়েক মাইল পিছিয়ে রয়েছে। একজন অধিনায়ককে খেলোয়াড়দের কাছ থেকে সম্মান পেতে হয় এবং তার অধিনায়কত্বের সক্ষমতা সম্পর্কে খেলোয়াড়দের বিশ্বাস থাকতে হবে। আগামী সিরিজ শুরু হওয়ার সময় কুক অধিনায়ক থাকলে অস্ট্রেলিয়া খুশি হবে।’ চ্যাপেল বলেন এই মুহূর্তে ক্লার্ক বিশ্বের সেরা অধিনায়ক । তিনি বলেন,‘ ক্লার্ক খুবই ভাল একজন অধিনায়ক এবং আরেক জনের কথা আমি খুব বেশি বলতে পারছি না-এ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ। সত্যিই তার সম্পর্কে আমি খুব বেশি জানি না।’ তবে পিঠে সমস্যা থাকায় ক্লার্ককে খুব বেশিদিন অধিনায়ক দেখছেন না চ্যাপেল। তিনি বলেন,‘পিঠের সমস্যা সমাধানের জন্য সে হয়তোবা খুব চেষ্টা করছে। তবে আমি তাকে খুব বেশিদিন অধিনায়ক দেখছি না।’ চ্যাপেল বলেন স্টিভ স্মিথ এবং ডেভিড ওয়ার্নার দুইজনই ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়ার যোগ্য অধিনায়ক হতে পারে। ‘সম্ভবত স্মিথ। আমি মনে করি সে খুবই ভাল একজন ক্রিকেটার। সে সংক্ষিপ্ত ভার্সনে দলের নেতৃত্ব দিয়েছে। তার সব গুণই আছে।এখন তাকে কেবল মাত্র নিজেকে একজন সত্যিকারের খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে আরম্ভ করতে হবে। দারুণ ছন্দে থাকা ওয়ার্নারও পেতে পারেন দলের দায়িত্ব, ‘ওয়ার্নারও খারাপ অধিনায়ক হবে না। আমি তাকে কেবল মুখ বন্ধ এবং মাঠে বোকার মত কথা বলতে দেখতে চাই না। এ ধরনের ভাবমূর্তি থাকাটা একজন অধিনায়কের শোভা পায় না। কেউ একজনের তাকে বলা উচিত ডেভিড ব্যাট হাতে তুমি ম্যাচ জয় করতে পার-তোমার মুখটা বন্ধ কর। -বাসস।