ঈদের আনন্দ পাবে না ১৬৬ এতিম

সামনে ঈদ। এই ঈদ উত্সবকে কেন্দ্র করে সাধ্যমতো কেনাকাটায় ব্যস্ত সবাই। শিশু কিশোররা নতুন জামা-কাপড় পরে মাতবে ঈদের আনন্দে, এমনটিই সাভাবিক। কিন্তু ব্যতিক্রম কেবল রাজশাহীর বাঘা উপজেলার কল্যাণী শিশু সদনের অসহায় শিশুরা। ঈদের আনন্দ তাদের স্পর্শ করবে না। কল্যাণী শিশু সদন এর অবস্থান রাজশাহী শহর থেকে ৪৫ কিলোমিটার পূর্বে বাঘা উপজেলার সরেরহাট গ্রামে। এর পরিচালক পল্লী চিকিত্সক শামসুদ্দিন ওরফে সমেশ ডাক্তার জানান, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গন থেকে ফিরে যুদ্ধে নিহত শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের নিয়ে তিনি গড়ে তোলেন একটি ছোট্ট এতিমখানা। যার নাম দেয়া হয় “সরেরহাট কল্যাণী শিশু সদন”। শুরুতে এখানে এতিমের সংখ্যা ছিল ৫৬ জন। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৬ জনে। আশ্রয়হীনদের ব্যবস্থা করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত একমাত্র বসতভিটা বিক্রি করে নিজেই পরিবার নিয়ে হয়ে পড়েন গৃহহীন। শেষ পর্যন্ত স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে নিজের গড়া এতিমখানাতেই আশ্রয় নিতে হয় তাকে। স্ত্রী, ২ ছেলে ও ২ মেয়েকে নিয়ে এখন ১৬৬ জন এতিম শিশুর মাঝে থাকেন সমেশ ডাক্তার। তারা একসঙ্গে ঘুমান এবং একই খাবার খান। বর্তমানে ১৬৬ সন্তানের অভিভাবক হিসেবে দারিদ্রের সঙ্গে যুদ্ধ করে তিনি এগিয়ে চলেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ১০৯ ছেলে এবং ৫৭ জন মেয়ে। তিনি এতিমদের মুখের দিকে চেয়ে কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, চলতি রমজান মাসে কত মানুষই তো কত ভালো ভালো খাবার ও জামা-কাপড় কিনছেন; কিন্তু তার সন্তানদের জন্য তিনি এখন পর্যন্ত কিছুই করতে পারেননি।