ভোলায় মাছ চাষে শফিউল্লাহর বার্ষিক আয় কোটি টাকা

কর্ম পেয়েছেন দুই হাজার মানুষ রূপালী সম্পদ মাছ চাষ করে যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করেছেন ভোলার মোঃ শফিউল্লাহ মাল। শফিউল্লাহর বাড়ি সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের দড়িরাম শংকর গ্রামে। দীর্ঘ ১০ বছরের প্রচেষ্টা তাকে এ সফলতা আনতে সহায়তা করেছে। মত্স্য খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি অর্জন করেছেন জাতীয় পুরস্কার। এদিকে খ্যাতির পাশাপাশি শফিউল্লাহ ফিরে পেয়েছেন আর্থিক স্বচ্ছলতা। সেই সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন আরও প্রায় দুই হাজার মানুষের। তার এই সাফল্য দেখে অনেক বেকার যুবক এগিয়ে এসেছেন মাছ চাষে। শফিউল্লাহর কাছ থেকে পরামর্শ এবং নানা সহযোগিতা নিয়ে তারাও নিজেদের স্বাবলম্বি করে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। শফিউল্লাহ জানান, কর্মজীবনের শুরুতে তিনি তার বাড়ি সংলগ্ন জমিতে ধান চাষ শুরু করেছিলেন। কিন্তু এতে তিনি সাফল্য অর্জন করতে পারেননি। বরং লোকসানের ঘানি টানতে হয়েছে তাকে। এতে হতাশ হয়ে তিনি সংসার থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। এরপর ২০০৩ সালে নিজের একটি পুকুরে ১৪শ’ টাকার পোনা ছেড়ে মাছ চাষ শুরু করেন। সে বছর প্রায় ২ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করেন। পরবর্তীতে মত্স্য অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ গ্রহণ করে তার কার্যক্রম সমপ্রসারণ করতে থাকেন। এরপর থেকে তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক সাফল্যের চাবিকাঠি এসে তার হাতে ধরা দিতে থাকে। এলাকার সরকারি এবং ব্যক্তি পর্যায়ের পুকুর লিজ নিয়ে তিনি মাছ চাষের পরিসর বৃদ্ধি করতে থাকেন। পাঙ্গাস মাছ চাষ করে আর্থিকভাবে প্রচুর লাভবান হতে থাকে। সেই সাথে পেতে থাকেন পরিচিতি। তার এ কাজে সহযোগিতা দেন জেলা মত্স্য কর্মকর্তা প্রীতিস কুমার মল্লিক। শফিউল্লাহ অতি যত্নে গড়ে তোলেন আচিয়া মত্স্য খামার। ভোলা সদর এবং পার্শ্ববর্তী উপজেলার মত্স্য চাষীদের কাছে এটি এখন এক পরিচিত নাম। পর্যায়ক্রমে ২০১০ সালে তিনি মাছ চাষে ৩০ লাখ টাকা ব্যয় করে ৫৫ লাখ টাকা লাভবান হন। ২০১৩ সালে তিনি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয় করে ১ কোটি ১৬ লাখ টাকা আয় করেন। বর্তমানে মত্স্য চাষ থেকে তার বাত্সরিক আয় ৪০ লাখ টাকা। সেই সঙ্গে তিনি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন আরও প্রায় দুই হাজার মানুষের। সংসারের অভাব দূর হয়েছে তার। এরমধ্যে আবার প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে জাতীয় পুরস্কার লাভ। সব মিলিয়ে তিনি এখন গর্বিত মানুষ।