ঘিওর ও দৌলতপুরে যমুনা ধলেশ্বরীর ভাঙন

ধলেশ্বরী ও যমুনার পানি বৃদ্ধি পাওয়ার শুরুতেই মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বালিয়াখোড়া, বানিয়াজুরী, পয়লা, সিংজুরী, ঘিওর সদর ও দৌলতপুর উপজেলার চরকাটারী বাঁচামারা, বাঘুটিয়া, খলসী ইউনিয়নের ১০ গ্রামে নদী ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। গত দু’ সপ্তাহে ওই এলাকার ৫ শতাধিক বসতভিটা, দৌলতপুর কারিগরি কলেজসহ প্রায় দেড় হাজার একর ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। শুষ্ক মৌসুমে গতিপথে চর জেগে ওঠায় হঠাত্ পানি বৃদ্ধি পেয়ে এর প্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। এ কারণে নদীর তীরবর্তী স্থান দিয়ে তীব্র স্রোত বয়ে যাওয়ায় এ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ভুক্তভোগীরা জানিয়েছে। এ ব্যাপারে ঘিওর সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হামিদুর রহমান আলাই জানান, আমার ইউনিয়নে ধলেশ্বরী নদীর ভাঙ্গনে বেশ কয়েকটি বসত বাড়ি ও ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙ্গনের হুমকির মুখে রয়েছে ঘিওর ডিএন পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, ডিগ্রি কলেজ ও দুটি ব্রিজ। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকারি কোন সহায়তা পাওয়া যায়নি। চরকাটারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ জানান, গত এক মাসে নদী ভাঙ্গনে এ ইউনিয়নের কামার পাড়া, কাঁঠালতলী, চরকাটারী সেক পাড়া, ডাক্তার পাড়াসহ চারটি ওয়ার্ডে ও ৮/১০টি গ্রামের ১২ শতাধিক বাড়িঘর, শত শত একর আবাদি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। বাঘুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন জানান, এ ইউনিয়নের বাসাইল, ইসলামপুর, রাহাতপুর ও জোতকাশি, ঘোষপাড়া গ্রামে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যেই দুই শতাধিক বসতভিটা ও এক হাজার একর ফসলি ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। পাচুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কমিউনিটি ক্লিনিকসহ বহু ঘরবাড়ি হুমকির মধ্যে রয়েছে। বাঁচামারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল রশিদ সরকার জানান, গত দু’ সপ্তাহে এ ইউনিয়নের চরভারাঙ্গা ও চুয়াডাঙ্গা গ্রামে শতাধিক বসতভিটা ও দুইশ’ একর ফসলি জমি নদীতে ভেঙ্গে গেছে। এখন যে কোন সময় চরভারাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মসজিদ-মাদরাসা ভাঙ্গনের আশঙ্কা করা হচ্ছে। তিনি আরো জানান, ভাঙ্গনরোধ ও কবলিত মানুষকে সরকারিভাবে কোনো সহায়তা করা সম্ভব হচ্ছে না। তাদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রীসহ টিন বরাদ্দ দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। গতকাল শুক্রবার ঘিওর ডিএন হাই স্কুল এলাকা, বালিয়াখোড়া বাজার এলাকা ও দৌতপুর উপজেলার ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, তীরবর্তী বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়ে অল্প সময়ের মধ্যে তা নদীতে ধসে পড়ছে। অনেকে বসতভিটা থেকে ঘর নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিচ্ছে। বহু পরিবার বসতভিটা নদীতে হারিয়ে ঘর তোলার জায়গা না পেয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে। যমুনা নদীর ভাঙ্গনকবলিত চরকাটারী ইউনিয়ন এলাকার কামার পাড়া গ্রামের ভাঙ্গনের শিকার আমির শেক (৬৫) জানান, গত এক মাসে আমার বাড়িঘরসহ গ্রামের ২/৩শ’ বাড়িঘর যমুনায় ভেঙ্গে গেছে। বাসাইল গ্রামের আমিন উদ্দিন জানান, ক’দিনের ভাঙ্গনে তার ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখন নদী কাছে চলে আসায় বাড়ির ঘরগুলো সরিয়ে নিচ্ছেন তিনি। তার আশপাশের অনেক বাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।