জোয়ার ভাটা অতিদূষণ থেকে রক্ষা করছে কর্ণফুলীকে

জোয়ার-ভাটা চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীকে মারাত্মক দূষণ থেকে রক্ষা করছে। প্রতিদিন দুইবার প্রাকৃতিক এ জোয়ার-ভাটার ফলে বিশাল পরিমাণ ময়লা-আবর্জনা সমুদ্রের গভীরে চলে যায়। প্রতিটি জোয়ারের সর্বোচ্চ উচ্চতা ও ভাটার সর্বনিম্ন অবস্থানের পার্থক্য প্রায় ৪ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। তাছাড়া ভাটার গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ৪ নটিক্যাল মাইল হওয়ার কারণে বিপুল পরিমাণ ময়লা-আবর্জনা ও জৈব পদার্থ সমুদ্রে চলে যায়। বন্দরের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, প্রতিদিন কর্ণফুলী নদী সংলগ্ন চট্টগ্রাম মহানগরীর ৫৫টি খাল-নালা-নর্দমা দিয়ে ২২ টন জৈব ও অজৈব এবং কঠিন বর্জ্য কর্ণফুলী নদীতে পড়ছে। এছাড়া বিভিন্ন মিল কারখানার ময়লা-আবর্জনাবাহী এবং রাসায়নিক পদার্থবাহী পানি কর্ণফুলী নদীতে পড়ছে; কিন্তু জোয়ার-ভাটা না থাকলে ওই সকল বর্জ্যে কর্ণফুলী নদীও বুড়িগঙ্গার মতো দূষিত নদীতে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল বলে সংশ্লিষ্ট বন্দরে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। জানা যায়, জোয়ার-ভাটা থাকার পরও কর্ণফুলী নদীতে পলিথিন পানির বোতল, চিপসের খালিপ্যাকেট, বিভিন্ন ধরনের ক্যান, অপচনশীল দ্রব্যাদি কর্ণফুলী নদীতে জমে থাকে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী কর্ণফুলী নদীর রিভারবেডে ৪ থেকে ৫ ফুট পর্যন্ত ওই সকল ও দ্রব্যাদির তলানি জমে আছে। সাম্প্রতিককালে কর্ণফুলী নদীর ক্যাপিটাল ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে এ বিরাট সমস্যা ধরা পড়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে- ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্প বাস্তবায়নে সমস্যার মধ্যে এটিও অন্যতম। কর্ণফুলী নদীর দূষণরোধে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন, শোভাযাত্রা এবং কর্ণফুলী নদীতে নৌকা বাইচ-এর আয়োজন করা হয়। সম্প্রতি বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে কর্ণফুলী নদী দূষণ রোধে ব্যাপক জনসংযোগ চালানো হয়। ‘কর্ণফুলী নদীকে বুড়িগঙ্গা হতে দেব না’ শ্লোগান নিয়ে কর্ণফুলী নদী দূষণের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সংস্থা এবং শিল্পপতিদের সাথে মতবিনিময় এবং দূষণ রোধে করণীয় সম্পর্কে আলোচনা হয়। চট্টগ্রাম ওয়াসা মূলত ওয়াটার এন্ড স্যুয়ারেজ অথরিটি হলেও এর প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত স্যুয়ারেজের কোন ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে দেখা যায়, প্রায় ৫০ লাখ লোকের চট্টগ্রাম মহানগরীর বিপুল জনগোষ্ঠীর কঠিন বর্জ্য সরাসরি বিভিন্ন নালা-নর্দমা ও খাল হয়ে কর্ণফুলী নদীতে পড়ছে। এতে করে কর্ণফুলী নদী দূষণের বিরাট কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে; কিন্তু প্রাকৃতিক জোয়ার-ভাটার কারণে তার বিশাল অংশ সমুদ্রে পতিত হয়। একইভাবে চট্টগ্রাম কর্ণফুলী নদীর দূষণের অন্যতম বাহক কর্ণফুলী পেপার মিলের রাসায়নিক পদার্থ মিশ্রিত পানি। দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে জরিমানা ও চাপ দেয়া হলেও এ পর্যন্ত কোন দূষিত পানি পরিশোধনাগার নির্মাণ করা হয়নি। অনুরূপভাবে কর্ণফুলী নদী সংলগ্ন এবং শহরে কিছু শিল্প কারখানা দূষিত পানি প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য চলছে বলে পরিবেশ অধিদপ্তর জানায়।