খুলনা অঞ্চল থেকে পাট রফতানি ৫৫ শতাংশ হ্রাস
প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০১৪, ২১:৪৯
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পাটের মোকাম খুলনার দৌলতপুর থেকে কাঁচা পাট রপ্তানির পরিমাণ ৫৫ শতাংশ কমেছে। সদ্য সমাপ্ত অর্থ বছরে ৮ লাখ ৮৫ হাজার ১১৪ বেল পাট রপ্তানি হয়। এর আগে ২০১২-১৩ অর্থ বছরে ১৮ লাখ ৭৯ হাজার বেল পাট রপ্তানি হয়েছে। রপ্তানি হ্রাস পাওয়ার পেছনে তিনটি কারণ উল্লেখ করেছে স্থানীয় পাট রপ্তানিকারকরা।
বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএ) সূত্র জানায়, খুলনা থেকে বিশ্বের ২০টি দেশে কাঁচাপাট রপ্তানি হচ্ছে। দেশগুলো হচ্ছে ভারত, পাকিস্তান, চীন, নেপাল, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, কিউবা, ব্রাজিল, জার্মানী, আলসালভাদর, আইভরিকোস্ট, জিবুতি, যুক্তরাজ্য, তিউনিশিয়া ও নেদারল্যান্ড। বর্তমানে সবচে বেশি পাট রপ্তানি হচ্ছে পাকিস্তানে। এ বছর পাকিস্তানে ৩ লাখ ১২ হাজার ৪৯৭ বেল কাঁচা পাট রপ্তানি হয়েছে।
পাট রপ্তানি হ্রাসের পেছনের কারণগুলো হচ্ছে ব্যবসায়ীদের কাঙ্ক্ষিত ব্যাংক ঋণ না পাওয়া, ভারতীয় রূপীর অবমূল্যায়ন ও নতুন বাজার সৃষ্টি না হওয়া। বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সাব্বির ইউসুফ সম্প্রতি মিডিয়াকে জানান, পাট পণ্য রপ্তানির বিপরীতে বিগত বাজেটে অপ্রতুল অর্থ বরাদ্দ থাকায় বছর বছর পুঞ্জিভূত বকেয়ার পরিমাণ বেড়ে চলেছে। ফলে দেশের জুট মিলগুলো তারল্য সংকটে পড়েছে।
বিজেএ’র সাবেক চেয়ারম্যান মাহফুজুল হক বলেন, দেশের বড় একটি অংশের কাঁচা পাট রপ্তানি হতো ভারতে। সম্প্রতি ভারত পাট আমদানি কমিয়ে দিয়েছে। ডলারের মানের সঙ্গে ভারতীয় রুপির তারতম্যের কারণে তারা পাট আমদানি করছে না। ফলে আমরা বড় একটি পাটের বাজার হারাতে বসেছি।
পাট রপ্তানিকারক সাইফুজ্জামান মুকুল জানান, কাঁচা পাটের জন্য বহির্বিশ্বে নতুন বাজার সৃষ্টি করা দরকার। দেশের কাঁচা পাটের চাহিদা ও সুনাম রয়েছে। সেগুলোকে কাজে লাগিয়ে হারানো ঐতিহ্যকে আবার ফিরিয়ে আনা সম্ভব। সরকারের উচিত পাটের বাজার সৃষ্টি করার জন্য আন্তর্জাতিক মহলে আরো ফলপ্রসূ আলোচনা করা। রপ্তানিকারক মনজুর আহসান শিপলু জানান, কাঁচা পাট স্থানীয় বাজার থেকে ক্রয়, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানির জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত কিছু ব্যাংক ব্যবসায়ীদের ঋণ দিয়ে থাকে। নির্দিষ্ট মেয়াদে ব্যাংকের টাকা পরিশোধ করে পুনরায় ঋণ ইস্যু করা হয়। সম্প্রতি কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ব্যাংকের ঋণ গ্রহণ করে সেটি পরিশোধ করেনি। যার ফলে ব্যাংকগুলো সকল ব্যবসায়ীদের ঋণ ইস্যু বন্ধ করে দিয়েছে। এক্ষেত্রে সঠিক ব্যবসায়ীদের নির্বাচন করে ঋণ ইস্যু করতে হবে। অন্যথায় ঋণের অভাবে প্রকৃত পাট ব্যবসায়ীরা ব্যবসা থেকে বঞ্চিত হবে।