বাঘার চরাঞ্চলে দুঃসহ জীবন

সময়ের সাথে অনেক কিছু বদলে গেলেও বদলায়নি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার ৩টি ইউনিয়নে পদ্মার দুর্গম চরাঞ্চলে প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষের জীবনধারা। উন্মুক্ত বিরাণ প্রান্তরে বৈচিত্র্যহীন জীবন-যাপন করে চলেছে তারা। সেখানে নেই কোন ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নেই যোগাযোগ ব্যবস্থা, নেই ভাল হাট-বাজার, নেই চিকিত্সাকেন্দ্র, নেই বিদ্যুতের আলো। তারপরও তারা সেখানেই বাস করছে ঝড়, অতি বৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, নদী ভাঙ্গন, বন্যাকে সাথী করে। নির্বাচন এলেই প্রতিশ্রুতি আসে চর উন্নয়নের। কিন্তু উন্নয়নের ছোঁয়া কখনই লাগেনি। বাঘা উপজেলার মনি গ্রাম, পাকুড়িয়া ও গড়গড়ি এই ৩ ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা পদ্মার চরে অবস্থিত। ৩ ইউনিয়নের ভূমি অঞ্চল নিয়ে গঠিত হতে পারে আরো দুইটি ইউনিয়ন। সেখানে বাস করে প্রায় অর্ধ লক্ষ মানুষ। তারা চাষ করে চরের জমি। নিজের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রপ্তানি করে ধান, পাট, গম, আলু, টমেটো, পটল, পেঁয়াজ, রসুনসহ ডাল জাতীয় ফসল। চরাঞ্চলের মজিদ দেওয়ান, পাঞ্চু শেখ, ফজলু মাস্টার, কালু বেপারী ও রহমান মেম্বরের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাদের জীবনযাপনের গতিধারার কথা। তারা বলেন, নেতাদের ওয়াদার কোনটিই রক্ষা হয়নি। আসেনি চরবাসীর জীবনে উন্নয়ন। চরাঞ্চলের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া করার জন্য নেই ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নেই ভাল হাট-বাজার, নেই রাস্তাঘাট, নেই চিকিত্সাকেন্দ্র, নেই বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থা। বিদ্যুতের কথা, সেতো ভাবাই যায় না। চরের মজিবর মাস্টার বলেন, বাঘার পদ্মার চরে ২০০৭ সালের আগ পর্যন্ত এমন একটি সময় ছিল যখন লালচাঁন এবং পান্নার অত্যাচারে মানুষ ঘুমাতে পারতো না। তারা প্রকাশ্যে হালের বলদ, মহিষ, নারীদের গলার চেইনসহ নগদ অর্থ লুটপাট করতো। আর বাধা দিলেই মানুষ খুন। তিনি বলেন, বর্তমানে এই দুই বাহিনীর প্রধান পান্না ও লালচাঁন র্যাবের ক্রস ফায়ারে নিহত হলেও তাদের সঙ্গী-সাথীরা এখনও তত্পর। বিধায় চরবাসীরা সবসময় আতংক কাজ করে। চরাঞ্চলের বর্তমান চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, চরের মানুষের জীবনযাত্রার প্রধান সমস্যা এখন রাস্তা। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি বাড়ার পর ভোগান্তি কমে। কিন্তু এবার এখন পর্যন্ত নদীতে পানি না বাড়ায় দুর্ভোগের শেষ নেই। একই কথা বলেন সাবেক চেয়ারম্যান আজিজুল আজম। তিনি চরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য চরকে আলাদা ইউনিয়ন বানিয়ে উন্নয়নের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মানীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের দৃষ্টি কামনা করেন।