কার মিসাইলে ভূপাতিত মালয়েশীয় বিমান

মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের এমএইচ১৭ ফ্লাইটটি বৃহস্পতিবার কারা মিসাইল হামলায় ইউক্রেনে ভূপাতিত করেছে তা নিয়ে বিশ্বব্যাপী শুরু হয়েছে আলোচনা। একই সাথে উঠেছে নিন্দার ঝড়। এই ন্যাক্কারজনক কাজের দায় কেউই স্বীকার করেনি। তবে ইউক্রেন এবং রুশপন্থি বিদ্রোহীরা পরস্পরকে দায়ি করে চলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও দায়ি করেছেন রাশিয়া সমর্থিত ইউক্রেনের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের। অন্যদিকে, গতকাল রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অভিযোগের তীর উঠিয়েছেন ইউক্রেনের দিকে। এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, বিদ্রোহীদের দমন করতে ইউক্রেনের সেনা অভিযানের কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে। পূর্ব ইউক্রেনে শান্তি বজায় থাকলে এমন ঘটনা ঘটত না। অন্যদিকে ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়ার দেওয়া সারফেস টু এয়ার বাক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেই বিমানটিকে ধ্বংস করেছে বিদ্রোহীরা। যদিও ডনেটস্ক বিদ্রোহী নেতারা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের পাল্টা দাবি, অত উঁচু দিয়ে যাওয়া বিমানকে নামানোর মত ক্ষেপণাস্ত্র তাদের হাতে নেই। উল্টে ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধেই অভিযোগ করেছেন বিদ্রোহী নেতারা। প্রাথমিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা বলেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও। এই ঘটনায় রাশিয়ার বিরুদ্ধেও অভিযোগের আঙুল তুলেছে ইউক্রেন। সব মিলিয়ে ঠিক কারা এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য দায়ী তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের বিমানটি যে এলাকা দিয়ে উড়ছিল সেই উড়ান পথটিকে গত এপ্রিলেই বিপজ্জনক বলে চিহ্নিত করেছিল ইউরোপ এবং আমেরিকা। যদিও এই পথটিকে তখনও পর্যন্ত নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়নি। মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের এমএইচ ১৭ ভেঙে পড়ার পরেই ইউক্রেনের আকাশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার নেদারল্যান্ডসের রাজধানী আমস্টারডাম থেকে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর যাবার পথে ইউক্রেনের আকাশপথে বিধ্বস্ত হয় মালয়েশীয় এয়ারলাইন্সের যাত্রীবাহি বিমান এমএইচ১৭। এতে বিমানের ২৯৮ আরোহীর সবাই নিহত হয়। ধারণা করা হচ্ছে, ১০ কিলোমিটার উচু দিয়ে উড়ে যাবার সময় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে। এই ঘটনার পর বিশ্বব্যাপী বিমানযাত্রীদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে চরম আতঙ্ক। দায়ী কে: বিমানটি কার হাতে বিধ্বস্ত হয়েছে এটি এখন সবার মুখে উচ্চারিত প্রশ্ন। বিভিন্ন পক্ষ নিজ নিজ দাবির সমর্থনে তথ্যপ্রমাণ দেয়ার চেষ্টা করছে। ইউক্রেনের গোয়েন্দাদের পক্ষ থেকে একটি ভিডিও ফুটেজ ছাড়া হয়েছে যাতে দেখা যাচ্ছে চোরাই পথে একটি ক্ষেপণাস্ত্র উেক্ষপণ যন্ত্র রাশিয়ায় ফেরত নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এসময় এতে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ‘মিসিং’ ছিল। ধারণা করা হচ্ছে এই দুটি ক্ষেপণাস্ত্র বিমানটিকে ভূপাতিত করার কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল। আরেকটি ভিডিওতে দেখা গেছে এক বিদ্রোহী আকাশ থেকে পড়া খন্ডবিখন্ড বিমানের ছবি তুলছে এবং হাসতে হাসতে বলছে, কত বড় বিস্ফোরণ! এতে এই ধারণা জোরালো হচ্ছে যে রুশপন্থি বিদ্রোহীরাই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য দায়ী। যে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে এগুলো ১৫০ পাউন্ড ওজনের বিস্ফোরক বহন করতে পারে। এগুলো ৯৫ শতাংশ নিখুঁতভাবে লক্ষ্যে আঘাত করতে পারে। এগুলো ৭৫ হাজার ফুট উচুতে উড়ে গিয়ে টার্গেটে আঘাত করতে পারে। মালয়েশিয়ার বিমানটি ঘটনার সময় ৩০ হাজার ফুট উচুতে ছিল।