‘ছেলেরা একটি বিমান নামিয়েছে’
প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০১৪, ২২:৪৬
মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট এমএইচ-১৭ ভূপাতিত হওয়ার পরপরই ইউক্রেইনের নিরাপত্তা বাহিনী ইউটিউবে একটি অডিও প্রকাশ করে, যেটি রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে কয়েকজন রুশ সেনা কর্মকর্তার টেলি কথোপকথন বলে দাবি করা হয়। রুশ ভাষার ওই কথোপকথনের ইংরেজি তর্জমার ভিত্তিতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি। ওই কথোপকথন থেকে ধারণা হয়, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রেই বিধ্বস্ত হয় মালয়েশীয় বিমানটি। তবে এসব ফোনালাপের সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি বলেও বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রথম ফোনালাপ
এ সময় দুটি পুরুষ কণ্ঠ শোনা যায়, যার মধ্যে প্রথমটি বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা ইগর বেজলার এবং দ্বিতীয়টি রুশ সেনা গোয়েন্দা কর্মকর্তা কর্নেল ভ্যাসিলি গেরানিনের বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিবিসির প্রতিবেদনে।
বেজলার বলেন, খনির লোকেরা (বিচ্ছিন্নতাবাদীদের একটি গ্রুপের ছদ্মনাম) এই মাত্র একটা বিমান নামিয়েছে। ওটা ইয়ানাকিয়েভোর পেছনে বিধ্বস্ত হয়েছে। গেরানিন বলেন, পাইলট? পাইলটরা কোথায়?
বেজলার বলেন, খুঁজে দেখা হচ্ছে। বিমানের ছবিও তোলা হচ্ছে। ওখান খালি ধোঁয়া।
গেরানিন বলেন, কতোক্ষণ আগের ঘটনা?
বেজলার বলেন, প্রায় ৩০ মিনিট আগে।
দ্বিতীয় ফোনালাপ
এ পর্যায়ে দুটি পুরুষকণ্ঠ শোনা যায়, যার প্রথমজনকে ডাকা হচ্ছিল ‘গ্রিক’ নামে। আর দ্বিতীয় ব্যক্তিকে ‘মেজর’ সম্বোধন করা হচ্ছিল।
গ্রিক বলেন, বলুন, মেজর।
মেজর বলেন, চেরনুখিনোর ছেলেরা বিমানটা নামাতে পেরেছে।
গ্রিক বলেন, কারা নামিয়েছে? - এরপর মেজরকে বলতে শোনা যায়, চেরনুখিনো রোডব্লক থেকে করেছে। চেরনুখিনোতে আছে কসাকরা।
গ্রিক বলেন, হ্যাঁ, মেজর।
মেজর বলেন, পেরত্রোপাভলোভস্কায়া কয়লা খনির কাছে আকাশেই বিমানটি অর্ধেক ভেঙে পড়েছে। প্রথম লাশটা পেয়েছি। লোকটা বেসামরিক।
গ্রিক: ওখানে তাহলে কী পাওয়া গেল?
মেজর: আসলে ওটা শতভাগ বেসামরিক বিমান
গ্রিক: অনেক লোক ছিল?
মেজর: ধ্বংসাবশেষ খোলা জায়গায় পড়েছে।
গ্রিক: কি ধরনের বিমান ওটা?
মেজর: আমি এখনো জানি না। আমি মূল ধ্বংসাবশেষের কাছে ছিলাম না। হতাহতরা কোথায় পড়েছে শুধু সেটাই প্রথমে দেখেছি। ওখানে বিমানের ভেতরের অংশ, চেয়ার আর লাশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
গ্রিক: আচ্ছা। কোনো অস্ত্রশস্ত্র?
মেজর: কিচ্ছু না। সব বেসামরিক জিনিসপত্র। কিছু ওষুধপত্র, তোয়ালে, টয়লেট পেপার- এইসব।
গ্রিক: কোনো কাগজপত্র?
মেজর: হাহ! থমসন ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া একজন ইন্দোনেশীয় ছাত্রের কাগজ পেয়েছি।
তৃতীয় ফোনালাপ
এখানে এক যোদ্ধার সঙ্গে কথা বলেছেন নিকোলাই কোজিতসিন নামের এক কসাক নেতা।
যোদ্ধা: বিমানটা স্নেঝনোয়-তোরেজ এলাকায় বিধ্বস্ত হয়েছে। বেসামরিক বিমান। পড়েছে গ্রাবোভোর কাছে। অনেক নারী আর শিশুর লাশ। কসাকরা ওখানে আছে, ওরাই সব দেখছে।
টিভিতে বলছে, ওটা ইউক্রেইনের এএন-২৬ পরিবহন বিমান। কিন্তু ওরা বলছে, বিমানের গায়ে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স লেখা ছিল। ইউক্রেইনের সীমানায় ওটা কি করতে এসেছিল?
কোজিতসিন: তার মানে হলো, ওটা গুপ্তচর পরিবহন করছিল। এভাবে ওদের এদিকে ওড়া উচিত্ হয়নি। এখানে একটা যুদ্ধ চলছে।