সুজনকে নির্যাতন চালিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করলেন এসআই জাহিদ
প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০১৪, ২২:৪৭
রাজধানীর মিরপুরে পুলিশ হেফাজতে ব্যবসায়ী মাহবুবুর রহমান সুজনের ওপর নির্যাতন চালানোর কথা স্বীকার করেছেন মিরপুর থানার গ্রেফতারকৃত এসআই জাহিদুর রহমান খান। আগ্নেয়াস্ত্রের সন্ধানের জন্য তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছিল। এতে তার মৃত্যু হবে তিনি বুঝতে পারেননি। পাঁচদিনের রিমান্ডের প্রথম দিনে গতকাল শুক্রবার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) এসব তথ্য জানান জাহিদ।
মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট ডিবি কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার সঙ্গে মিরপুর থানার ওসিসহ অন্তত তিন শীর্ষ কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার আভাস মিলেছে। এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেলে তারাও এ মামলায় ফেঁসে যাবেন।
শনিবার রাতে ঝুট ব্যবসায়ী সুজন, তার স্ত্রী মমতা, সন্তান মোশারফকে ধানমন্ডির শংকরের বাসা থেকে আটক করে মিরপুর থানায় নেয়। থানার একটি কক্ষে সুজনকে আটকে রেখে বেধড়ক পেটানো হয়। এরপর ভোরে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে নির্যাতনেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় বুধবার তাকে গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার তাকে ও গ্রেফতারকৃত সোর্স নাসিম শেখকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয় ডিবি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক নিবারণ চন্দ্র বর্মণ জানান, জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য বেরিয়ে এসেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। ঘটনার ব্যাপারে এসআই জাহিদ ও সোর্স নাসিমকে আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে সেগুলোও মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, সুজন হত্যা মামলার অপর ৬ আসামীর মধ্যে মিরপুর থানার এএসআই রাজকুমার, কনস্টেবল আনোয়ার ও রাশিদুলকে এখনও গ্রেফতার করা যায়নি। জাহিদকে গ্রেফতারের আগের দিন থেকে তারা পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেফতারে সম্ভাব্য স্থানগুলোয় অভিযান চলছে। পুলিশের সোর্স পলাশ, ফয়সাল ও খোকনকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
ডিবি সূত্র জানায়, নির্যাতন ও হত্যার দায়ে শুধু জাহিদকে অভিযুক্ত করা হলেও পুরো প্রক্রিয়ায় পুলিশের মিরপুর বিভাগের কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা ছিল। এর মধ্যে জাহিদের সঙ্গী তিন পুলিশ সদস্যকে মামলায় আসামি করা হলেও তাদের পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। বিষয়টি পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার, মিরপুর থানার ওসি, ওসি (তদন্ত) ও সেকেন্ড অফিসার ঘটনার আদ্যোপান্ত জানতেন। এমনকি সুজনের কাছে দেড় লাখ টাকা দাবির যে অভিযোগ উঠেছে, তাতে শীর্ষ দুই কর্মকর্তার ইন্ধন ছিল বলেও দাবি করেছে একটি সূত্র।
অন্যদিকে, নিহতের বড় ভাই নজরুল ইসলাম শামীম জানান, সুজনকে থানায় পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ থানায় আটক করে নেয়ার সময় সুজন সুস্থ ছিল। সুজনের ওপর পেটানোর বিষয়টি তার স্ত্রী মমতা পাশের কক্ষ থেকে চিত্কার শুনেছেন। এসময় বিষয়টি নিয়ে তারা পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনারের সাথে যোগাযোগ করলে কোন সহায়তা করেননি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন রাতেই তারা মিরপুরের ডিসি’র কাছে তার ভাইকে ছেড়ে দেয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। ডিসি মিরপুর তাদেরকে জানিয়েছিলেন যে তার ভাই একজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী। এ ব্যাপারে তার করার কিছুই নেই বলে নিহতের বড় ভাই নজরুল ইসলাম শামীম অভিযোগ করেন।