তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০১৪, ২০:০০
দ্বাদশ শ্রেণি
প্রকাশ কুমার দাস
বিভাগীয় প্রধান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরী গার্লস কলেজ, ঢাকা
প্রিয় শিক্ষার্থীবৃন্দ, আজ ২য় অধ্যায়-কমিউনিকেশন সিস্টেমস ও নেটওয়ার্কিং থেকে কয়েকটি প্রশ্নোত্তর নিয়ে আলোচনা করা হলো। তোমরা প্রতিটি লেখা সংগ্রহ করে মনোযোগ সহকারে পড়বে।
প্রশ্ন-১। ওয়াই-ফাই কী? এর সুবিধা ও অসুবিধাগুলো লিখ।
উত্তর : ওয়াই-ফাই: Wi–Fi হচ্ছে Local Area Network ওয়্যারলেস ব্যবস্থা যেখানে বহনযোগ্য কম্পিউটারের যন্ত্রপাতির সাথে সহজে ইন্টারনেট যুক্ত করা যায়। Wi–Fi এর স্ট্যান্ডার্ড হচ্ছে IEEE 802.11 (Institute of Electrical and Electronics Engineers)। IEEE 802.11 হচ্ছে একটি ওয়্যারলেস বা তারবিহীন LAN স্ট্যান্ডার্ড। এটি মূলত ল্যাপটপ পিসির সাথে ডেস্কটপ পিসির যোগাযোগ ঘটিয়ে নেটওয়ার্ক স্থাপন করে। এ পদ্ধতিতে উচ্চ ক্ষমতার ট্রান্সমিটার ব্যবহূত হয় এবং সেকেণ্ডে ২.৫ বার হপ সাধিত হয়। গত কয়েক বছর ধরে Wi–Fi প্রচুর জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। প্রথমে যোগাযোগ ব্যবস্থা বৃদ্ধির জন্য বিনামূল্যে Wi–Fi সংযোগ দিলেও পরবর্তীতে মাসিক চাাঁদার বিনিময়ে সার্ভিস দিয়ে আসছে।
Wireless Fidelity শব্দ দুটি থেকে Wi–Fi এর উত্পত্তি। Wi–Fi একটি ওয়্যারলেস প্রযুক্তি যা সেলফোনের মতো কাজ করে। পার্সোনাল কম্পিউটার, ভিডিও গেইম, স্মার্ট ফোন, ডিজিটাল অডিও প্লেয়ার ইন্টারনেটের সাথে Wi–Fi যুক্ত করা যায়। একটি একক পয়েন্টে প্রায় ২০ মিটারের সীমানার মধ্যে ইনডোর হিসেবে ব্যবহার করা যায় যেখানে Wi–Fi আউটডোরে অনেক বেশি সীমানার মধ্যে অ্যাকসেস করতে পারে।
বর্তমানে ৯০০ মিলিয়নের বেশি লোক Wi–Fi ব্যবহার করছে। সাধারণত সকল ল্যাপটপ, পেরিফেরাল ডিভাইস, প্রিন্টার, স্মার্ট ফোন, এমপি থ্রী প্লেয়ার, ভিডিও গেইম কনসোল এবং ব্যক্তিগত কম্পিউটারে Wi–Fi ব্যবহার করা যায়। পরস্পর সংযুক্ত ইন্টারনেটে প্রবেশ বিন্দু বা এক্সেস পয়েন্টগুলোকে “হটস্পট” বলে। একটি হটস্পট কয়েকটি কক্ষ নিয়ে হতে পারে বা কয়েক মাইল বিস্তৃত হতে পারে। বিশ্বের যোকোনো স্থান হতে যে কেউ Wi–Fi ব্যবহার করতে পারে।
Wi-Fi এর সুবিধা:
১.এটি সম্পূর্ণভাবে তারবিহীন নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা।
২. এর সাহায্যে ইন্টারনেট অ্যাকসেস করা যায়।
৩. LAN ব্যবহার করে হোটেল, ক্যাফে, বিশ্ববিদ্যালয়, এয়ারপোর্ট ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যবহার করা যায়।
৪. ডিভাইসের মূল্য দিন দিন কমে যাচ্ছে।
৫. Wi-Fi 802.11 স্ট্যান্ডার্ডে ভালো ফ্রিকুয়েন্সি পাওয়া যায়।
৬. Wi-Fi কার্ড ব্যবহার করে বাধামুক্তভাবে একই সাথে কথা বলা যায়।
৭. কোন ক্যাবল ব্যবহার করা হয় না বলে Wi-Fi প্রযুক্তি ব্যবহার করা সহজ।
৮. কোন লাইসেন্স বা কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের প্রয়োজন পড়ে না।
Wi-Fi এর অসুবিধা:
১. এর ডেটা পারাপারের গতি মধ্যমানের।
২. বিস্তৃত এলাকা ব্যাপী ডেটা পারাপার করা যায় না।
৩. Wi-Fi 802.11 স্ট্যান্ডার্ডে ইনডোরে প্রায় ৬০- ৯০ মিটার দূরত্বে এবং আউটডোরে প্রায় ৩০০ মিটার দূরত্বে ডেটা পারাপার করা যায়।
৪. নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল।
৫. বিদ্যুত্ খরচ অন্যান্য স্ট্যান্ডার্ডের তুলনায় বেশি।
৬. অন্যান্য ডিভাইস কর্তৃক সিগন্যাল জ্যামের সৃষ্টি হয়।