‘স্কুলটি কি রক্ষা করা যেত না?’
গোলাম মোস্তফা আনছারী, কাউনিয়া (রংপুর সংবাদদাতা)
প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০১৪, ২১:৩৫
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার ব-দ্বীপ নামে পরিচিত বালাপাড়া ইউনিয়নের ঢুষমারা চরের একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীনের পথে। এজন্য কর্তৃপক্ষের উদাসিনতাকে দায়ী করেছেন চরের লোকজন। তাদের মতে, নদী ভাঙনরোধে সময়মত পদক্ষেপ নিলে বিদ্যালয়টি কি রক্ষা করা যেত না?
ঢুষমারা চরে গিয়ে দেখা যায়, চরের কোমলমতি ছেলে-মেয়ের শিক্ষা অর্জনের একমাত্র অবলম্বন এই স্কুলটির দুইতলা ভবনটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এর আগে এলাকাবাসী প্রশাসনের কাছে বার বার বলা সত্ত্বেও ভাঙনরোধে সরকারি বা বেসরকারিভাবে কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। বিদ্যালয়ের সভাপতি ঢুষমারা গ্রামের নজরুল ইসলাম জানান, স্কুলটি ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই থেকে চরের মানুষের মাঝে শিক্ষা বিস্তারের একমাত্র ভরসা এই স্কুলটি। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বিদ্যালয়টির একতলা ভবন নির্মিত হয় এবং ২০০৯-১০ অর্থ বছরে দ্বিতল ভবনের কাজ সম্পন্ন হয়। প্রায় ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে অথচ কর্তৃপক্ষকে বারবার বলার পরও এটি রক্ষায় কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। একই গ্রামের তাজরুল ইসলাম ও শাহ আলম জানান বিগত সময়ে এই তিস্তা নদীতে অপর একটি বিদ্যালয় ভবন বিলীন হয়ে গেছে। প্রশাসন যদি ভাঙনরোধে সামান্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতো তাহলে এই ভবনটি হয়তো বাঁচানো যেত।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল ইসলাম মুকুল জানান, ভাঙনের বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি। উপজেলা প্রকৌশলী মজিবর রহমান বলেন, এ ব্যাপারে তাদের কিছুই করার নেই। উপজেলা শিক্ষা অফিসার গোলাম আসাদুজ্জামান চৌধুরী জানান, তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল মোতালেব সরকার বলেন, ভবনটি বর্তমানে যে অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে তাতে আর কিছুই করার নেই। অর্থাত্ এখন অসহায়ভাবে বিদ্যালয়টির নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়া দেখা ছাড়া কারোরই কিছু করার নেই। তবে চরবাসীর প্রশ্ন- এখন কারও কিছু করার নেই, আগে কি ছিল না?