অভিজাত মলে কেনাকাটার ধুম

পাঁচ বছর আগে যাত্রা শুরু করে ইনফিনিটি মেগা মল। পুরো মল জুড়ে আছে নারী-পুরুষ ও শিশুদের পছন্দের সব ধরনের পণ্যসামগ্রী। শনিবার বিকালে বসুন্ধরা শপিং মলের ইনফিনিটি মেগা মল ঘুরে দেখা যায় ঈদের কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতা সাধারণের উপচে পড়া ভিড়। ক্রেতাদের চাহিদার প্রেক্ষিতে রাজধানীতে এক এক করে চালু হয়েছে মোট ৫টি আউটলেট। উত্তরা, যমুনা ফিউচার পার্ক, ওয়ারি, বেইলী রোড, মোহাম্মদপুর তাজমহল রোড ও বসুন্ধরা সিটিতে রয়েছে এর শো-রুম। বেশ ছিমছাম ভাবে সাজানো গোছানো ইনফিনিটি মেগা মল। ছেলেদের পোশাক, নারীদের ও শিশুদের পোশাক সাজানো আলাদা আলাদাভাবে। নারীদের থ্রিপিস, সিঙ্গেল কামিজ, টপস, কসমেটিক, অর্নামেন্ট, স্যান্ডেল ও সুজ। শিশুদের পোশাকের মধ্যে রয়েছে—ফ্রক, সালোয়ার কামিজ, জিন্স প্যান্ট, গ্যাভার্ডিন প্যান্ট, টপস, জুতা, স্যান্ডেল। পুরুষদের রয়েছে, লং পাঞ্জাবি, শর্ট পাঞ্জাবি, শেরওয়ানি পাঞ্জাবি, টি-শার্ট, ফর্মাল শার্ট, ক্যাজুয়াল শার্ট, টাই, জিন্স প্যান্ট, গ্যাভাডিন প্যান্ট, শটস, আন্ডার গার্মেন্টস ইত্যাদি। আরো আছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পারফিউম, ট্রাভেল ব্যাগ, হ্যান্ড ব্যাগ, ট্রলি ব্যাগ, কসমেটিক, বেল্ট, বিদেশি জিন্স, টি-শার্ট, সুজ। ধানমন্ডি থেকে আসা সাদিয়া ও অর্ণব বলেন, এখানে দাম বা কাপড়ের গুণগত দিক নিয়ে ভাবতে হয় না। শুধু পছন্দ হলেই সহজে কেনা যায়, তাই ইনফিনিটিতে শপিং করতে আসা। অর্নব বলেন, আমরা পরিবারের প্রায় সকলের শপিং এখান থেকেই নিয়মিত করে থাকি। ইনফিনিটি’র বসুন্ধরা শাখার ম্যানেজার মো. ওবায়দুল আনোয়ার খান বলেন, ইনফিনিটি পণ্যসামগ্রীর ৬০ ভাগ তৈরি হয় দেশে; বাকি ৪০ ভাগ আনা হয় বিদেশ থেকে। বিদেশি বড় বড় ব্র্যান্ডের পণ্য এখানে পাওয়া যায়। বিদেশি পণ্যের সিংহভাগ আসে থাইল্যান্ড, চীন, কোরিয়া ও ভারত থেকে। তিনি বলেন, পাঞ্জাবি ও শিশুদের পোশাকের মধ্যে দেশীয় ব্র্যান্ডগুলোর শীর্ষে থাকবে ইনফিনিটি। বিদেশি পণ্য আমদানির কারণে দেশীয় পণ্য বাজারজাতকরণে হুমকির মুখে পড়ছে কিনা জানতে চাইলে ওবায়দুল বলেন, ক্রেতারা এখন অনেক সচেতন। তারা কিছু পণ্য দেশিটাই ব্যবহার করেন; আর কিছু পণ্য বিদেশি ব্যবহার করেন। ক্রেতারা ভালোমন্দ যাচাই করতে পারেন। পণ্যের কোয়ালিটি ভালো হলে সেটা বাজারজাতকরণে সমস্যা হয় না। ১৫ রমজানের আগে বেশি বেচাকেনা হয় শিশু ও নারীদের পণ্যসামগ্রী এবং ১৫ রমজানের পর বেশি হয় পুরুষদের পণ্যসামগ্রী। এবার গরম ও বর্ষায় ঈদ হওয়ায় আমরা আরামদায়ক কাপড়ের ওপর প্রাধান্য দিয়েছি। আর উজ্জ্বল সবগুলো রংগুলোর পাশাপাশি চলছে হাল্কা রংগুলোও। শিশুদের টি-শার্টের দাম পড়বে ২৫০ টাকা থেকে ১২৫০টাকা পর্যন্ত। পলো-শার্টের দাম পড়বে ৪৫০ টাকা থেকে ১৬৫০টাকা পর্যন্ত। ফ্রকের দাম পড়বে ৪৫০ টাকা থেকে ১২৫০ টাকা পর্যন্ত। সালোয়ার কামিজের দাম পড়বে ১২৫০ টাকা থেকে ৪৫৫০ টাকা। জিন্স প্যান্ট এর দাম পড়বে ৯৫০ টাকা থেকে ১৮৫০ টাকা। গ্যাভাডিন প্যান্টের দাম পড়বে ৩৫০ টাকা থেকে ১২৫০ টাকা পর্যন্ত। স্যান্ডেল ৪৫০টাকা থেকে ২২৫০ টাকা পর্যন্ত। নারীদের পোশাকের দাম পড়বে— সালোয়ার কামিজ ১৬৫০ টাকা থেকে ৯ হাজার ৫৫০ টাকা, জিন্স প্যান্ট ৯৫০ টাকা থেকে ২২৫০ টাকা, গ্যাভাডিন প্যান্ট ৭৫০ টাকা থেকে ১৬৫০ টাকা। টপস এর দাম পড়বে ৭৫০ টাকা থেকে ১৯৫০ টাকা, সিঙ্গেল কামিজের দাম পড়বে ৭৫০ টাকা থেকে ২২৫০ টাকা। শ্লিপার স্যান্ডেলের দাম পড়বে ৬৫০ টাকা থেকে ১৭৫০ টাকা, হিল স্যান্ডেলের দাম পড়বে ৭৫০ টাকা থেকে ২২৫০ টাকা। ছেলেদের লং পাঞ্জাবির দাম পড়বে ২২৫০ টাকা থেকে ১১ হাজার ৫৫০ টাকা। শর্ট পাঞ্জাবির ১৪৫০ টাকা থেকে ২৭৫০ টাকা, শেরওয়ানি পাঞ্জাবি ৬৫৫০ টাকা থেকে ২২ হাজার ৫৫০ টাকা। ফুল হাতের শার্টের দাম পড়বে ১১৯০ টাকা থেকে ৪ হাজার ৮৫০ টাকা। হাফ হাতের শার্ট ১০৫০ টাকা থেকে ২৮৫০ টাকা। জিন্স প্যান্ট ১৪৯০ টাকা থেকে ৩৫৫০ টাকা, গ্যাভাডিন প্যান্ট ১২৯০ টাকা থেকে ৩৪৫০ টাকা, ফরমাল প্যান্ট ১৪৫০ টাকা থেকে ১৯৯০ টাকা। টি-শার্ট ৬৫০ টাকা থেকে ১৯৫০ টাকা, পলো-শার্টের দাম পড়বে ৭৫০ টাকা থেকে ৪৫৫০ টাকা। জুতা ২২৫০ টাকা থেকে ৬৫৫০ টাকা, স্যান্ডেল ১২৫০ টাকা থেকে ৩৮৫০ টাকা।