সড়ক দুর্ঘটনায় ছয় মাসে নিহত ৩৭৭০

যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদন চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত গত ৬ মাসে দেশে ৩ হাজার ২৫৬টি সড়ক দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এসব দুর্ঘটনায় ৩ হাজার ৭৭০ জন যাত্রী, চালক ও পরিবহন শ্রমিক নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক মতবিনিময় সভায় সড়ক দুর্ঘটনা সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। সংগঠনটি বলেছে, দেশের জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক সংবাদপত্র ও টেলিভিশন চ্যানেল সমূহে প্রচারিত সড়ক দুর্ঘটনার সংবাদ পর্যবেক্ষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। সংগঠনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত দেশে সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে ৩ হাজার ২৫৬টি। নিহত হয়েছেন ৩ হাজার ৭৭০ জন। আহত হয়েছেন ১০ হাজার ২৭৮ জন। এর মধ্যে হাত-পা বা অন্য কোনো অঙ্গ হারিয়ে চিরতরে পঙ্গ হয়েছেন ৯২৩ জন। সড়ক দুর্ঘটনায় ৮১২টি বাস, ১ হাজার ২২টি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ৩৪২টি হিউম্যান হলার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া ১৩৫টি প্রাইভেটকার-জিপ-মাইক্রোবাস, ৫১৪টি অটোরিকশা, ৮৪৯টি মোটরসাইকেল, ৩১৫টি ব্যাটারিচালিত রিকশা, ৫১৩টি নসিমন-করিমন দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্ঘটনায় শিকার হয়েছেন ৩৬১ ছাত্র, ৭০ শিক্ষক, ২৬ সাংবাদিক, ২৭ ডাক্তার, ১৭ আইনজীবী, ১৭ ইঞ্জিনিয়ার ও ১৪৮ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। এ ছাড়া ১০৮ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ৭৭ সরকারি কর্মকর্তা, ১ হাজার ১৫৯ নারী ও ৬৯৮ শিশু এ সব দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। দুর্ঘটনায় বেশিরভাগ পরিবারই একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটিকে হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে। এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে মোট এক হাজার। দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে সংগঠনটির দাবি- ফুটপাত দখল, ওভারটেকিং-ওভারস্পিড-ওভারলোড, হেলপার দিয়ে গাড়ি চালানো, রাস্তাঘাটের ত্রুটি, গাড়ির ত্রুটি যাত্রীদের অসতর্কতা, চালকের অদক্ষতা, মোবাইলে কথা বলে ড্রাইভিং করা, ত্রুটিপূর্ণ ট্রাফিক আইন, গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ক্রসিংয়ে জেব্রা ক্রসিং না থাকা এবং তা না মানা ইত্যাদি। দুর্ঘটনা রোধে ট্রাফিক আইন ও মোটরযান আইন সম্পর্কে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী, মসজিদ-মন্দির-গির্জা এবং গণমাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চালানোর পরামর্শ দিয়েছে সংগঠনটি। এ ছাড়া জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে হাট-বাজার অপসারণ, ফুটপাত দখলমুক্ত করা, ট্রাফিক চিহ্ন স্থাপন ও চালকদের প্রফেশনাল ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করার পরামর্শ দিয়েছে যাত্রী সমিতি। এসময়ে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী, অর্থ সম্পাদক কাজী মাহমুদুল হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রুমি, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ড. শামীমুজ্জামান প্রমুখ।