নড়াইলে ১০ ব্যাংক ম্যানেজারসহ ১৩ জনের কাছে চাঁদা দাবি
প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০১৪, ২১:৫৫
নড়াইলের অগ্রণী ব্যাংকের জিএম, সোনালী ব্যাংকের এজিএম, সিনিয়র প্রিন্সিপ্যাল অফিসারসহ সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও কৃষিব্যাংকের ১০টি শাখার ম্যানেজারসহ ১৩ জন কর্মকর্তার কাছে চরমপন্থি ‘জনযুদ্ধ’ পরিচয়ে ১৮ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া এক পল্লী চিকিত্সকের কাছেও চাঁদা দাবি করা হয়। ব্যাংক কর্মকর্তাদের কাছে বিভিন্ন সময়ে মোবাইল ফোনে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা করে চাঁদা দাবি করা হয়েছে। এসব ঘটনায় নড়াইলের চারটি থানায় ৮টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ ঘটনার পরে নড়াইলে চরম আতংক বিরাজ করছে। ব্যাংকের কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের লোকজন অজানা আশংকায় দিন কাটাচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যাংক ম্যানেজার জানান, গত বুধবার দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে মোবাইল ফোনের ০১৯৫৭-৭৪১৫৮২ নম্বর থেকে বিপ্ল¬ব নামে একজন নিজেকে পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টি জনযুদ্ধের নেতা পরিচয় দিয়ে তার কাছে ফোন করে। বিপ্লব নামের ওই ব্যক্তি জানান, তাদের অনেক নেতা ভারত থেকে বাংলাদেশে আসার পথে পুলিশের কাছে ধরা পড়েছে এবং অনেক নেতা অসুস্থ। তাদের মুক্তি এবং চিকিত্সার জন্য ৩০ লাখ টাকা প্রয়োজন। ১৫ লাখ টাকা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। আরো ১৫ লাখ টাকা প্রয়োজন। যত দ্রুত পারিস, এই টাকা না দিলে হাত কেটে নেয়া হবে। ‘কিভাবে তোর পরিবার চলে’ একথা বলে দেখে নেয়ার হুমকি দিয়ে জনযুদ্ধের পরিচয় দেয়া ওই ব্যক্তি আরো বলেন, ‘আমার নেতার নাম মহিউদ্দিন’। এ বিষয়টি জানাজানি হলে নড়াইলে চরম আতংক বিরাজ করছে। ব্যাংকের কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের লোকজন অজানা আশংকায় দিন কাটাচ্ছেন। নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ রেজাউল করিম এ বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, জনযুদ্ধের নামে বিভিন্ন ব্যাংক কর্মকর্তাদের কাছে মোবাইল ফোনে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা করে চাঁদা দাবি করা হয়েছে। তিনি দাবি করে বলেন, এ অঞ্চলে এ ধরনের কোন সংগঠনের অস্তিত্ব আছে বলে আমার জানা নেই। তবে যাদের নামে চাঁদা দাবি করেছে, তাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।