মংলায় নিলামে উঠছে দুই হাজার রিকন্ডিশন গাড়ি

আমদানি শর্ত ভঙ্গসহ নানা অনিয়মের কারণে আমদানিকৃত প্রায় দুই সহস্রাধিক রিকন্ডিশন গাড়ি ছাড় করাতে পারেননি আমদানিকারকরা। ফলে গাড়িগুলো পড়ে আছে বন্দরের সংরক্ষিত ইয়ার্ডে। দীর্ঘদিন ধরে অযত্ন-অবহেলায় থেকে নষ্ট হচ্ছে গাড়িগুলো। এ অবস্থায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ গাড়িগুলো নিলামে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি মাসের ২৩ তারিখে নিলাম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নিলামে উঠানোর জন্য ক্যাটালগ তৈরিসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করা হচ্ছে। মংলা কাস্টমস হাউজ ও মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সূত্রে এ খবর জানা গেছে। সূত্র জানায়, আমদানি শর্ত ভঙ্গ করে এক শ্রেণীর আমদানিকারক গাড়ি আমদানি করে যার কারণে তাদের গাড়ি খালাসের অনুমতি দেয়া হয়নি। এছাড়া কিছু আমদানিকারক দীর্ঘদিন তাদের গাড়ি এ বন্দর দিয়ে খালাস করেনি। অপরদিকে মূল্য নির্ধারণ জটিলতার কারণে অনেক গাড়ি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে খালাসের ছাড়পত্র পায়নি। সব মিলিয়ে ২০০৯ সাল থেকে আমদানি করা ২১৩৬টি গাড়ি মংলা বন্দরের পড়ে আছে। মংলা কাস্টমস হাউজের যুগ্ম-কমিশনার ম. সফিউজ্জামান জানান, আমদানি শর্ত ভঙ্গ করে গাড়ি আমদানি সম্পূর্ণ বেআইনি। এছাড়া আমদানিকৃত গাড়ির দাম পরিবর্তন হওয়ায় অনেক আমদানিকারক তাদের গাড়ি ছাড় করেননি। যার কারণে এসব গাড়ি নিলামে বিক্রির ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। নিলামে গাড়ি বিক্রির অর্থ সরকারের রাজস্ব খাতে জমা হবে। এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গাড়ি আমদানিকারকরা। গাড়ি আমদানিকারক সিনওয়া অটোমোবাইলসের মালিক মো. রফিক বলেন, আমদানিকৃত গাড়ির উপর সরকার বিভিন্ন সময় শুল্ক পরিবর্তন করায় আমদানিকৃত গাড়ির দাম বৃদ্ধি ও নতুন-পুরাতন গাড়ির জন্য একই শুল্ক ধার্য করায় দামের বৈষম্যের কারণে তারা গাড়ি বিক্রি করতে পারছেন না। এ জন্য তারা গাড়ি ছাড় করাতে পারেননি। তিনি আরো বলেন, আমদানি নীতিতে পাঁচ বছরের অধিক পুরাতন গাড়ি ছাড়করণের ক্ষেত্রে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন দেয়ার বিধান থাকলেও গত আড়াই বছর ধরে সে প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় গাড়ি ছাড় করতে না পারায় বর্তমানে মংলা বন্দরে গাড়ির জট বেড়েছে। তবে তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, একসঙ্গে এত গাড়ি নিলামে বিক্রি করা হলে মংলা বন্দরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। মেসার্স হক’স বের মালিক আব্দুল হক বলেন, মংলা বন্দর দিয়ে আমদানি করা গাড়ি ছাড় করানোর ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান সরেজমিনে বন্দর পরিদর্শন করে অর্থমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এরপর কিভাবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ গাড়িগুলো নিলামে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে তা আমাদের বোধগম্য নয়।