সৌন্দর্যের রানী শারাপোভা
প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০১৪, ২০:৩৮
মারিয়া শারাপোভা। নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেবার মতো কোনো নাম নয়। ফের আলোচনায় এসেছেন তিনি। চলতি বছরের ১৬ জুলাই ইএসপিএনের বর্ষসেরা মহিলা টেনিস খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন। বর্তমান প্রজন্মের মোটামুটি সবাই তাকে বেশ ভালোভাবেই চেনেন। সেটা হোক ক্রীড়াপ্রেমী কিংবা একেবারেই আনাড়ী খেলা বিষয়ে। মারিয়া শারাপোভা টেনিস তারকা হিসেবেই পরিচিত মানুষের কাছে। তবে বর্তমানে মডেলিংসহ বিভিন্ন কাজে সুনাম অর্জন করেছেন বেশ ভালোভাবেই। ১৯৮৭ সালের ১৯ এপ্রিল রাশিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বাবা উইরি শারাপভ এবং মা ইয়েলিনা শারাপোভা।
২০০৪ সালে ১৭ বছর বয়সে তিনি পেশাদারি টেনিসে অংশগ্রহণ করেন এবং ২ বারের চ্যাম্পিয়ন নম্বর ১ সেরেনা উইলিয়ামসকে উইম্বলডন চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে হারিয়ে প্রথম গ্র্যান্ডস্ল্যাম সিঙ্গেল জিতেন। এরপর ২০০৬ সালে ইউএস ওপেন, ২০০৮ সালে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন এবং ২০১২ সালে ফ্রেঞ্চ ওপেন জিতেন।
মাত্র ৪ বছর বয়সে শারাপোভার বাবার বন্ধু একক টেনিসে দুইটি গ্র্যান্ডস্র্যাম ও একটি অলিম্পিক স্বর্ণপদক জয়ী সাবেক বিশ্বের ১নং খেলোয়াড় ইয়েভগেনি কাফেলনিকভের বাবা আলেকজান্ডার কাফেলনিকভের কাছ থেকে প্রথম টেনিস খেলার ব্যাট উপহার পান, যা দিয়ে তিনি নিয়মিত তার বাবার সঙ্গে স্থানীয় কোর্টে প্র্যাকটিস করেন।
শারাপোভা নামকরা রাশিয়ান প্রশিক্ষক ইউরি ইউতকিনের কাছে প্রথম টেনিস পাঠ গ্রহণ করেন, সে তার খেলা দেখে রীতিমতো বিস্মিত হয়ে যান। ৬ বছর বয়সে শারাপোভা মার্টিনা নাভ্রাতিলোভার চালিত মস্কোর টেনিস ক্লিনিকে উপস্থিত হন যেখান থেকে তারা তাকে নিক বালেত্তেইরি টেনিস একাডেমিতে পাঠানোর সম্পূর্ণ ব্যবস্থা করেন। উল্লেখ্য, এই একাডেমি থেকে বিশ্ব জয় করা খেলোয়াড় আন্দ্রে আগাসি, মনিকা সেলেস, আনা কুর্নিকোভার মত খেলোয়াড় বেরিয়ে এসেছিল।
চরম অর্থাভাবের কারণে নানাদিক থেকে ধার-কর্জ করে ১৯৯৪ সালে ইউরি তার মেয়েকে নিয়ে ফ্লোরিডার পথে পা বাড়ান। যখন ফ্লোরিডায় পৌঁছেন তার কাছে ছিল মাত্র ৭০০ ইউরো, মেয়ের ট্রেনিং পূর্ণ করার জন্য থালা-ধোওয়ার কাজসহ বিভিন্ন রকম স্বল্প বেতনের কাজ করেন তিনি। ১৩ বছর বয়সে নভেম্বর ২০০০-এ এডিহের ইন্টারন্যাশনাল জুনিয়র টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেন। যার জন্য ওই বছর সেরা উঠতি তারকা হিসাবে স্পেশাল অ্যাওয়ার্ড জিতেন। ২০০১ সালে তার জন্মদিনে তিনি প্রথম ডব্লিউটিএ টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করেন।