কাজ না করেই ৫১ লাখ টাকা ভাগাভাগির অভিযোগ
আব্দুল হামিদ, বটিয়াঘাটা (খুলনা) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০১৪, ২০:৫০
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) প্রকল্পের নামে দলীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে হরিলুট চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ৫১ লাখ টাকার কাজ সম্পন্ন না করেই প্রকল্প কর্মকর্তার সাথে যোগসাজসে ৩০ জুনের আগেই কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে বড় অংকের টাকা ভাগাভাগি করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। গা বাঁচাতে ১০ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা।
উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তার নিকট প্রকল্পের তালিকা চাইলে তিনি বিভিন্ন টালবহনার পর হাতে লেখা একটি তালিকা প্রদান করেন। জানা গেছে, জাতীয় সংসদ সদস্যের মাধ্যমে সরকার ২০১৩-১৪ অর্থবছরে মোট ১০টি প্রকল্পে ২৫ লাখ এবং উপজেলা পরিষদে ১৩টি প্রকল্পে ২৬ লাখ টাকা প্রদান করে।
প্রদত্ত টাকা প্রজেক্টের মাধ্যমে ৭টি ইউনিয়নে ভাগ করে দেয়া হয়। জাতীয় সংসদ সদস্য প্রদত্ত প্রজেক্টের কাজে প্রজেক্ট চেয়ারম্যানরা দলীয় লোক হওয়ায় যেনতেন ভাবে কাজ সমাপ্ত দেখিয়ে বাকী অর্থ আত্মসাত করার অভিযোগ রয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে প্রকল্প কর্মকর্তা আনিছুর রহমানের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রজেক্ট গুলোতে কাজ হয়েছে। কোন কাজ যথাযথ ভাবে না হলে নির্বাহী কর্মকর্তা সে প্রকল্পের বিল ভাউচারে স্বাক্ষর প্রদান করেননি। তাছাড়া যে সব প্রজেক্টে কাজ যথাযথ ভাবে সম্পন্ন হয়নি সে সব প্রজেক্টের বিল ফেরত্ দেয়া হবে। তিনি বলেন ১০ লাখ টাকা কাজ না হওয়ায় ফেরত্ দেয়া হচ্ছে। অধিকাংশ কাজ না করেই প্রকল্প কর্মকর্তার সাথে যোগসাজসে বিল উত্তোলন করে নেয়া হয়েছে।
সংসদ সদস্য পঞ্চানন বিশ্বাস বলেন, ইউএনওকে বলেছিলাম কাজ গুলো যথাযথ ভাবে তদারকি করে সম্পন্নের জন্য। আমি টাকা এনে দেই পুরো কাজের জন্য। কিন্তু কাজগুলো না করে টাকা যদি ফেরত যায় সেখানে কিছুই করার নেই।
উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফুল আলম খান বলেন, কয়েকটি প্রজেক্টে কোন কাজ হয়নি। অথচ প্রকল্প কর্মকর্তা এবং ইউএনও আমার কোন প্রকার স্বাক্ষর ছাড়াই বিল দিয়েছেন।
ইউএনও শান্তি মনি চাকমা বলেন, কোন কোন প্রজেক্টে ৫ ভাগ আবার কোন কোন প্রজেক্টে ৪০ ভাগ পর্যন্ত কাজ হয়েছে।