ঈদের কেনাকাটা
সময়ের ব্যবধানে সালোয়ার কামিজেও এসেছে পরিবর্তন
প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০১৪, ২১:৩৭
সময়ের ব্যবধানে নারীদের সালোয়ার-কামিজেও এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। সালোয়ার-কামিজের প্রচলন পাকিস্তানে শুরু হলেও এখন তা বাঙালিদের দখলে। বর্তমানে বাঙালি তরুণীদেন প্রধান পোশাক সালোয়ার-কামিজ। আশির দশক থেকে মা-খালারাও এই পোশাক পড়তে শুরু করেন। পিছিয়ে নেই শিশুরাও। মায়ের মতো সালোয়ার-কামিজ পড়তে তারাও দারুণ আগ্রহী।
সালোয়ার-কামিজের পাশাপাশি চলছে জিন্স, ফতুয়া, কোর্তা কিংবা টপস। আর এসব পোশাকের চাহিদা মেটাতে এগিয়ে এসেছে দেশীয় বুটিক হাউজসহ বেশকিছু ছোট ব্র্যান্ড। নারীদের পোশাকের চাহিদা মেটাতে ভারত-পাকিস্তান থেকেও আসছে এসব পোশাক।
ঈদে সালোয়ার-কামিজের নতুন নতুন ডিজাইনের দিকে নজর থাকে নারীদের। সে ক্ষেত্রে শুধু বুটিক হাউজের সালোয়ার-কামিজ নয়; দেশীয় সালোয়ার-কামিজের পাশাপাশি ভারতীয় হিন্দি সিরিয়ালের নায়িকাদের পরিধেয় পোশাক ও মুম্বাই সিনেমার নায়িকাদের পোশাকের ট্রেন্ড বর্তমান যুগে ব্যাপক।
চলছে লং কামিজের পাশাপাশি পাকিস্তানি কোর্তা, এটি দেখতে ফ্রকের মতো। কোর্তার কোমর থেকে উপরের দিকে দেখতে কামিজের মতো হলেও নিচের দিকে ঘেরসহ লম্বা হাঁটুর অনেকখানি নিচ পর্যন্ত নামানো। সঙ্গে থাকছে ওড়নাসহ ল্যাগিন্স, কিংবা চুড়িদার পায়জামা ও চোস। তাছাড়া সিরিয়ালের নামে ‘পাখি’ ড্রেসও চলছে ভালোই। এসব পোশাকে ডিজাইনে খুব বেশি হেরফের না থাকলেও শুধু সিরিয়ালের জনপ্রিয়তায় প্রভাবিত হয়ে তরুণীরা ছুটছেন এসব পোশাক কিনতে।
এসব বিষয় মাথায় রেখে দেশীয় বুটিক হাউজগুলো থেকে শুরু করে প্রতিটি শপিংমলের মূল আকর্ষণ এখন লং কামিজ ও গোল ফ্রকটাইপের থ্রি-পিসের দিকে। সময়ের ব্যবধানে সালোয়ার-কামিজই ভিন্ন ভিন্ন ডিজাইনে আবির্ভূত হলেও পোশাকটির আদি নামের তেমন কোন পরিবর্তন হয়নি। সালোয়ার কামিজ নামেই এর খ্যাতি বিশ্বজোড়া।
প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে পড়ুয়া যুথীকা যুথী বলেন, বেশ কয়েকটা ড্রেস পছন্দ হয়েছে, কিন্তু দামে বনছে না। একটা কোর্তা কিনেছি। এর দামও একেক মার্কেটে একেক রকম। হয়তো কাপড়ের মানে পার্থক্য আছে। একেকটি থ্রি-পিসের দাম সর্বনিম্ন ৩ হাজার টাকা থেকে ১৫/১৬ হাজার টাকা। তবে ৩ হাজার টাকার জামা পছন্দ হওয়ার মতো নয়।
সালোয়ার-কামিজ কেনার জন্য ক্রেতাদের প্রধান আকর্ষণ থাকে দেশের বুটিক হাউজগুলোর দিকে। বুটিক হাউজগুলো সময়, উত্সব ও ঋতুকে প্রাধান্য দিয়ে পোশাক তৈরি করে থাকে। তবে ভারতীয় কিংবা পাকিস্তানি সালোয়ার-কামিজের চাহিদাও রয়েছে বেশ।
এ বছর গরমে ঈদ হওয়ার কারণে লিনেন, সুতি, খাদি, এন্ডি কটন, এন্ডি সিল্ক কাপড়ে হালকা হাতের কাজ বা এম্ব্রয়ডারি কাজে প্রাধান্য দিয়েছেন বেশি। ডিজাইনের পাশাপাশি ফ্যাশন হাউজগুলো পোশাকে ব্যবহার করেছে উজ্জ্বল রঙ ও উজ্জ্বল রঙের সুতো। সুতি কাপড়ের পরিবর্তে লিলেন চলছে বেশি। পাশাপাশি এন্ডি সুতি, এন্ডি সিল্ক কাপড়ের প্রাধান্য বেশি। চুড়িদার সালোয়ার ও চাপা সালোয়ার দুটোই সমানভাবেই চলছে।
কামিজের নিচে চওড়া সার্টিন কিংবা কুরুশের চওড়া লেজ দিয়ে ডিজাইন করা হয়েছে। এবার ট্রেন্ড লং কমিজ ও লং ফ্রক টাইপের জামার। এসব জামার নিচে চওড়া কাজ লেইস কিংবা পাড়ি করা প্রিন্টের ইয়োগ, ভরাট এপ্লিক, কাঁথা স্টিচের কাজের ইয়োক সেট করা, হাতে প্রিন্ট করা, ব্লক, বাটিক করা ডিজাইন রয়েছে। কামিজে পরিচ্ছন্ন সামঞ্জস্যপূর্ণ এমব্রয়ডারী কামিজগুলোকে আরো রুচিশীল করেছে।
বিক্রেতারা বলছেন, ফ্যাশন সচেতন মেয়েরা এখন ঈদে একাধিক পোশাক কিনেন। তারা সময় ও পরিবেশকে প্রাধান্য দিয়ে পোশাক নির্বাচন করেন। ফ্যাশন হাউজগুলোর পাশাপাশি ভারত থেকে আসা সালোয়ার-কামিজের ক্রেতাও রয়েছে অনেক। এসব পোশাকের বিক্রিও ভাল। তবে আকাশছোঁয়া দামের কারণে এর বিক্রি খুব ভাল নয়। মেয়েদের কাপড়ের দোকান ঘুরে তার কথার সত্যতা পাওয়া গেল। প্রায় সব দোকানের সামনে সাজিয়ে রাখা পুতুলগুলোর পরনে এসব পোশাক শোভা পেলেও এসব পোশাকের ক্রেতা খুব কম।