ঈদ মৌসুমেও আগের ব্যস্ততা নেই চান্দিনার বুটিক কারখানাগুলোতে

রমজান মাস এলেই ব্যস্ততা বেড়ে যেত কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার জোয়াগ ইউনিয়নের তিন গ্রামের হস্ত শিল্প কারিগরদের। রোজা শুরু হওয়ার এক মাস আগ থেকে রোজার মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ব্যস্ততা থাকতো ওই ইউনিয়নের জোয়াগ, নোয়াগাঁও ও ধেরেরা গ্রামের প্রায় অর্ধ শতাধিক বুটিক কারখানায়। কর্মব্যস্ততায় এ পেশায় জড়িত পাঁচ শতাধিক পরিবারের সদস্যদের অনেক সময় নির্ঘুম রাতও কাটাতে হয়েছে। এখন আর সেই ব্যস্ততা নেই। ঈদ এসেছে কি-না, তাও বোঝার উপায় নেই। কারণ মহাজনরা এখন আর আগের মতো অর্ডার দেন না। তাই কারাখানাগুলোতেও ঈদ মৌসুমের বাড়তি ব্যস্ততা নেই। এখন সারা বছর একই ধাচে চলে এই শিল্পের কর্মকাণ্ড। চান্দিনা উপজেলার বুটিক শিল্পের ঐতিহ্যবাহী জোয়াগ গ্রামের বুটিক কারাখানার মালিক খোকন এ ভাবেই বুটিক শিল্পের বর্তমান অবস্থান তুলে ধরেন এই প্রতিবেদকের কাছে। কি কারণে চাহিদার পতন জানেত চাইলে তিনি জানান, বাজার এখন ভারতীয় পোশাকে সয়লাব। ভারতীয় বাহারি পোশাকের চাহিদার কাছে আমাদের দেশীয় হস্ত শিল্পের চাহিদা এখন ক্রেতাদের কাছে খুবই কম। মার্কেটের পোশাক ব্যবসায়ীদের এখন আর ভারতে গিয়ে আনতে হয় না ওই দেশের পোশাক। কালো বাজারিরা দোকানে দোকানে গিয়ে দিয়ে আসে ভারতীয় নতুন নতুন ডিজাইনের বাহারি পোশাক। যার ফলে মহাজনদের কাছে এখন আর আগের মতো অর্ডার পড়ে না। তাই মহাজনরাও আমাদের সে পরিমাণ কাজ দিতে না পারায় আমাদের কারাখানাগুলোতেও এখন আর আগের মতো ব্যস্ততা নেই। খোকন আরো জানান, মূলত আমাদের কারখানায় বেশির ভাগ অর্ডার পাই মেয়েদের থ্রী-পিস ও শাড়ি কাপড়ে বুটিক ও পাথর বসানোর কাজ; কিন্তু বাজারে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ওইসব রেডিমেড পোশাক সহজলভ্য হওয়ায় এখন এই হস্তশিল্পের চাহিদা খুবই কমে গেছে। খোকন আরো বলেন, রাজধানীর ইসলামপুর, গাউছিয়া ও নিউ মার্কেটের মহাজনরা আমাদের কাপড় কিনে দেন। আমরা ওই কাপড়ে পুঁতি, পাথর ও বুটিকের কাজের বিভিন্ন ডিজাইন তৈরি করে দেখাই এবং সে মোতাবেক অর্ডার নেই। এখানে প্রতিটি থ্রি-পিসের গলার কাজে ৪শ থেকে ৫শ টাকা এবং সম্পূর্ণ থ্রি-পিসের কাজে ৮শ থেকে ১২শ টাকার অর্ডার পাই। মহাজনরা সেগুলো বাজারে বিক্রি করে ৮শ থেকে ২ হাজার টাকায় আর ক্রেতারা ওই থ্রী-পিস কিনছেন ১ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকায়। অপরদিকে বিভিন্ন ঈদ ও পূজা মৌসুমে ভারতের বিভিন্ন টিভি সিরিয়াল, অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নামে সেদেশে নতুন নতুন ডিজাইনের পোশাক তৈরি হয়। আর সেই সব কালোবাজারিদের হাত হয়ে পৌঁছে যায় রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা-উপজেলার ছোট-বড় শপিং কমপ্লেক্সগুলোতে। যারফলে দেশীয় পণ্যের চাহিদা ক্রমেই কমে যাচ্ছে। এব্যাপারে জোয়াগ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাও. আবু তাহের জানান, এ ইউনিয়নের জোয়াগ গ্রাম থেকেই বুটিক শিল্পের প্রসার ঘটে। এ পেশায় নিয়োজিত থেকে অনেক নারী-পুরুষ স্বাবলম্বী হয়েছেন। এখনো এ গ্রামের শিশু-কিশোর, যুবক-যুবতীরা এ পেশায় নিয়োজিত থাকায় এ গ্রামে অনৈতিক কর্মকাণ্ড নেই বললেই চলে। অবৈধপথে আসা ভারতীয় পোশাক দেশের শপিং কমপ্লেক্সগুলো দখল করে না নিলে অবশ্যই এ শিল্পের বিকাশ ঘটবে।