স্টেইন মরকেলে হাসলো প্রোটিয়ারাই

গল টেস্টের শেষ দিনে যে রোমাঞ্চের অপেক্ষা করছিলেন সবাই, সেই রোমাঞ্চের দেখা পাওয়া গেল না। বলা চলে ডেল স্টেইন আর মরনে মরকেলের আগুনঝরা বোলিংয়েই মিইয়ে গেল সেই রোমাঞ্চের আভাস। এই দুই পেসারের জোড়া আঘাতে গতকাল রবিবার দক্ষিণ আফ্রিকা ১৫৩ রানের বিশাল ব্যবধানে স্বাগতিক শ্রীলংকাকে পরাজিত করেছে। স্টেইন নিয়েছেন পাঁচ উইকেট। আর মরকেলের শিকার ছিল চারটি। তাদের যুগপত আক্রমণে শেষ দিন দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই মাত্র ২১৬ রানে গুটিয়ে যায় শ্রীলংকার দ্বিতীয় ইনিংস। দ্বীপ রাষ্ট্রটির মাটিতে এটা ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার তৃতীয় এবং ২০০০ সালের পর প্রথম জয়। শেষ দিনে জয়ের জন্য স্বাগতিক দলের প্রয়োজন ছিল ২৬০ রান এবং হাতে ছিল ৯ উইকেট। কিন্তু মাত্র ১০৬ রানেই বাকি উইকেটগুলো হারালে অনায়াসে জয় পায় সফরকারীরা। দক্ষিণ আফ্রিকা ৯ উইকেটে ৪৫৫ রান করে তাদের প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে। জবাবে লংকানরা সংগ্রহ করে ২৯২ রান। প্রোটিয়াসরা দ্বিতীয়বার ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেটে ২০৬ রান করে ইনিংস ঘোষণা করলে জয়ের জন্য ৩৭০ রানের লক্ষ্য পায় লংকানরা। টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে প্রথম এ জয় পাওয়াটা হাশিম আমলার জন্য ছিল বিশেষ কিছু। জয় দিয়ে শুরুটাকে সতীর্থদের নিয়ে দারুণভাবে উদযাপন করেন তিনি। আমলা বলেন, ‘এটা (জয়) সহজ ছিল না। এটা ছেলেদের অবদান। তারা সবাই আজ তাদের হাতকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছেন।’ ‘গতকাল আমাদের কিছু চ্যালেঞ্জিং ওভার ছিল। কিন্তু বোলাররা ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং সত্যিকারার্থেই ভাল করেছে। ডিন এলগার সেঞ্চুরি পেয়েছে, একইভাবে জেপি ডুমিনিও শতরান পাওয়ায় তারা আমাদের জন্য ম্যাচটা সহজ করে দিয়েছে।’ আইসিসি টেস্ট র্যাংকিংয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা বর্তমানে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে এবং আগামী ২৪-২৮ জুলাই কলম্বোতে অনুষ্ঠেয় সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে জয় পেলে অস্ট্রেলিয়াকে হটিয়ে আবারো তার শীর্ষ স্থান দখল করবে। স্বাগতিক দলের হয়ে কিছুটা লড়াই করে ৭৬ রান করা কুমার সাঙ্গাকারাসহ গুরুত্বপূর্ণ ২ উইকেট লাভ করেন ডুমিনি। আগের দিন ১ উইকেটে ১১০ রান নিয়ে খেলতে নামা শ্রীলংকা দিনের প্রথম সেশনে ২৪ ওভারে মাত্র ৫১ রান যোগ করতেই ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে। শ্রীলংকা অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ বলেন, ‘পাঁচ দিনই দক্ষিণ আফ্রিকা আমাদের পরাস্ত করেছে। ভাল ক্রিকেট খেলে পরাজিত হলে আমাদের মনে করার কিছু থাকে না। কিন্তু এ ম্যাচে সত্যিই আমরা হতাশ করেছি।’ ‘প্রথম ইনিংসের সংগ্রহের (২৯২) মূল্য আমাদের দিতে হয়েছে। আমরা আরো কিছু রান করতে পারলে আমাদের হয়তো একটা সম্ভাবনা থাকত। ব্যাটসম্যানদের তাদের খেলার উন্নতি করা দরকার।’ প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট শিকার করা স্টেইন দিনের চতুর্থ ওভারেই দলের প্রয়োজনীয় সময়ে দলকে ব্রেকথ্রু এনে দেন। ৩৮ রান করা উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান কৌশল সিলভাকে সাজ ঘরে পাঠান তিনি। উইকেট রক্ষক কুইন্টন ডি কক ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে অসাধারণ একটি ক্যাচ নিয়ে সিলভাকে মাঠ ত্যাগ করতে বাধ্য করেন। সিলভার আউটের মাধ্যমে দ্বিতীয় উইকেটে সাঙ্গাকারার সঙ্গে দলের সর্বোচ্চ ১০৪ রানের জুটি ভেঙ্গে যায়। পানি পানের পর প্রথম বলেই বিগ হিটার মাহেলা জয়াবর্ধনেকে ১০ রানে মরকেলকে ফিরিয়ে দিলে বড় ধাক্কাটা খায় লংকানরা। ৬৫ রানে সাঙ্গাকারা একবার জীবন পেলেও খুব বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ডুমিনির বলে শর্টমিডউইকেটে আমলার হাতে ক্যাচ দিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। ১৪৫ বল মোকাবেলায় নয়টি চার এবং একটি ছক্কা মারেন তিনি। সাঙ্গাকারা এবং জয়াবর্ধনেকে দ্রুত আউট করার পর নতুনভাবে শক্তি সঞ্চার হয় সফরকারীদের। স্টেইনের বলে এবি ডি ভিলিয়ার্সের হাতে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান ১২ রান করা লাহিরু থিরিমান্নে। আর ডি ককের সহায়তায় ১ রান করা দিনেশ চান্দিমালকে আউট করেন মরকেল। মধ্যাহ্ন বিরতির পর দ্বিতীয় ওভারে স্টেইনের বলে কোন রান না করা দিলরুয়ান পেরেরাকে তালুবন্দী করে এ ইনিংসে পাঁচ ক্যাচ পূর্ণ করেন ডি কক। ডুমিনির বলে সুইপ শট খেলতে গিয়ে ডি ভিলিয়ার্সের তালু বন্দী হন ২০ রান করা রঙ্গনা হেরাথ। ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হওয়া স্টেইন বলেন, দলের জয়ে অবদান রাখতে পেরে খুশি তিনি। তিনি বলেন, ‘যখনই উপমহাদেশে খেলতে আসি, আমি ভাল করতে চেষ্টা করি। আপনি সবুজ উইকেটে ৫ উইকেট পেলে কেউই খুব বেশি অবাক হবে না। কিন্তু এমন উইকেট সেটা সত্যিই পার্থক্য গড়ে দেয়।’ স্কো র কা র্ড দক্ষিণ আফ্রিকা ১ম ইনিংস: ৪৫৫-৯ডি: (ডি এলগার ১০৩, জেপি ডুমিনি ১০০ অপরাজিত; পেরেরা ৪-১৬২) শ্রীলংকা ১ম ইনিংস : ২৯২ অলআউট (এ ম্যাথুজ ৮৯, ইউ থারাঙ্গা ৮৩; ডি স্টেইন ৫-৫৪) দক্ষিণ আফ্রিকা ২য় ইনিংস : ২০৬-৬ ডি: (ডি ভিলিয়ার্স ৫১; আর হেরাথ ৪-৭৯) শ্রীলংকা ২য় ইনিংস (আগের দিন ১১০-১) ইউ থারাঙ্গা ক ডি কক ব স্টেইন ১৪ কে সিলভা ক ডি কক ব স্টেইন ৩৮ কে সাঙ্গাকারা ক আমলা ব ডুমিনি ৭৬ এম জয়াবর্ধনে ক ডি কক ব মরকেল ১০ এল থিরিমান্নে ক ডি কক ব স্টেইন ১২ এ ম্যাথুজ অপরাজিত ২৭ ডি চান্দিমাল ক ডি কক মরকেল ১ ডি পেরেরা ক ডি কক ব স্টেইন ০ আর হেরাথ ক ডি ভিলিয়ার্স ব ডুমিনি ২০ এস লাকমল ক তাহির ব মরকেল ১২ এস এরাঙ্গা ক এলগার ব মরকেল ০ অতিরিক্ত : (বা-১, লেবা-৪, নোব-১) ৬ মোট (অল-আউট ৭১.৩ ওভার) ২১৬ উইকেট পতন : ১-১৪, ২-১১৮, ৩-১৩৮, ৪-১৪৯, ৫-১৫৩, ৬-১৫৮, ৭-১৬১, ৮-১৯০, ৯-২১৬, ১০-২১৬। বোলিং : স্টেইন ১৭-৩-৪৫-৪, ফিলান্ডার ১১-৪-৩৪-০, মরকেল ১৩.৩-৬-২৯-৪, তাহির ১৯-৪-৬৪-০, ডুমিনি ১০-৪-৩৮-২, এলগার ১-০-১-০। ফল : দক্ষিণ আফ্রিকা ১৫৩ রানে জয়ী। সিরিজ : ১-০তে এগিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচ সেরা : ডেল স্টেইন (দক্ষিণ আফ্রিকা)।