ব্রাজিল সফর মোদীর প্রথম সফলতা
অঞ্জন রায় চৌধুরী, নয়াদিল্লি
প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০১৪, ২২:৪৬
সমপ্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ব্রাজিল সফর সফল বলেই মনে করা হচ্ছে। এই সফরে প্রধানমন্ত্রীকে অনেক দৃঢ়, চিন্তাশীল এবং অগ্রগামী এক নেতা মনে হয়েছে। ভারতের মানুষও তার প্রতি আস্থা রাখতে পারছে এই ভেবে যে তিনি আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের সঙ্গে দরকষাকষি করে ভারতের স্বার্থ রক্ষা করতে পারবেন। দেশটির পূর্বের সরকারের মতোই চীন এবং রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্ব দিয়েছেন মোদী। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এটাই ছিল মোদীর সবচেয়ে বড় ধরনের বিদেশ সফর। পাঁচ জাতির সমন্বয়ে গঠিত ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে মোদী ব্রাজিল যান। এর আগে তিনি ভুটান সফর করেন।
ব্রিকস সম্মেলনে মোদীর বক্তব্য এবং বিবৃতি ছিল ভারতের আগের সরকারের মতোই। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বাস্তবতার প্রেক্ষিতে ভারত সবসময়ই আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নেতৃত্বের ক্ষেত্রে একটা পরিবর্তন চায়। সন্ত্রাসবাদ, জলবায়ু এবং সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ভারত আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা আশা করে। তার বক্তব্যে আফগানিস্তান প্রসঙ্গও গুরুত্ব পেয়েছে। ব্রিকস ব্যাংকের সদর দপ্তরের স্থান জটিলতার সমাধান দিয়েছেন মোদী। তবে তিনি দেশের স্বার্থ রক্ষায় ছাড় দেননি। ব্রিকস’র প্রথম প্রেসিডেন্ট হবে ভারতের। এছাড়া এই ব্যাংকের মূলধনে সকল দেশের শেয়ার একই থাকবে। ব্রিকস ব্যাংকের সদর দপ্তর হবে চীনের সাংহাইয়ে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী চীন এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেছেন। উভয় নেতার কাছেই তিনি একই বার্তা দিয়েছেন। বার্তাটি হচ্ছে, তিনি চান সামনের দিকে এগিয়ে যেতে। চীনের প্রেসিডেন্টকে তিনি দুই দেশের মধ্যে শান্তি বজায় রাখতে সীমান্ত সংঘাত বন্ধের আহবান জানিয়েছেন। আগামী নভেম্বরে এপেক সম্মেলনে যোগ দিতে চীন সফরে যেতে পারেন মোদী। মোদী রুশ প্রেসিডেন্টকে এই বলে আশ্বস্ত করেছেন যে, ভারত তার প্রতি রাশিয়ার সমর্থনকে স্বীকৃতি দেয়। তিনি পুতিনকে এটাও বলেছেন, ভারত সবক্ষেত্রেই পশ্চিমাদের দ্বারা প্রভাবিত হয় না। বিশেষ করে ইউক্রেনের ক্ষেত্রে। মোদী এবং পুতিন উভয়ই প্রতিরক্ষা, মহাকাশ, পরমাণু ও জ্বালানি ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।