শিক্ষাভবনে শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষককে হয়রানি করায় এক কর্মকর্তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ

শিক্ষককে হয়রানি এবং ঘুষ চাওয়ার অভিযোগে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) সহকারী পরিচালক আবদুল কুদ্দুস শিকদারকে স্ট্যান্ড রিলিজ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। গতকাল রবিবার দুপুর সোয়া ১২ টায় শিক্ষাভবনে অভিযোগ শুনে এ ব্যবস্থা নিলেন মন্ত্রী। স্ট্যান্ড রিলিজ হওয়া আবদুল কুদ্দুস শিকদার বিসিএস (সাধারণ) শিক্ষা ক্যাডারের একজন সহকারী অধ্যাপক। অতীতেও তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, গতকাল দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর কাছে গিয়ে গাজীপুরের রানী বিলাস মনি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা নাসরিন বেগম এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। এই শিক্ষক মন্ত্রীকে বলেন, তিনি সরকারি একটি প্রশিক্ষণে অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছেন। এ সংক্রান্ত সরকারি অনুমোদনও হয়েছে। তবে শিক্ষা ভবনের সহকারী পরিচালক (প্রশিক্ষণ) আবদুল কুদ্দুস শিকদার এ সংক্রান্ত অনুমোদনের চিঠি ইস্যু না করে তাকে হয়রানি করছেন। নান অযুহাতে দিনের পর দিন ঘুরাচ্ছেন এবং আকারে ইঙ্গিতে টাকা চাইছেন। এ অভিযোগ শুনেই মন্ত্রী তত্ক্ষণাত্ ওই শিক্ষককে সাথে নিয়ে শিক্ষাভবনে গিয়ে উপস্থিত হন। সংশ্লিষ্ট সহকারী পরিচালককে মন্ত্রী জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে ওই সংক্রান্ত নথি তলব করেন। নথিতে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিদেশে প্রশিক্ষণের বিষয়টি শিক্ষা সচিবের অনুমোদন পেলেও তাকে দীর্ঘদিন আদেশের চিঠি দেয়া হয়নি। এছাড়া সংশ্লিষ্ট দফতরের অন্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মন্ত্রী ওই শিক্ষিকাকে হয়রানি করার প্রমাণ পান। এ ঘটনায় মন্ত্রী তাত্ক্ষণিকভাবে এই সহকারী পরিচালককে স্ট্যান্ড রিলিজ করে মাদারীপুরের সরকারি নাজিমুদ্দিন কলেজে বদলি করেন। এ সময় প্রধান ফটকে শিক্ষক-কর্মচারীরা মন্ত্রীকে ঘিরে তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা জানান। মন্ত্রী তাদের নানা অভিযোগের কথাও শোনেন। এ সময় একজন শিক্ষক বলেন, এখানে এমপিওভুক্তির (বেতন-ভাতা বাবদ মাসিক সরকারি অনুদান) জন্য আবেদন করলে এমপিও পেতে পাঁচ-সাত মাস লেগে যায়। কিন্তু পরে ওই পাঁচ-সাত মাসের বকেয়া বেতন দেয়া হয় না। যাত্রাবাড়ী এলাকার একজন অভিভাবক বলেন, যাত্রাবাড়ীতে একটি স্কুলের মাসিক বেতন ৭০০ টাকা। কিন্তু কোচিং বাবদ প্রতি মাসে নেয়া হয় দুই হাজার ৫০০ টাকা। এভাবে শিক্ষক-কর্মচারীরা বিভিন্ন অনিয়মের চিত্র মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। মন্ত্রী তাদের লিখিতভাবে এসব অভিযোগ করার পরামর্শ দেন। মন্ত্রী বলেন, কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে কোন ছাড় দেয়া হবে না।