বিদায় মাহে রমজান
অধ্যাপক হাসান আবদুল কাইয়ূম
প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০১৪, ২২:৫৬
আজ ২২ রমজান। দেখতে দেখতে রহমত মাগফিরাত ও নাজাতের মাস রমাদান বা রমজান সমাপ্তির দিকে ধাবিত হচ্ছে। এই রমজান মাসে অনেক ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। এই রমজান মাসেই ফতেহ্ মক্কা বা মক্কা বিজয় হয়েছিলো। মক্কা বিজয়ের মাধ্যমে ইসলামের চূড়ান্ত বিজয় সাধিত হয়েছিলো। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম মদীনা হিজরত করেন ৮ বছর পূর্বে। এখানে একটি আদর্শ কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। মক্কার কুরাইশ কাফির মুশরিকরা মদীনা রাষ্ট্রকে ধ্বংস করার পাঁয়তারা শুরু হয়। যুদ্ধের পর যুদ্ধ হয়। সব যুদ্ধেই ইসলামের বিজয় পতাকা উড্ডীন হয়। ৬২৮ খৃস্টাব্দে দশ বছর মেয়াদী এক শান্তি চুক্তি হয় যা হুদায়বিয়ার সন্ধী নামে পরিচিত। দুই বছর যেতে না যেতেই মক্কার কুরাইশ কাফির মুশরিক সন্ধীর শর্ত ভংগ করলে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম দশ হাজার সাহাবী সমন্বয়ে গঠিত এক বিরাট বাহিনী নিয়ে মক্কা গমন করেন। কা’বা শরীফে এবং এর চত্বরে স্থাপিত মূর্তিগুলো অপসারিত হয়। আল্লাহু আকবর উচ্চারণে মুখরিত হয়ে যায় চতুর্দিক। ঘোষিত হয় সাধারণ ক্ষমা। সেই সাধারণ ক্ষমার দৃষ্টান্ত দ্বিতীয়টি নেই। উচ্চারিত হয়ঃ সত্য এসেছে, মিথ্যা দূর হয়েছে, মিথ্যাতো দূর হবারই।
মক্কা বিজয়ের প্রায় ৪০ বছর পর প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী ১১ বছর বয়সী কিশোর ইসলামের চতুর্থ খলীফা হযরত আলী রাদিআল্লাহু তা’আলা আনহু খারেজী সদস্য আবদুর রহমান ইবনে মজলুমের মাথা তরবারীর আঘাতে আহত হন এবং তিনদিন পর শহীদ হন। তাঁর মাযার শরীফ কোথায় তা আজও অজ্ঞাত। তাঁর অসিয়ত অনুযায়ী তাঁর লাশ মুবারক কাফন পরিহিত অবস্থায় একটি উটের পিঠে রাখা হয়। সেই উট রাতের অন্ধকারে কোথায় যে মিলিয়ে যায় তা কেউ জানতে পারেনি। এর বহু বছর পর ৭৯১ খৃস্টাব্দে আব্বাসীয় খলীফা হারুনুর রশীদ কুফার পাঁচ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত নজফ আশরফ নামক স্থানে হযরত আলী করমাল্লাহুর মাযার শরীফ আবিষ্কার করেন। নজফে মাশহাদে আলী রয়েছে। হযরত ‘আলী করমাল্লাহু ওয়াজহাহু ছিলেন খুবই উঁচু মাপের কবি, তাঁর গ্রন্থরাজির মধ্যে নাহ্জাতুল বালা গা ও দীওয়ান উল্লেখযোগ্য। ইলমে তাসাওউফের মূলধারার অনেকাংশ প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম হতে তাঁর মাধ্যমে সম্প্রসারিত হয়েছে। আরবী ব্যাকরণের মূলত উদ্যোক্তা তিনি। তাঁকে আরবী ব্যাকরণের জনকও বলা হয়।