যত কিছুই হোক, শ্রোতা কিন্তু আমরা হারাইনি
প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০১৪, ২০:২৭
এদেশের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে সমান জনপ্রিয়তার আসনে নিয়মিত যিনি অ্যালবাম, মঞ্চ আর টিভি পর্দা কাঁপিয়েছেন তিনি বেবী নাজনীন। ব্ল্যাক ডায়মন্ড খ্যাত এই বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সাথে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন মোস্তাফিজ মিঠু
আপনার নতুন অ্যালবাম নিয়ে কিছু বলুন।
এই ঈদে আমার ৫০তম একক অ্যালবাম রিলিজ পেতে যাচ্ছে। অ্যালবামের সব কাজ ইতোমধ্যে গুছিয়ে আনা হয়েছে। ঈদের কয়েকদিন আগেই রিলিজ দিয়ে দেবো। ব্যক্তিগত কাজ আর কনসার্টের জন্য কাজটি সম্পন্ন করতে একটু দেরি হয়ে গেল। এটি আমার জন্য বিশেষ একটি অ্যালবাম। কারণ এই অ্যালবামটির মধ্য দিয়েই ক্যারিয়ারের হাফ সেঞ্চুরি হাঁকালাম। শ্রোতাদের জন্য অবশ্যই ভিন্ন কিছু রাখার চেষ্টা করেছি। প্রত্যাশার জায়গাটাও তাই একটু বেশি।
ঈদের বিশেষ অনুষ্ঠানগুলো নিয়ে কেমন ব্যস্ত আছেন?
ঈদের অনুষ্ঠানগুলো নিয়ে আমি তেমন ব্যস্ত না। কারণ বিশেষ অনুষ্ঠানগুলো কতটা বিশেষ সেই জায়গাটা আগে পরিষ্কার মনে হলে তবেই সেই অনুষ্ঠানগুলো করি। তাছাড়া এবার যেহেতু অ্যালবাম বের হচ্ছে। তাই অ্যালবাম নিয়েই ব্যস্ততা বেশি। এছাড়া কনসার্টের হিড়িক তো রয়েছেই। সব মিলিয়ে খুব ভালোই ব্যস্ত সময় কাটবে। তবে সেই ব্যস্ততাটা শুধুমাত্র পর্দাতেই আটকে না। সবকিছুর পরও পরিবারকে সময় দিয়ে তারপর অন্যকিছু।
অডিও বাজারের এই প্রতিকূল অবস্থার মাঝেও কী হিসেব মিলিয়ে অ্যালবাম বের করছেন?
দেশের অডিও বাজারের অবস্থা আসলেই খুবই হতাশজনক। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও অ্যালবাম প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়ে হয়তো সাহসের কাজই করে ফেললাম। তারপরও অ্যালবাম তো বের হবেই। ভক্তদের ভালোবাসার দাবি থেকেই অ্যালবামটি প্রকাশ করতে যাচ্ছি। আর অ্যালবামের উপর এখন তো সবাই নির্ভর করে না। অডিও কোম্পানিগুলো অ্যালবাম রিলিজের পাশাপাশি ডিজিটাল অনেক মাধ্যমেই খরচ উঠানোর পরিকল্পনা করে রাখেন। আমাদের দেশে পাইরেসি নামক যে ভাইরাস ঢুকে গেছে তা বের করা তো সহজ ব্যাপার না। এটা প্রতিরোধে সরকার যদি শক্ত হাতে দমন প্রক্রিয়া চালু না করে তবে এর ভবিষ্যত্ নিয়ে আমি নির্বাক।
এত হতাশজনক অবস্থার মাঝে আমাদের শ্রোতা কী কমে গেছে বলে মনে করেন?
অবশ্যই না। গান এমন একটা জিনিস যার চাহিদা কখনও কমবে না। আমাদের দেশের দর্শকরা দেশি নাটক, সিনেমা ছেড়ে ভিনদেশের শিল্প নিয়ে মেতেছে। কিন্তু গানের জায়গাটায় বলতে পারি শ্রোতার সংখ্যা আরও অনেক বেড়েছে। পাইরেসি থাক আর অডিও বাজার ধ্বংসের মুখে থাক, শ্রোতা কিন্তু আমরা হারাইনি। এটাই আমাদের গানের মান নিয়ে যে প্রশ্ন তার বড় উত্তর। ডাউনলোড করে হোক আর সিডি কিনে, গান কিন্তু শোনা কমেনি। এর অন্যতম ভূমিকা পালন করছে প্রযুক্তি। কোনো কিছুর খারাপ দিক থাকলে তার ভালো দিকও আছে।
প্লে-ব্যাক করতে গেলে ছবির নাম নিয়ে শিল্পীদের বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতে পড়তে হয়, আপনি এর শিকার হয়েছেন কি?
অহরহ হচ্ছি। কোনো সাংবাদিককে তো এখন ছবির নাম বলতে পারছি না। দেখা যায় এক ছবির জন্য গান গাই মুক্তি পাওয়ার সময় গান চলে যায় অন্য ছবিতে। আর ছবির নামও ঠিক থাকে না। এটা তো বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। গান গাওয়ার আগে পরিচালকদের সাথে কথা বললেও তেমন কোনো সাড়া পাই না। গান গাচ্ছি ঠিকই কিন্তু কোন ছবিতে যে গাচ্ছি সেটাই অনিশ্চিত। আমার গান নিয়ে যদি অন্য কেউ বাহাদুরি করে তাহলে তো মুশকিল।