রপ্তানির নতুন লক্ষ্যমাত্রা ৩৩২০ কোটি ডলার
প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০১৪, ২০:৪৮
চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৩২০ কোটি মার্কিন ডলার। এটি সদ্য সমাপ্ত ২০১৩-১৪ অর্থবছরের তুলনায় ১০ দশমিক ০২ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরে ১৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে ৩ হাজার ৫০ কোটি ডলারের রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হলেও বছর শেষে তা অর্জন করা সম্ভব হয়নি। আলোচ্য সময়ে রপ্তানি হয়েছিল ৩ হাজার ১৭ কোটি ৬০ লাখ ডলারের পণ্য। অর্থাত্ ওই সময়ে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১ শতাংশ কম হলেও এর আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে সাড়ে ১১ শতাংশ। ফলে এবার রপ্তানির প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা কমিয়ে ধরা হয়েছে। গতকাল রাজধানীর কাওরান বাজারের টিসিবি ভবনে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো’র (ইপিবি) অফিসে বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ রপ্তানির নতুন এই লক্ষ্যমাত্রা চূড়ান্ত করেন। বৈঠক শেষে ইপিবি’র ভাইস চেয়ারম্যান শুভাশীষ বসু সাংবাদিকদের রপ্তানির নতুন এ লক্ষ্যমাত্রা জানান। বৈঠকে শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রধান পণ্যগুলো হচ্ছে তৈরি পোশাক (ওভেন ও নিটওয়্যার), হোম টেক্সটাইল, পাট ও পাটজাত দ্রব্য, চামড়া ও পাদুকা সামগ্রী, কৃষিজাত পণ্য, প্লাস্টিক দ্রব্য, রাবার, কাঠ ও আসবাবপত্র, প্রকৌশল দ্রব্যাদি, সমুদ্রগামী জাহাজ ও কম্পিউটার সেবাসহ ৩৪ ধরনের পণ্য ও সেবা রপ্তানি হয়ে থাকে। বাংলাদেশের রপ্তানির প্রধান পণ্য হচ্ছে তৈরি পোশাক। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে এই খাত থেকে মোট রপ্তানির ৮০ শতাংশ এসেছে। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে ৩ হাজার ১৮ কোটি ডলার রপ্তানির মধ্যে এককভাবে গার্মেন্টস খাত থেকে এসেছে ২ হাজার ৪৪৯ কোটি ডলার।
অন্যদিকে এককভাবে রপ্তানির প্রধান বাজার হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি, বেলজিয়ামসহ ইউরোপের ২৭টি দেশ ছাড়াও কানাডা, জাপান, নেদারল্যান্ডস, ভারতও বাংলাদেশের রপ্তানির অন্যতম গন্তব্য।
২০১৩-১৪ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রপ্তানিতে কিছুটা ঘাটতির জন্য রাজনৈতিক অস্থিরতাকে দায়ী করলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তবে এরপরও রফতানি আশানুরূপ হওয়ায় রফতানিকারকদের ধন্যবাদ জানান তিনি। আর আগামীতে রাজনৈতিক অস্থিরতার সৃষ্টি করে দেশের অর্থনীতি ভঙ্গুর না করার আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন, এফবিসিসিআই সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম ও ইপিবি’র কর্মকর্তারা।