রোপা আমন চাষের ধুম
আজাদুল ইসলাম, মহাদেবপুর (নওগাঁ) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০১৪, ২১:১৫
বরেন্দ্র অঞ্চলখ্যাত নওগাঁর মহাদেবপুর ও পার্শ্ববর্তী পোরশা, সাপাহার, নিয়ামতপুর ও পত্নীতলা উপজেলায় চলছে রোপা আমন চাষের ধুম। রোপা আমনের জমি তৈরি, চারা উত্তোলন ও চারা রোপণের কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন এ অঞ্চলের কৃষক। কৃষকদের পাশাপাশি আমনের চারা উত্তোলন ও রোপণের কাজে ব্যস্ততা বেড়েছে নারী কৃষি শ্রমিকদের।
গতকাল সোমবার বরেন্দ্র অঞ্চলের মহাদেবপুর, পোরশা ও পত্নীতলা উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, মাঠে মাঠে শুরু হয়েছে আমনের চারা রোপণের কাজ। ইতিমধ্যেই ৬০/৭০ ভাগ জমির রোপা আমন রোপণের কাজ শেষ হয়েছে। আগামী ১০/১২ দিনের মধ্যেই অবশিষ্ট জমির চারা রোপণের কাজ শেষ হবে বলে কৃষকরা আশা করছেন। এবার রোপা আমন মৌসুমের শুরুতেই পর্যাপ্ত পরিমাণে বৃষ্টিপাত হওয়ায় অন্যান্য বছরের মত আমনের জমিতে পানি নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হচ্ছে না কৃষকদের। বৃষ্টির পানিতে স্বচ্ছন্দে আমনের চারা রোপণের কাজ করছেন কৃষকরা।
বিগত বছরগুলোতে প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় গভীর-অগভীর নলকূপের মাধ্যমে সেচ দিয়ে চারা রোপণের কাজ করতে হতো। সে ক্ষেত্রে প্রতি বিঘা জমিতে চারা রোপণ করতে সেচ বাবদ কৃষককে ১শ ৫০ থেকে ২শ টাকা অতিরিক্ত খরচ করতে হতো। এবার পর্যাপ্ত পরিমাণে বৃষ্টিপাত হওয়ায় এ টাকা সাশ্রয় হচ্ছে কৃষকদের।
স্থানীয় কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নওগাঁর বরেন্দ্র অঞ্চল হিসাবে পরিচিত মহাদেবপুর, পোরশা, সাপাহার, পত্নীতলা, নিয়ামতপুর উপজেলায় এবার ১ লক্ষ ১৪ হাজার ৫শ ৮৮ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে মহাদেবপুর উপজেলায় ২৭ হাজার ৭শ ২০ হেক্টর, পোরশা উপজেলায় ১৯ হাজার ২শ ৪৩ হেক্টর, সাপাহার উপজেলায় ১৮ হাজার ২শ হেক্টর, পত্নীতলা উপজেলায় ২৭ হাজার ১শ ৭৫ হেক্টর ও নিয়ামতপুর উপজেলায় ২২ হাজার ২শ ৫০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তবে রোপা আমন চাষে এ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।
অধিক ফলনের আশায় এ অঞ্চলের কৃষকরা এবার স্থানীয় জাতের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে উচ্চ ফলনশীল ধানের চারা রোপণ করছেন। এসব জাতের মধ্যে রয়েছে বিআর ১১, ব্রিধান ৩৩, ব্রিধান ৫১, ৫২, স্বর্ণা, গুটি স্বর্ণা ও বিনা- ৭।
বরেন্দ্র অঞ্চলের মহাদেবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এ. কে. এম মফিদুল ইসলাম জানান, এ অঞ্চলে এবার আবহাওয়া অনুকূল থাকায় রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে এবং শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।