এমডিজিতে জলবায়ু পরিবর্তন ও
পানি ব্যবস্থাপনা সংযোজন
প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০১৪, ২১:৩০
জাতিসংঘ ঘোষিত ১৫ বছর মেয়াদী সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এমডিজি) মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২০১৫ সালে। বিশ্বের ১৮৯ দেশের জন্য ক্ষুধা ও চরম দারিদ্র্য নিরসন, সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন, জেন্ডার সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন অর্জন, শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার রোধসহ আটটি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়। এমডিজির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে জাতিসংঘ। ১৫ বছর মেয়াদী এসডিজির মেয়াদ শুরু হবে ২০১৬ সালে।
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ প্যানেল ও সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিরা আসন্ন এসডিজির জন্য লক্ষ্যমাত্রা প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছেন। গত সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সর্বশেষ আলোচনা ও দর কষাকষি করেন প্রতিনিধিরা। এতে ১৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) নির্ধারণ করা হয়।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, বাংলাদেশ সরকারের পাঠানো উচ্চ পর্যায়ে প্রতিনিধি দলের একান্ত প্রচেষ্টায় এসডিজির ১৭টি লক্ষ্যমাত্রায় জলবায়ু পরিবর্তন, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, অভিবাসন এবং শান্তি ও অহিংসতার সংস্কৃতিসহ বেশ কয়েকটি ইস্যু সংযোজিত হয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৯তম অধিবেশনে খসড়া এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা উত্থাপন হবে। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে সাধারণ পরিষদের ৭০তম অধিবেশনে লক্ষ্যমাত্রা গৃহীত হবার পর ২০১৬ সালের পহেলা জানুয়ারি থেকে এসডিজির মেয়াদ শুরু হবে বলে সূত্র জানায়। এসডিজিতে ১৭টি লক্ষ্যমাত্রা ছাড়াও ১৭০টি সহযোগী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে খসড়া প্রস্তাবনায়।
জাতিসংঘে বিশেষজ্ঞ প্যানেল ও সদস্য দেশের প্রতিনিধিদের সর্বশেষ আলোচনায় কেনিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি ও হাঙ্গেরীর স্থায়ী প্রতিনিধি কো-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। ১৭ মাস ধরে বিভিন্ন পর্যায়ের আলোচনায় বাংলাদেশের প্রস্তাবিত চারটি ইস্যুতে প্রায় সবাই সম্মতি দেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশের একজন প্রতিনিধি জানান, দীর্ঘ আলোচনায় আমাদের বিষয় অন্তর্ভুক্ত হওয়া একটা বড় অর্জন বলা যায়। জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশ বিশ্বের নেতৃত্ব দিচ্ছে। অভিবাসন ইস্যুতে বৈদেশিক অর্থ প্রেরণের ক্ষেত্রে কমিশন সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ নির্ধারণ করার প্রস্তাব সবাই মেনে নিয়েছে। পানি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বিত কার্যপদ্ধতি গড়ে তোলা হবে। সর্বক্ষেত্রে শান্তি ও অহিংস সংস্কৃতি ইস্যুতে সবার মতামত প্রকাশের অধিকার ও তার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর কথা বলা হয়েছে। এই ইস্যুতে আইনের শাসন, সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সদস্য দেশগুলোর জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।