বিমান বিধ্বস্ত :রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরো নিষেধাজ্ঞা চান ক্যামেরন

মালয়েশীয় বিমান ধ্বংসকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরো কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের চিন্তা করছে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। এদিকে এ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে রাশিয়ার দিকে আঙ্গুল তুলেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। মালয়েশীয় বিমান ধ্বংসকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার ওপর অবরোধ আরো কঠোর করার পক্ষে ক্যামেরন। গত রবিবার তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং মস্কোর বিরুদ্ধে ইইউকে আরো বেশি নিষেধাজ্ঞা আরোপে রাজি করাতে চান বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, পুতিনের সঙ্গে ৩০ মিনিটের ফোনালাপে তিনি বলেন, বিধ্বস্ত এলাকায় প্রবেশে বিশেষজ্ঞদের অনুমতি দিতে দেরি হওয়াটা ‘সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য এবং অমার্জনীয়’। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের একজন মুখপাত্র বলেছেন, দুই নেতার কথোপকথনটি ছিল ‘খোলামেলা’ এবং বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকাটিতে বিশেষজ্ঞদের প্রবেশে ক্যামেরন পুতিনকে তার প্রভাব কাজে লাগানোর আহবান জানান। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী রাশিয়ার প্রেসিডেন্টকে বলেন,‘পৃথিবী এখন দেখছে। প্রমাণগুলো থেকে মনে হয় রুশপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা এর জন্য দায়ী। যদি রাশিয়া অন্য কাউকে দায়ী করতে চায় তবে তাদেরকে জোরালো ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে।’ এর আগে ব্রিটেনের নবনিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিপ হ্যামন্ডও রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে বলে জানিয়েছিলেন। গত শনিবার তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য অবশ্যই ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবরোধ আরোপের আহ্বান জানাবে। এ প্রসঙ্গে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত বলেন, ব্রিটিশ সরকার যদি অবরোধ আরোপের মতো সিদ্ধান্ত নেয় তবে তা দু’দেশের সম্পর্কে খারাপ প্রভাব ফেলবে এবং সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। উল্লেখ্য, ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের ফ্লাইট এমএইচ১৭ বিধ্বস্ত হয়ে ২৯৮ জন যাত্রী নিহত হয় যার মধ্যে ১০ জন ব্রিটিশ নাগরিকও রয়েছে। এ ঘটনার জন্য শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও ইউক্রেন রুশপন্থি বিচ্ছিন্নতা-বাদীদের দায়ী করে আসছে। এদিকে, মালয়েশীয় ঐ বিমান ধ্বংসের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি রাশিয়ার দিকে আঙ্গুল তুলেছেন। তিনি বলেছেন, বিমানটি ভূপাতিত করতে রাশিয়ার সহযোগিতার বিষয়ে বিস্ময়কর প্রমাণ রয়েছে। কেরি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র লক্ষ্য করেছে, গতমাসে রাশিয়া থেকে ইউক্রেনে সাঁজোয়া যান, ট্যাংক এবং রকেট লাঞ্চারের একটি বহরসহ বড় ধরনের সামরিক সরঞ্জাম আনা হয়েছে। ইএস টিভি নেটওয়ার্ক তিনি বলেছেন, ‘এই ব্যবস্থাগুলো ও লোকজনকে প্রশিক্ষণ দেয়ার ক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণ প্রমাণ আছে যা সঙ্গে রাশিয়ার যুক্ত থাকার দিকেই আঙ্গুল তোলো’। এর পাশাপাশি কেরি রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরো নিষেধাজ্ঞার হুমকি দেন এবং তার ইউরোপীয় মিত্রদের পুতিনের প্রতি ‘জেগে ওঠার ডাক’ দেয়ারও আহবান জানান।