সাকিবের আচরণে সন্তুষ্ট সভাপতি
প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০১৪, ২১:৫৬
শাস্তি কমানোর যে আবেদন সাকিব আল হাসান করেছেন, তাতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতির এক ধরনের সমর্থন আছে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। গতকাল বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এমপি স্বয়ং বললেন, সাকিবের আপিল চিঠির ভাষা এবং শাস্তি পাওয়ার পর থেকে তার আচরণে তিনি অন্তত মুগ্ধ। তবে এই সাবেক অধিনায়ক তার দেশসেরা ক্রিকেটারের শাস্তি কমানোর আবেদন গ্রহণ করে আসলে শাস্তি কমানো হবে কি না, সেটা ঈদের পর বোর্ড সভায় ঠিক হবে বলে জানালেন সভাপতি।
আইসিসি সভাপতি হওয়ায় বিসিবির সাবেক সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামাল এমপিকে দেয়া সংবর্ধনা ও ইফতার অনুষ্ঠানের মাঝে বিসিবি সভাপতি কথা বললেন সাকিবের প্রসঙ্গে। নানাবিধ অভিযোগে সাকিবকে ছয় মাসের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করেছে বিসিবি এবং আগামী দেড় বছর তাকে বিদেশে খেলার জন্য অনুমতি না দেয়ারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। নিজের অপরাধ স্বীকার করে এবং ভবিষ্যতে আর অসদাচরণ করবেন না বলে কথা দিয়ে শাস্তি পুনর্বিবেচনার আবেদন করেছেন সাকিব।
যদিও কথাবার্তায় মনে হল- বিসিবি সভাপতি সাকিবের ব্যাপারে একটু নমনীয় হয়েছেন; কিন্তু তিনি বলছেন, সিদ্ধান্তটা বোর্ড সভায় হতে হবে, ‘ওর ব্যাপারে আমরা যে সিদ্ধান্তটা নিয়েছিলাম, সেটা ছিল বোর্ডের। ন্যাচারালি এখন আমরা যাই করতে চাই না কেন, ওর আপিলকে বোর্ডের সামনেই প্লেস করতে হবে। যেহেতু বোর্ডের সিদ্ধান্ত, তাই আপিলও বোর্ডের বিবেচনা করা উচিত। আর সাত-আট দিন পর ঈদ। দুই-চার দিনের মধ্যে সব বন্ধ হয়ে যাবে। এর মধ্যে একটা বোর্ড মিটিং ডেকে সিদ্ধান্ত নেয়া কঠিন। আমার মনে হয়, ঈদের পর যত দ্রুত সম্ভব একটা বোর্ড মিটিংয়ে আমরা তার আপিলের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেব।’
তবে পাপনই পরিষ্কার করে দিলেন যে, সাকিবের শাস্তি কমলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের দলে তার ফেরার কোনো সম্ভাবনা নেই, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে আমি তার কোনো সম্ভাবনা দেখি না। এর অনেক কারণ আছে। এই মুহূর্তেই এই সফরে ফেরার সম্ভাবনা তার খুবই ক্ষীণ।’
এই সফরে না ফিরলেও সাকিবকে দ্রুত ফেরাতে যে পাপন আগ্রহী সেটাও বোঝা গেল। সাকিবের চিঠির ভাষা এবং সাম্প্রতিক আচরণে তিনি অন্তত খুশি বলেই বললেন, ‘এতো অল্প সময়ে কাউকে জাজ করা যায় না। তবে ওর কিছু উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ওর চিঠিটা খুবই সুলিখিত। খুবই ভালো একটা চিঠি লিখেছে সে। আমার কাছে ব্যক্তিগতভাবে তার ভাষা ও উপস্থাপন খুব ভালো লেগেছে। এবং যেদিন তাকে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে, তারপর থেকে তার কোনো আচরণই আমাদের কাছে নেগেটিভ মনে হয়নি। এই সময়ে তার আচরণ খুবই ইতিবাচক ছিল। এই প্রথম সম্ভবত ওর কাছ থেকে এই ধরনের আচরণ দেখলাম আমরা। এটা ভালো লক্ষণ।’
সাকিবকে কেন দ্রুত মাঠে দেখতে চান, সে ব্যাখ্যা দেয়ার পাশাপাশি পাপন বললেন, এর আগে অনেকবার এমন শাস্তির ইঙ্গিত দিলেও সাকিব সেটা ধরতে পারেননি, ‘একটা ব্যাপার হলো, আমরা ক্রিকেটারদের বিপক্ষে না। আর সাকিবের মতো স্টার খেলোয়াড় আমাদের প্রতি ম্যাচে খেলুক, এটা আমরা সবাই চাই। ও আমাদের গৌরব। আমরা চাচ্ছি, খেলার সাথে সাথে মানবিক যে গুণাবলী দরকার, সেটার উন্নতি হোক। যেসব আচরণ টিমের ওপরেই প্রভাব ফেলে, দর্শকদের ওপরে প্রভাব ফেলে; সেগুলোর উন্নতি করা হোক। আমরা এ জন্য তাকে সতর্ক করেছি, মৌখিকভাবে বলেছি, তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ করেছি; এরপর তো আর কিছু করার ছিল না। এগুলো ছিল সিগন্যাল। সে সিগন্যাল না মানলে বড় শাস্তি তো আসবেই।’
তবে পাপন স্বীকার করলেন যে, এরকম ধারাবাহিক আচরণগত সমস্যার ক্ষেত্রে শুধু শাস্তি দেয়াটাই কাজ হতে পারে না বোর্ডের। সাকিবসহ যাদেরই আচরণগত সমস্যার অভিযোগ আছে, সবাইকে নিয়ে কাজ করার উদ্যোগ বিসিবি নিচ্ছে বলেও তিনি জানালেন, ‘সাকিবসহ সবাইকে ডেভলপ করার দায়িত্ব আমাদের আছে। খেলোয়াড় কথা না শুনলে তাকে বাদ দিলেই তো সমাধান হয় না। আমরা এসব নিয়ে আলোচনা করছি। প্রয়োজনে বাইরে থেকে বিশেষজ্ঞ এনে কাজ করা হবে।’