যাত্রীদের লাশ পরীক্ষা করতে ডাচ বিশেষজ্ঞ দল ইউক্রেনে
প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০১৪, ২২:৫৪
মালয়েশিয়ার বিধ্বস্ত যাত্রীবাহী বিমানের আরোহীদের মরদেহ পরীক্ষার জন্য নেদারল্যান্ডসের একদল বিশেষজ্ঞ ইউক্রেনে গেছেন। তারা সেখানে গিয়ে তিনটি মরদেহ গতকাল পরীক্ষা করেন। ইউক্রেনের একটি রেল স্টেশনে তারা লাশগুলো পান। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, লাশগুলো তখনো রুশপন্থি বিদ্রোহীদের জিম্মায় ছিল। বাকি লাশগুলো পরীক্ষার সুযোগ পাওয়া যাবে কি না সে ব্যাপারে তারা নিশ্চিত নন বলে জানান। বিদ্রোহীদের শক্ত ঘাঁটি ডনেস্কে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় আতঙ্কে আন্তর্জাতিক তদন্ত দল সেখানে অবস্থান করতে পারছেন না। গতকাল পর্যন্ত এই বিমান বিধ্বস্ত হবার রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। তবে ইউক্রেন আগের মতোই দাবি করেছে, রুশপন্থিরাই ঘটনার জন্য দায়ী।
এদিকে, ইউক্রেনের জরুরি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমানটির যাত্রীদের ২৫১ টি পূর্ণ লাশ এবং আরো ৮৬ জনের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পাওয়া গেছে। মোট ২৭২ জন লাশের হিসাব মেলানো গেছে বলে তারা জানান। তারা জানান, রুশ সীমান্তের কাছে আরো ২১ টি লাশ পড়েছিল বলে তারা জানান।
এদিকে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদেরকে ইউক্রেনে মালয়েশীয় বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার এলাকায় নিরাপদে প্রবেশের সুযোগ দেয়া জরুরী। সোমবার ভোরের দিকে ক্রেমলিন প্রকাশিত একটি ভিডিও ভাষণে পুতিন অঙ্গীকার করেন, ইউক্রেন সংঘাত সমাধানের ব্যাপারে রাশিয়া প্রয়োজনীয় সবকিছু করবে। গত সপ্তাহে মালয়েশীয় বিমান ভূপাতিত হওয়ার পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করলেন। তিনি বলেন, ‘ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের সংঘাত সামরিক পর্যায় থেকে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ও কূটনৈতিক সমাধানের পর্যায়ে নিয়ে যেতে রাশিয়া সর্বাত্মক চেষ্টা করবে।’
নেদারল্যান্ডসের রাজধানী আমস্টার্ডাম থেকে কুয়ালালামপুরগামী মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৭৭ বিমানটি বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক সময় ১৪টা ১৫ মিনিটে রুশ সীমান্তের ৫০ কিলোমিটার কাছে বিধ্বস্ত হয়। বিমানটিতে নেদারল্যান্ডসের ১শ’ ৯৩ জন, অস্ট্রেলিয়ার ২৭ জন, মালয়েশিয়ার ৪৩ জন, ইন্দোনেশিয়ার ১২ জন ও যুক্তরাজ্যের ১০ জন, জার্মানীর চার জন, বেলজিয়ামের ৪ জন, ফিলিপািইনের তিন জন এবং কানাডা ও নিউজিল্যান্ডের একজন করে যাত্রী ছিলেন। এদের মধ্যে ৮০ জনই শিশু ছিল।