থানায় হাত-পা বেঁধে নাকে পানি ঢালা হয়
প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০১৪, ২২:৫৭
থানায় হাত-পা বেঁধে নাকে পানি দিয়ে লাঠি দিয়ে পেটানো হয়। এক পর্যায়ে মেঝেতে পড়ে গেলে তার মাথা বুট জুতা দিয়ে থ্যাঁতলানো হয়। দুই পায়ের হাঁটুতে লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। বুকে লাঠি দিয়ে আঘাত করলে ক্রমেই তার চিত্কার ক্ষীণ হয়ে আসে। এক পর্যায়ে থানাতেই তিনি মারা যান। এই নির্মম নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের রিমান্ডে থাকা মিরপুর থানার এসআই জাহিদুর রহমান। সুজনকে গ্রেফতার অভিযানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবকিছুই থানার ওসি সালাউদ্দিন খান অবগত ছিলেন বলে জানান এসআই জাহিদ। তিনি আরো জানান, নির্যাতনের পর থানায় মারা যাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার ইমতিয়াজ আহমেদের সাথে ওসি নিজেই কথা বলেছেন। উপ-কমিশনার বিষয়টি অসুস্থ হয়ে মারা গিয়েছে বলে সাজাতে বলেন। এজন্য নিহত সুজনকে অসুস্থ বলে মিরপুরের লতিফ ক্লিনিকে নেয়া হয়। সেখানে চিকিত্সকরা এক দফা মৃত ঘোষণা করলে আবারও সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে লাশ পরে পুলিশের গাড়িতে করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে রেখে যাওয়া হয়।
মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট ডিবি পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, গতকাল ছিল রিমান্ডের তৃতীয় দিন। রিমান্ডে নেয়া এসআই জাহিদ ও সোর্স নাসিমকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জাহিদের দেয়া তথ্য সোর্স নাসিমের দেয়া বক্তব্যের সাথে ক্রসচেক করা হয়।
তবে ব্যবসায়ী মাহবুবুর রহমান সুজন হত্যার অভিযোগে শিগগির গ্রেফতার অথবা ক্লোজ হচ্ছেন না মিরপুর মডেল থানার ওসি সালাউদ্দিন আহমেদ খান। বিচার বিভাগীয় তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) একাধিক সূত্র। তবে এই হত্যাকাণ্ডে বিচার বিভাগীয় তদন্তে তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে অবশ্যই তাকে গ্রেফতার করা হবে বলে ডিএমপি সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।
গত ১২ জুলাই রাতে এসআই জাহিদের নেতৃত্বে একটি দল রাজধানীর শঙ্করের পশ্চিম জাফরাবাদের বাসা থেকে সুজন, তার স্ত্রী ও পাঁচ বছর বয়সী ছেলেকে আটক করে মিরপুর থানায় নিয়ে যায়। থানার ভিতর সুজনকে অন্য একটি কক্ষে আটকে রেখে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বলে পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ।
এদিকে ঘটনার পর পরই ডিএমপি মিরপুর বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার জসিম উদ্দীনকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন মিরপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার সাখাওয়াত হোসেন ও মিরপুর বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন) তোফাজ্জল হোসেন। সাতদিনের মধ্যে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দাখিল করার কথা থাকলেও তদন্ত কাজ শেষ না হওয়ায় আবারও সাতদিন সময় বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে তদন্ত কমিটি ১৮ জনের সাক্ষ্য নিয়েছেন। এর মধ্যে এসআই জাহিদও রয়েছেন। এছাড়াও সুজনের স্ত্রীকে দুই দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তৃতীয় বার তাকে চিঠি দিয়ে আবারও মিরপুর মডেল থানায় এসে নির্যাতনের ঘটনা বর্ণনা করার জন্য অনুরোধ করেছে কমিটি। এসব কাজ সম্পন্ন হলে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত উপ-কমিশনার জসীম উদ্দিন।