কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা ঘোষণা

চলতি অর্থ বছরের (২০১৪-১৫) কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এবারের নীতিমালায় বেশকিছু নতুন বিষয় সংযোজন করা হয়েছে। নতুন এসব উদ্যোগের ফলে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলে জনসাধারণের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তারা। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় গভর্নর ড. আতিউর রহমান চলতি অর্থ বছরের জন্য ওই নীতিমালা ঘোষণা করেন। ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক এসএম মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী, এসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান আলী রেজা ইফতেখার, কৃষি ঋণ ও আর্থিক সেবাভুক্তি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক প্রভাষ চন্দ্র মল্লিক প্রমুখ। এ সময় বেশিরভাগ ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে উল্লেখ করা হয়, চলতি অর্থ বছরে আগের অর্থ বছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ছয় দশমিক ৫৪ শতাংশ বাড়িয়ে ১৫ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা ঋণ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত অর্থ বছরে ব্যাংকগুলো ১৬ হাজার ৩৬ কোটি ৮১ লাখ টাকার কৃষি ঋণ বিতরণ করেছে। যা লক্ষ্যমাত্রার ১০৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ। নতুন নীতিমালায় এবার ক্যামেলস রেটিংয়ের ক্ষেত্রে অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে কৃষি ঋণ বিতরণে ব্যাংকগুলোর সাফল্য বিবেচনা করা হবে। এক্ষেত্রে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনার রেটিং-এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, শস্য খাতে ঋণ বিতরণ, চার শতাংশ রেয়াতি হারে ঋণ বিতরণ, নিজস্ব শাখার মাধ্যমে ঋণ বিতরণ এবং আদায়যোগ্য ঋণের বিপরীতে আদায়ের হারকে বিবেচনা করা হবে। এছাড়া ১০ টাকার হিসাব সচল রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০০ কোটি টাকার আবর্তনশীল পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন, ঋণের ওভারলেপিং রোধে ক্ষুদ্রঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান নির্বাচন, ফসল ভিত্তিক বীজ উত্পাদন, ঋণ নিয়মাচার প্রভৃতি নতুন নীতিমালায় সংযোজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে গভর্নর বলেন, কৃষি ঋণের গুণগত ও পরিমাণগত পরিবর্তন আনতে হবে। এজন্য স্বচ্ছ প্রক্রিয়া ও হয়রানিমুক্তভাবে ঋণ বিতরণের কথা বলেন তিনি। গভর্নর বলেন, কৃষকরা ঋণ নিয়ে জালিয়াতি করে না। বরং অন্যান্য বড় বড় ঋণ দিয়েই তা আদায় করা কঠিন হয়ে যায়। কৃষকদের ঋণ দিলে তা টেকসই অর্থনীতির জন্য সহায়ক হবে বলে তিনি মনে করেন।