ফ্লাইওভারের প্রান্তে চালকদের স্বেচ্ছাচারিতা, তীব্র যানজট

মেয়র মো. হানিফ ফ্লাইওভারে উঠতে ও নামতে যে পয়েন্টগুলো আছে, সেখানে যত্রতত্র গাড়ি ফেলে রাখা হচ্ছে। এর ফলে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। যাত্রীদের ঘন্টার পর ঘন্টা পোহাতে হয় দুর্ভোগ। এসব স্থানে যে ট্রাফিক পুলিশ থাকে না, তা নয়। তবে তারা ব্যস্ত অন্য কাজে। যানবাহন থামিয়ে ঘুষ গ্রহণকেই গুরুত্বপূর্ণ কাজ বলে মনে করে তারা। ফ্লাইওভার কর্তৃপক্ষের যে নিজস্ব নিরাপত্তা কর্মী আছে তারাও দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে জনগণের ভোগান্তি দেখে। গত শনিবার রাতে ফ্লাইওভার ঘুরে দেখা গেছে, ফ্লাইওভারে ঢোকার মুখে যেখানে-সেখানে গাড়ি ফেলে রাখা হয়েছে। যার কারণে ফ্লাইওভার ব্যবহারকারী যানবাহন যেতে পারছে না। ফ্লাইওভার হওয়ার আগে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তায় যেভাবে যানজটে দীর্ঘ সময় আটকে থাকত যাত্রীরা, ফ্লাইওভার হওয়ার পরও ঠিক একইরকম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে যাত্রীরা। ফ্লাইওভারের পশ্চিম প্রান্তের শেষ বকশিবাজারেও দীর্ঘ যানজট দেখা গেছে। একই অবস্থা ডেমরা রোডে নামার সময়ও। বকশিবাজারে ফ্লাইওভারের প্রবেশমুখে কাভার্ড ভ্যান, ট্রাক ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহন সারিবদ্ধভাবে ফেলে রাখা হয়। বকশিবাজার থেকে চানখারপুল মোড় পর্যন্ত অর্ধ কিলোমিটার এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রধান সড়কের উপর কার্ভার্ড ভ্যান ও ট্রাক রেখে মালামাল উঠানো-নামানোর কাজ করে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে এই কাজ। তবে সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাভার্ড ভ্যান ও ট্রাকে মালামাল উঠানো-নামানো হয় বেশি। অথচ চানখারপুল মোড় ও বকশিবাজার মোড়ে কর্তব্যরত পুলিশ দাঁড়িয়ে যাত্রীদের ভোগান্তি দেখে। ওই রাতে দেখা গেছে, দীর্ঘক্ষণ যানজটে আটকা পড়ে আছে আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলামের একটি অ্যাম্বুলেন্স, প্রাইভেট কার ও কয়েকটি গাড়ি। কষ্ট সহ্য করতে না পেরে আটকে পড়া যাত্রীরা কাভার্ড ভ্যান ও ট্রাক চালকদের অনুরোধ করে, যাওয়ার একটা ব্যবস্থা করে দিতে। জবাবে চালকরা বলে, ‘ফ্লাইওভারের এ পথে কেন আসছেন? জানেন না এই রাস্তা বন্ধ। আমাদের কাজ শেষ হলে আপনারা যাবেন।’ সোনার বাংলা ট্রান্সপোর্টের লোডিং ম্যানেজার আশরাফ ও আব্দুর রশীদ, চান্দা ট্রান্সপোর্টের ম্যানেজার আলমগীর, নিউ চান্দা ট্রান্সপোর্টের ম্যানেজার বাদল রেজা, মেসার্স সাগর ট্রান্সপোর্টের ম্যানেজার সুকুমার, ইসলামিয়া ট্রান্সপোর্টের ম্যানেজার মো. রমজান আলী, মেসার্স পারভেজ ট্রান্সপোর্টের ম্যানেজার শহীদুল, সোনারগাঁও ট্রান্সপোর্টের ম্যানেজার হারুন অর রশীদ, মিল্লাত ট্রান্সপোর্ট, অগ্রণী ট্রান্সপোর্টের ম্যানেজার মো. ফরিদ, নিউ টাঙ্গাইল ট্রান্সপোর্টের ম্যানেজার সবুজ, মেসার্স জনতা ট্রান্সপোর্ট, জয় পরিবহন এজেন্সীর ম্যানেজার নূর হোসেনসহ অর্ধশত পরিবহন ব্যবসায় জড়িত প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার ও চালকদের সঙ্গে আলাপকালে তারা ফ্লাইওভারে ওঠার রাস্তায় গাড়ি রেখে মালামাল উঠা-নামা করা, ফ্লাইওভারের অব্যবস্থাপনা ও পুলিশকে ঘুষ দেয়ার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। জানা যায়, রাতে প্রতিটি কাভার্ড ভ্যান ও ট্রাকের জন্য পুলিশকে একশ টাকা দিতে হয়। দিনের বেলায় প্রতিটি কাভার্ড ভ্যানকে এক হাজার থেকে দুই হাজার টাকা দিতে হয়। ঘুষ দিয়েই ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ীরা ফ্লাইওভারে উঠার মুখে ট্রাক ও কাভার্ভ ভ্যান রেখে মালামাল উঠানো-নামানোর কাজ করে। ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ীরা জানান, চানখারপুল থেকে বকশিবাজার পর্যন্ত ফ্লাইওভারে উঠার সড়কের দুই পাশের রাস্তা মেরামত করে দিলে কার্ভার্ড ভ্যান ও ট্রাক সড়কে রাখার প্রয়োজন হত না। এ ব্যবসার সঙ্গে হাজার হাজার লোক জড়িত। তারা নিমতলী মোড় থেকে চানখারপুল মোড় পর্যন্ত ফ্লাইওভারে উঠার সড়কের দুই পাশের রাস্তার মেরামত করার দাবি জানান। যানজটের কারণে দেশের সর্ববৃহত্ চিকিত্সাসেবা কেন্দ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-২ এ রোগী বহনকারী যানবাহন ও অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশ করতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। ফ্লাইওভারে উঠার সড়কের পাশের রাস্তা মেরামত করে দিলে রোগীদের এ ভোগান্তি হতো না। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি হয় বকশিবাজার মোড়, চানখারপুল মোড়, গুলিস্তান, যাত্রাবাড়ী, থানার সামনে ডেমরা রোডে ও মুক্তি সরণীর শনিরআখড়া এলাকায়। এসব পয়েন্টে ফ্লাইওভারে ওঠা-নামা করার সময় ট্রাক, বাস ও অন্যান্য যানবাহন এলোমেলোভাবে দাঁড় করিয়ে রেখে যাত্রী উঠা-নামা করায়। সেখানে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ দাঁড়িয়ে নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। কেউ কেউ দাঁড়িয়ে গল্প করে। কাউকে কাউকে দেখা যায় ট্রাক-বাস ও পণ্যবাহী যানবাহন থেকে উেকাচ আদায় করতে। ট্রাফিক পূর্ব জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার মাইনুল হাসান বলেন, যাত্রাবাড়ী, শনিরআখড়াসহ তার এলাকায় ফ্লাইওভারে উঠার মুখে যত্রতত্র বাস-ট্রাক কিংবা অন্যান্য যানবাহন দাঁড় করিয়ে রেখে যানজট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ট্রাফিক দক্ষিণ জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার খান মোহাম্মদ রেজোয়ান বলেন, ফ্লাইওভারে উঠার বকশিবাজার মোড় থেকে চানখারপুল মোড় পর্যন্ত যানজট সৃষ্টিকারী, কাভার্ড ভ্যান ও ট্রাকে মালামাল উঠানো- নামানোকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।