ঈদের ছুটিতে বন্ধুর বাড়ি
প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০১৪, ১৯:৪৩
মা-বাবা, ভাইবোন নিয়ে পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ তো সবসময়ই ভাগাভাগি হয়। কিন্তু এর ব্যতিক্রম যে একেবারেই হয় না তা নয়! ঈদের ছুটিতে অনেকেই বন্ধুর বাড়ি বেড়াতে যান। নতুন জায়গা দেখা কিংবা নতুন মানুষের সঙ্গ পাওয়ার জন্য হলেও ঈদের ছুটি কাটাতে ঘুরে আসতে পারেন কাছের কোন বন্ধুর বাড়ি থেকে। তরুণ প্রজন্মের অনেকেরই ঈদে বন্ধুর বাড়ি বেড়াতে যাবার প্রবণতাটা একটু বেশিই থাকে। তাই মন চাইলে কিংবা না চাইলেও বন্ধুর বাড়িতে উদযাপন করতে পারেন এবারের ঈদ।
‘ধুর! ঢাকায় ঈদ আর কত? এবার ঢাকার বাইরে কোথাও ঈদ করতে চাই দোস্ত’ বিরক্তির সুরে বন্ধু শাওনকে বলছিলেন অভি । দুই বন্ধুই পড়েন ইউনিভার্সিটি অফ ডেভলপমেন্ট অল্টারনেটিভে। এই ঈদে অভি মোটামুটি সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছে ঈদটা ঢাকার বাইরে বন্ধুর গ্রামের বাড়িতে করবে। তবে সেটা অবশ্যই মা-বাবার অনুমতিক্রমে। বলা মাত্রই অনুমতিও মিলল। এই সুযোগ হাতছাড়া করতে নারাজ অভি।
গন্তব্য রংপুর। অভির ক্ষেত্রে এ অভিজ্ঞতা নতুন হলেও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী সাইদুরের ক্ষেত্রে এ অভিজ্ঞতা পুরনো। প্রতি বছর ঢাকায় ঈদ করলেও গেলো ঈদের ছুটিটা সে কাটিয়ে আসে বন্ধু জিয়া চৌধুরীর উলীপুরের বাড়িতে।
যাওয়ার পথে সইতে হয়েছিল নানান বিড়ম্বনা আর ঝক্কি-ঝামেলা। তাতে কি? বন্ধুর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানো মাত্রই যেন সব ক্লান্তি নিশ্চিন্তে অবসর নিল। বাড়ি পৌঁছানোর সাথে সাথেই আদর-আত্তির ধুম পড়ে গেল। গ্রামের বাজার আর মেঠোপথে ঘুরে বেড়ানো কিংবা পুকুরে মাছ ধরার মজার সব কান্ডতো একমাত্র প্রিয় বন্ধুটির বাড়িতেই করা সাজে। বন্ধুর সঙ্গে সময় কাটানো, সেটা যেকোনো সময়ই আনন্দের। ছুটি শেষে ফেরার পথেও রাস্তায় করুণ দশা। তবে যাওয়া-আসাতে এত ঝামেলা থাকা সত্ত্বেও ঈদের আনন্দ মলিন হয়নি এক মুহূর্তের জন্যও। শুধু তাইই নয় ফিরে এসে অন্যদের কাছে নানান অভিজ্ঞতার কথা আর মজার সব স্মৃতির কথা বন্ধুমহলে শেয়ার করার আনন্দতো আছেই।
‘ঈদে ঢাকার বাইরের বন্ধুদের সঙ্গে ফোনে কথা হয়, একসঙ্গে ছুটি কাটানোর সুযোগ আমার এখনো হয়নি। তবে ঢাকার বাইরে ঈদ করার ইচ্ছাটা আমারও বলে জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাফাত ।
ঈদের ছুটি যদি কাটে বন্ধুর বাড়িতে, তাহলে আনন্দের পরিমাণ বেড়ে হয়ে যায় দ্বিগুণ। ঢাকাবাসী তরুণদের জন্য ঈদ নির্ঝঞ্ঝাট খুশির দিন। কিন্তু ঢাকার বাইরের বন্ধুরা কিসের টানে এত ঝক্কি সামলে বাড়ির পথে ছোটেন, সেই রহস্যের সমাধান খুঁজতে অনেকে তাদের সঙ্গী হন। সেই সঙ্গে খানিকটা হাওয়া বদলও একটা কারণ বৈকি!