চারদিকে তারুণ্যের জয়ধ্বনি

‘তরুণরাই একটি দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যত্ কর্ণধার’। এই বাক্যটির যথার্থতা একটি দেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ— এসব উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্রে অনেক তাত্পর্যের সাথে উপলব্ধি করা যায়। দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে এবং এর পাশাপাশি বেড়ে চলেছে রক্তবাহী রোগের সংখ্যাও। এ কারণে দেশে বিশুদ্ধ রক্তের চাহিদা ও প্রয়োজনীয়তা দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। এই অতীব জরুরি বিষয়টির (রক্ত) প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে বিভিন্ন সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে দেশে রক্ত সম্পর্কিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গড়ে উঠেছে, ঠিক তেমনি সাভারস্থ একটি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া স্থানীয় কয়েকজন এলাকার তরুণের স্বীয় প্রচেষ্টায় গড়ে উঠে রক্ত সম্পর্কিত একটি সংগঠন (নিবিড় স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন)। সংগঠনটি ২০১০ সালে প্রাথমিকভাবে তাদের কার্যক্রম শুরু করে। একেবারে সূচনালগ্নে মাত্র ১০ তরুণ যুবক স্থানীয় রক্তের চাহিদা মেটাতে স্বেচ্ছায় রক্ত প্রদান করতে শুরু করে। পর্যায়ক্রমে এই তরুণরা স্বেচ্ছায় রক্তদানে স্থানীয় তরুণদের উদ্বুদ্ধ করতে নানারকম কার্যক্রম হাতে নেয়। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য দিবসগুলোতে যেমন: বিশ্ব রক্তদাতা দিবস, বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবস-এ বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা ও এলাকার স্থানীয় তরুণদের স্বেচ্ছায় রক্ত দেয়ার ক্ষেত্রে সচেতনতামূলক সেমিনারের আয়োজন করেন, যেখানে একজন স্থানীয় ডাক্তার স্বেচ্ছায় রক্তদানে নানা বিষয় সম্পর্কে তাদের অবগত করেন এবং এর পাশাপাশি বিভিন্নরকম রক্তবাহিত রোগ সম্পর্কে পরামর্শমূলক তথ্য প্রদান করেন। তাছাড়া আমরা যদি রক্তের পরিস্থিতি বা রক্তের চাহিদার পরিসংখ্যানের দিকে তাকাই তাহলে দেখা যায় যে, দেশে প্রতিদিন ১ হাজার ৩৫৬ ব্যাগ রক্ত প্রয়োজন। কিন্তু সেখানে সংগ্রহ হচ্ছে মাত্র ৩৫৬ ব্যাগ রক্ত। সংগৃহীত রক্তের প্রায় ৬০ শতাংশ আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে পাওয়া যায়। ৩০ শতাংশ পাওয়া যায় স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের কাছ থেকে। ১০ শতাংশ রক্তের চাহিদা মিটছে পেশাদার রক্ত বিক্রেতাদের কাছ থেকে। আর এই পেশাদার রক্তদাতাদের রক্তের মাধ্যমে দেশে ভয়াবহ রোগ জীবাণু ছড়িয়ে পড়েছে। এরূপ ভয়াবহ পরিস্থিতিতে রক্তের চাহিদার চেয়ে সরবরাহ অপ্রতুল।