বিষয় ভাবনা
নাজমা আকতার তিথি
প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০১৪, ১৯:৪৬
শৈশব থেকে কেউ অসুস্থ হলে একধরনের খারাপ লাগা কাজ করতো তিথির। ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে ডাক্তার রোগের ধরন অনুসারে একেকজনকে একেক ধরনের ওষুধ দিয়ে থাকেন। তার চিন্তা ছিল, অসুখ তো অসুখই। ওষুধ কেন ভিন্ন হবে? বড় হতে হতে জানতে পারেন, অসুখের যেমন পার্থক্য আছে, পার্থক্য আছে ওষুধের। তার মাথার ভেতরে গেঁথে যায়, একজন মানুষকে সুস্থ করার জন্য ওষুধ হচ্ছে সবচেয়ে বেশি জরুরি। আর এ ওষুধ তৈরি করে থাকে ফার্মেসি বিভাগ থেকে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। তারা নিত্যনতুন ওষুধ আবিষ্কার করে। কি মাত্রায় একটি ওষুধ খেতে হবে, তা নির্ধারণ করে থাকে। এ কারণে তিথিও ঝুঁকেন ফার্মেসি বিভাগে। ভর্তি হন ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকে। অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যায়, কোনো বিষয়ে ভর্তি হলে কয়দিন পরে সে বিষয় পড়ার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। তিথির ক্ষেত্রে এমনটি ঘটেনি। ভর্তির শুরু থেকে এখনো পূর্ণ মনোযোগে পড়াশোনা করছেন। বর্তমানে মাস্টার্স করছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর অ্যাডভান্স রিসার্চের একটি প্রকল্পে কাজ করেছেন। দুটি আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে দুটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে ইতিমধ্যে। স্থানীয় গাছ দিয়ে ক্যান্সারের ওষুধ বানানো যায় কিনা, এ নিয়ে গবেষণা করছেন ।
ফার্মেসিতে পড়ার ক্যারিয়ার সম্পর্কে বলেন, ‘বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানি ওষুধ উত্পাদন, মান নিয়ন্ত্রণ, গবেষণাক্ষেত্রে এ বিষয়ের আলাদা চাহিদা রয়েছে। ওষুধ অধিদপ্তর, বিসিএসআইআর, বায়োটেকনোলজি প্রভৃতি ক্ষেত্রে ফার্মাসিস্টরা কাজ করেন। চাইলে যে কেউ সাধারণ কোনো চাকরিতে সহজে যেতে পারে।’
আমাদের দেশে ফার্মেসি ক্ষেত্রে অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। আগে যেখানে বেশিরভাগ ওষুধ বাইরে থেকে আনতে হত, আমরা মোটামুটি স্বয়ংসম্পূর্ণ। বাইরের অনেক দেশে আমাদের ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে। তিথি বলেন, ‘আমরা আমাদের দেশের ৯৫% ওষুধ নিজেরা তৈরি করে থাকি। বাকি ৫% ওষুধ ভ্যাকসিন এবং হরমোন জাতীয়। এগুলোর চাহিদা অনেক বেশি না থাকায় তা আমাদের দেশে এখনো উত্পাদিত হচ্ছে না।’
এগুলো উত্পাদন করতে চারটি জিনিস প্রয়োজন-ল্যাব সুবিধা, যন্ত্রপাতি, অর্থ এবং ফার্মাসিস্ট। বাইরের দেশে রপ্তানি প্রসঙ্গে তার মত, ‘আমাদের দেশেও কোয়ালিটিপূর্ণ ওষুধ তৈরি হচ্ছে। অনেক দেশে রপ্তানি হচ্ছে। ২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কায় সুনামি হয়েছিল। বাংলাদেশ সরকার যে সাহায্য দিয়েছিল, তাতে ওষুধও অন্তর্ভুক্ত ছিল। ওরা আমাদের দেশের ওষুধের কার্যকারিতা দেখতে পেয়ে পরবর্তীতে আমাদের দেশ থেকে ওষুধ আমদানি করে আসছে। এভাবেও বিভিন্ন দেশে বাজার সৃষ্টি করা সম্ভব।’