সারিয়াকান্দির তিন হাজার বাড়িঘর বিলীন
আমিনুল ইসলাম হিরু ,সারিয়াকান্দি (বগুড়া) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০১৪, ২২:০৬
যমুনার অব্যাহত ভাঙনে নবনির্মিত সারিয়াকান্দি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি পুরোটাই হুমকির মুখে পড়েছে। ইতিমধ্যে রৌহাদহ বাজারের শতাধিক দোকানপাট অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। একের পর এক গ্রাম জনপদ, হাটবাজার, বিভিন্ন স্থাপনা যমুনার গর্ভে বিলীন হলেও ভাঙনরোধে উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রস্তাব (ডিপিপি) পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের লাল ফিতায় বন্দি রয়েছে। গত এক সপ্তাহে ওই বাঁধে আশ্রিত ৩ হাজার পরিবার তাদের বাড়িঘর অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে। বাড়ি ভাঙা মানুষগুলো রৌহাদহ, কড়িতলা পাকা সড়ক, উঁচুভিটা, আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। এদিকে ওই বাঁধ হুমকির মুখে পড়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ড আদবাড়িয়া স্কুলের পিছন থেকে রৌহাদহ পর্যন্ত আরো একটি বিকল্প রিংবাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে। গত সোমবার বগুড়ার জেলা প্রশাসক শফিকুর রেজা বিশ্বাস, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডিজাইন সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোতাহার হোসেন, নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল বাছেদ, নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম সরকার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর শাহী সুমন নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন।
তীব্র ভাঙনের মুখে পাউবো গত এক সপ্তাহে সাড়ে ৩ হাজার বালি ভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, গ্রামবাসীর বাধার কারণে নতুন রিংবাঁধ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। অপরদিকে গ্রামবাসীর অভিযোগ বাঁধের এ্যালাইনমেন্ট নদীর থেকে দূরত্বে না নিয়ে ভাঙন এলাকার কাছ দিয়ে নেয়া হয়েছে। ফলে প্রস্তাবিত বাঁধ কয়েক দিনেই নদীগর্ভে বিলীন হবে ।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, দেবডাঙা থেকে রৌহাদহ পর্যন্ত ভাঙন প্রবণ এলাকায় ৬ কি: মি: যমুনার ডান তীর সংরক্ষণ ও কয়েকটি বিকল্প বাঁধ নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে ৩০৪ কোটি টাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রস্তাব (ডিপিপি) পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে । ওই প্রকল্প অনুমোদন হলে ভাঙনরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গঙ্গাচড়ায় মূল বাঁধ হুমকির মুখে
উজান থেকে নেমে আসা পানির তোড়ে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ধসে গেছে ব্লক পিচিং। ফলে হুমকির মুখে রয়েছে তিস্তা প্রতিরক্ষা ডানতীর বাঁধ। গত কয়েক দিনের অব্যাহত পানি বৃদ্ধির কারণে উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের বৈরাতী নামক স্থানে পানির তোড়ে মার্জিনাল ডাইকের ১শ’ ফুট এলাকার ব্লক পিচিং ধসে গেছে। আর মার্জিনাল ডাইক থেকে তিস্তা প্রতিরক্ষা ডানতীর বাঁধের দূরত্ব ৭ থেকে ১০ ফুট। এলাকাবাসী আশংকা করছেন, যেকোন সময় পানির তোড়ে মার্জিনাল ডাইক ভেঙ্গে ভাঙ্গন এসে আঘাত করবে মূল বাঁধে।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী তবিবুর রহমান বলেন, এরকম অনেক জায়গা ঝুঁকির মুখে রয়েছে। অর্থ বরাদ্দ না থাকার কারণে কোন কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।