বড়াইগ্রামে একের পর এক বন্ধ হচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

দীর্ঘদিনেও এমপিওভুক্ত (মান্থলি পে-অর্ডার) না হওয়ায় নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় একের পর এক বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই একটি মাধ্যমিক স্কুল, তিনটি মাদ্রাসা ও একটি মাদ্রাসার উচ্চ মাধ্যমিক শাখা বন্ধ হয়ে গেছে। নিভু নিভু করে কোনরকমে টিকে আছে আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। এতে সংশ্লিষ্ট এলাকার শিক্ষার্থীরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। উপজেলায় মোট ২৩টি নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। দীর্ঘদিনেও এমপিওভুক্ত না হওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা হতাশায় ভুগছেন। এ কারণে ২০০৯ সালের মাঝামাঝিতে বন্ধ হয়ে গেছে ধানাইদহ নিম্ন মাধ্যমিক স্কুল। তারপর একে একে রাজাপুর দাখিল মাদ্রাসা, জোনাইল দাখিল মাদ্রাসা, উপজেলার একমাত্র মহিলা মাদ্রাসা, বড়াইগ্রাম মহিলা দাখিল মাদ্রাসা এবং মাড়িয়া ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার আলিম শাখা বন্ধ হয়ে যায়। এসব প্রতিষ্ঠানে ঘর, খেলার মাঠ সবই থাকলেও নেই কোন শিক্ষক বা শিক্ষার্থী। একসময় যেসব প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়াতো, বর্তমানে সেসব প্রতিষ্ঠানের পরিত্যক্ত ঘরগুলো নানা অসামাজিক কার্যক্রমের নিরাপদ স্থান হিসাবে ব্যবহূত হচ্ছে। ভরতপুর গ্রামের সাজ্জাদ হোসেন জানান, এখানকার মাদ্রাসাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অবস্থাপন্ন পরিবারের ছেলেমেয়েরা দূরে গিয়ে লেখাপড়া করলেও বিপাকে পড়েছে গরীবরা। এখন গ্রামের অনেক ছেলেমেয়েই আর লেখাপড়া করে না। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসা. শরীফুন্নেসা বলেন, প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক। তবে সরকার এমপিওকরণের উদ্যোগ নিলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।