লঞ্চে স্পেশাল সার্ভিস বলা হলেও রোটেশন অব্যাহত

বিআইডব্লিউটিএ ঢাকা - বরিশাল রুট সহ দক্ষিণাঞ্চলের নৌ - রুট গুলোতে আগামী কাল বুধবার থেকে স্পেশাল সার্ভিসের ঘোষণা দিলেও লঞ্চ মালিকরা ২৬ জুলাই পর্যন্ত রোটেশন পদ্ধতিতে লঞ্চ পরিচালনার কথা জানিয়েছে। কাল থেকে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের চাপ বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও ২৪ ও ২৫ জুলাই তারা পূর্বের ন্যায় রোটেশন পদ্ধতিতে ঢাকা ও বরিশাল উভয় প্রান্ত থেকে ৪টি করে লঞ্চ পরিচালনার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। রাজধানী ঢাকার দক্ষিণাঞ্চলের অপর রুটে চলাচলকারী লঞ্চের একই অবস্থা। এ সব রুটে যাতায়াতকারী লাখ লাখ যাত্রী ঈদ স্পেশাল সার্ভিস ঘোষণার পর টিকেটের জন্য কাউন্টার গুলোতে ধর্না দিচ্ছে। কিন্তু কোথাও লঞ্চের টিকেট মিলছে না। ঢাকা থেকে বরিশালগামী লঞ্চের টিকেট এখন সোনার হরিণ। কালো বাজারে ২/১টি লক্কর- ঝক্কর মার্কা লঞ্চের টিকেট পাওয়া গেলেও তার ভাড়া গুনতে হয় দ্বিগুণ- তিন গুণ। রোটেশন প্রথা পদ্ধতি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি কৌশলে বাড়ানো হয়েছে লঞ্চ ভাড়া। তাও আবার স্পেশাল সার্ভিসের আগেই আদায় করা হচ্ছে যাত্রীদের কাছ থেকে। ঈদে ঘরমুখে যাত্রীরা সড়ক পথের বেহাল দশা ও নৌ - পথের নৈরাজ্যকর অবস্থার কারণে ঘরে ফেরা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। গত ১৬ জুলাই বিআইডব্লিউটি’র চেয়ারম্যান শামসুদ্দোহা খন্দকার যাত্রী পরিবহন সংস্থা (যাপ) নেতা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে ঢাকায় বৈঠক করেন। ঐ বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৪ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বেসরকারি কোম্পানীর লঞ্চগুলো স্পেশাল সার্ভিস দিয়ে যাত্রী পরিবহন করবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খানের সাথে বৈঠক করে লঞ্চ মালিকরা স্পেশাল সার্ভিস দেওয়ার পাশাপাশি লঞ্চ ভাড়া কমানোর ঘোষণা দেয়। বাস্তবে সবকিছুই উল্টো ভাবে হচ্ছে। ২৪ বা ২৫ জুলাই কোন লঞ্চ স্পেশাল সার্ভিস দিচ্ছে না। ২৪ জুলাই দেশের সর্ববৃহত্ জলযান কীর্তনখোলা-২ ও বিলাস বহুল সুরভী-৭ সহ ৪টি লঞ্চই বরিশাল থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রী নিয়ে রওয়ানা হবে। আর ঢাকা থেকে ঐ দিন যাত্রী নিয়ে বরিশালের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবে সুরভী-৮ , সুন্দরবন-৭ , টিপু-৭ ও পারাবত কোম্পানীর একটি লঞ্চ। ঐ দিন যাত্রী পরিবহন না করে সুন্দরবন-৮ সহ কয়েকটি লঞ্চ ঢাকার ঘাটে নোঙ্গর করে রাখা হবে। রোটেশন পদ্ধতির সিডিউল অনুযায়ী পরদিন ২৫ জুলাই একই অবস্থায় নৌ-যান বসিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে লঞ্চ মালিকরা। ফলে ১২/১৫টি লঞ্চ যুক্ত করে ঢাকা বরিশাল রুটে যে স্পেশাল সার্ভিস দেওয়ার কথা ছিল তা শুধু ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে। আর লঞ্চ মালিকদের এ গোপন সিদ্ধান্তের কারণে টিকেট পাওয়া যাচ্ছে না কোথাও। যাত্রী ভাড়া কমানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও কৌশলে বাড়ানো হয়েছে যাত্রী ভাড়া। ঢাকা- বরিশাল নৌ- পথে যাত্রী প্রতি সরকার নির্ধারিত ভাড়া ২৫০ টাকা। কিন্তু এ রুটে সব সময়ই দেড়শ’ টাকা করে যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া আদায় করা হতো। ঈদ উপলক্ষে দেড়শ’ টাকার ভাড়ার পরিবর্তে আদায় শুরু করেছে ২২৫ টাকা করে। কেবিনের টিকেট মূল্যও বাড়ানো হয়েছে। আগে সিঙ্গেল কেবিনের ভাড়া ছিল ৯শ’ টাকা। ঈদ উপলক্ষে তা ১ হাজার থেকে ১১শ’ টাকা। ডাবল কেবিনের ভাড়া ছিল ১৭শ’ টাকা। এখন আদায় করা হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২২শ’ টাকা। লঞ্চ মালিকরাই ২৬ জুলাই স্পেশাল সার্ভিস চালুর কথা জানাচ্ছেন আবার তারাই ২৪ জুলাই থেকে বর্ধিত ভাড়া আদায় করছেন। তবু ভাড়া নিয়ে কারো কোন মাথা ব্যথা নেই। স্বজন- প্রিয়জনের সাথে ঈদের খুশি ভাগাভাগি করে নিতে যে কোন মূল্যে একটি টিকেটের জন্য ধর্না দিচ্ছেন লঞ্চের কাউন্টারে। শত অনুনয় বিনয় করেও লঞ্চের টিকেট নামের সোনার হরিণ মিলাতে পারছে না কেউ। কিছুতেই মন গলছে না লঞ্চ মালিকদের। কালো বাজারে ২/১টি লক্কর-ঝক্কর কোম্পানীর টিকেট পাওয়া গেলেও তার মূল্য দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ।