আয় নেই, তবু বাড়ছে বিনিয়োগ
সালাহউদ্দিন মো. রেজা, চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০১৪, ২২:৫৪
পানগাঁও কন্টেইনার টার্মিনাল থেকে আয়ের কোন লক্ষণ দেখা না গেলেও বিনিয়োগ বেড়েই চলেছে। ইতিমধ্যে তিন শতাধিক কোটি টাকা বিনিয়োগ হলেও প্রতিদিন বিশাল অংকের লোকসান গুণতে হচ্ছে। কারণ এখনো চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পানগাঁও পথে কন্টেইনার পরিবহনে সফলতা আসেনি। এদিকে পানগাঁও-এর বর্তমান অবকাঠামো সুবিধায় আরো বিপুল পরিমাণ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং সম্ভব হলেও এতে আরো ইকুইপমেন্ট সংযোজনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এতে আরো তিন শতাধিক কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রক্রিয়া বর্তমানে সম্পন্নের পথে বলে জানা গেছে।
ঢাকার অদূরে পানগাঁও কন্টেইনার টার্মিনাল করার জন্য চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন অথরিটির (বিআইডব্লিউটিএ) যে চুক্তি হয় তাতে ১৭৭ কোটি টাকা ব্যয়ের উল্লেখ করা হয়েছে; কিন্তু এ পর্যন্ত টার্মিনাল নির্মাণ, ইকুইপমেন্ট সংযোজন ও অবকাঠামো উন্নয়নে প্রায় তিনশ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানা যায়। এক্ষেত্রে ১৭৭ কোটি টাকার টার্মিনাল নির্মাণ ও অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যয় ছাড়াও চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পানগাঁও পর্যন্ত চলাচলের জন্য কেনা পুরাতন তিনটি জাহাজ বাবদ খরচ হয়েছে ৬৫ কোটি টাকা। দুইটি মোবাইল হারবার ক্রেন বাবদ ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা। ২টি স্ট্যাডল ক্যারিয়ার কেনা বাবদ প্রায় ১২ কোটি টাকা। নির্মাণাধীন টাগবোট বাবদ ব্যয় সাড়ে ১৬ কোটি টাকা এবং পানগাঁও টার্মিনাল এলাকায় নেভিগেশন ইকুইপমেন্ট বাবদ প্রায় ৮ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে।
পানগাঁও কন্টেইনার টার্মিনাল মূলত চট্টগ্রাম বন্দর ও বিআইডব্লিউটিএ-এর যৌথ প্রকল্প। বন্দর সংশ্লিষ্টদের মতে, যৌথ চুক্তি অনুযায়ী প্রকল্পটি ১৭৭ কোটি টাকা ধরা হলেও বর্তমানে যে অতিরিক্ত ব্যয় বন্দর করেছে তা এখনো সমন্বয় করা হয়নি। তাছাড়া পানগাঁও টার্মিনালের জন্য আরো দুইটি গ্যান্ট্রিক্রেন কেনার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। জানা যায়, ১১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ওই দুইটি ক্রেনের জন্য নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তাছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কোস্টাল পথে কন্টেইনারবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য সন্দ্বীপ চ্যানেলের চর নূরুল ইসলাম নামক স্থানে ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ড্রেজিং করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ জানান, ওই স্থানের পানির প্রবাহ এতো বেশি যে ওই স্থানে ড্রেজিং করা খুবই কষ্টসাধ্য হবে। সূত্র জানায়, ১১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ২টি গ্যান্ট্রি ক্রেনার উদ্যোগ নেয়া হলেও তা কোনভাবেই বাস্তবসম্মত নয়। কারণ পানগাঁও-এর কন্টেইনার হ্যান্ডলিং-এর জন্য যে দুইটি মোবাইল হারবার ক্রেন রয়েছে তা যথেষ্ট। এ দুইটি ক্রেনও এক প্রকার অলস পড়ে আছে। বর্তমানে প্রতিমাসে খুবই নগণ্য সংখ্যক কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়ে থাকে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেখা যায়, ২০১৩ সালের ২২ অক্টোবর থেকে কন্টেইনার পরিবহন শুরু হয়ে এখানে এ পর্যন্ত ৭৪২টি কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। এর মধ্যে ২৪৯টি পণ্য ভর্তি কন্টেইনার এবং বাকি ৪৯৩টি খালি কন্টেইনার রয়েছে। বন্দরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেখা যায়, ওই সময়কালে বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ও ইকুইপমেন্ট ভাড়া বাবদ আয় হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার ডলার। বন্দর সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ গত জুলাই মাসের ৫ তারিখে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে মাত্র ১৩টি কন্টেইনার পানগাঁও টার্মিনালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে- জাহাজের অন্যান্য খরচ বাদে তেলের খরচও উঠছে না। প্রতিমাসে পানগাঁও টার্মিনাল এবং চট্টগ্রাম বন্দরে সংশ্লিষ্ট টার্মিনালের লোকবলসহ অন্যান্য বিপুল পরিমাণ খরচ বন্দরকে বহন করতে হচ্ছে। প্রতিটি জাহাজ ১২০ কন্টেইনার পরিবহন করতে পারলেও প্রতি ভয়েজে সেটি ন্যূনতম সংখ্যক কন্টেইনার নিয়েই চলাচল করছে।
চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পানগাঁও পথে কন্টেইনার পরিবহন ব্যয় এবং সময় দুটোই যুগোপযোগী হয়নি বলে অনেকের অভিমত। এ পথে একটি জাহাজ আসা-যাওয়া করতে সময় লাগে ২৪ থেকে ৩০ ঘণ্টা। তাছাড়া এ পথে কন্টেইনার পরিবহনের ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বন্দর কোন ইন্স্যুরেন্স গ্যারান্টিও দিচ্ছে না বলে জানা গেছে।