সিলেটে পুলিশের নির্যাতনের শিকার এক ব্যবসায়ী
প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০১৪, ২২:৫৫
তুচ্ছ ঘটনায় পুলিশের ব্যাপক পিটুনিতে গুরুতর আহত হয়েছেন সুনামগঞ্জের ছাতক পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম চৌধুরীর বড়ভাই ব্যবসায়ী কামাল চৌধুরী। পাঁচ দিন ধরে তিনি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন। পুলিশ লাঠি ও বন্দুকের বাঁট দিয়ে তার হাত, পা, কোমরসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করেছে। কামাল চৌধুরীর সঙ্গে তার লন্ডন প্রবাসী ভাগিনা সামস ইসলাম, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার সালমান ইসলাম, গাড়ি চালক হাফিজকেও নির্যাতন করে পুলিশ। ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে কামাল চৌধুরীর ভাই শামীম চৌধুরী গতকাল মঙ্গলবার সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বরাবর একটি আবেদন দিয়েছেন।
পৌর মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী ইত্তেফাককে জানান, তার ভাই তাদের লন্ডন প্রবাসী ভাগিনা সামস ইসলামকে ডাক্তার দেখাতে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে গত বৃহস্পতিবার ছাতক থেকে সিলেটে আসেন। ডাক্তার দেখানোর পর কেনাকাটা করতে তারা নগরীর নয়াসড়কের উদ্দেশে রওয়ানা হন। নয়াসড়ক পয়েন্টে যাওয়ার পর গাড়ি ঘুরানো নিয়ে সেখানে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের এসআই রহিমের সাথে কামাল চৌধুরীর গাড়ি চালকের বাকবিতণ্ডা হয়। ট্রাফিক পুলিশ গাড়ির মালিককে লক্ষ্য করে গালিগালাজ করেন। এসময় সেখানে হাজির হন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি কমিশনার এজাজ আহমদ। তার সাথে কিছুটা তর্কবিতর্ক হয় কামাল চৌধুরীর। এরপর এজাজ আহমদের নির্দেশে কামাল চৌধুরী ও তার সঙ্গীদের গাড়িসহ পুলিশ আটক করে কোতয়ালী থানায় নিয়ে যায়। থানায় নেয়ার পর তাদেরকে একটি কক্ষে আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হয়।
তিনি আরো জানান, পরে ওসি আতাউর রহমান কামাল চৌধুরীকে আলাদা আরেকটি কক্ষে নিয়ে চোখ বেঁধে হাতকড়া লাগান। ৮-১০ জন পুলিশ লাঠি, বুট, রাইফেলের বাঁট দিয়ে অমানুষিক নির্যাতন চালায়। তখন কামাল চৌধুরী বলেন, আমি হার্টের রোগী, দয়া করে আমাকে মারবেন না। এমন কাকুতি-মিনতির পরও তাকে নির্যাতন করে অজ্ঞান অবস্থায় মেঝেতে ফেলে রাখা হয়।
খবর পেয়ে কালাম চৌধুরী থানায় গিয়ে ভাইকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নেয়ার দাবি জানান। পরে পুলিশ থানার ভ্যানগাড়িতে করে কামাল চৌধুরীকে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের ৩ তলার ১৭ নম্বর কেবিনে চিকিত্সাধীন রয়েছেন। গতকাল সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার মিজানুর রহমান তাকে দেখতে হাসপাতালে গেছেন। এ ব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান পৌর মেয়র কালাম চৌধুরী।
এদিকে ঘটনা তদন্তে এডিসি রহমত উল্লাহকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে রহমত উল্লাহ ইত্তেফাককে বলেন, কামাল চৌধুরী ট্রাফিক পুলিশের সাথে দুর্ব্যবহার ও ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করায় তাকে আটক করা হয়। কিন্তু থানায় নিয়ে তার উপর নির্যাতনের যে অভিযোগ উঠেছে সেটি ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা পরের দিন জানতে পারেন। এখন তিনি বিষয়টি তদন্ত করে দু’-একদিনের মধ্যে রিপোর্ট দেবেন।