সশস্ত্র মুখোশধারীদের আনাগোনা তিন মাসের ব্যবধানে তিন খুন

চুয়াডাঙ্গা জেলার শিল্প ও সীমান্ত শহর দর্শনায় আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হয়েছে। তিন মাসের ব্যবধানে ৩টি নৃশংস হত্যাকাণ্ড, ব্যবসায়ীর টাকা ছিনতাই, বোমা বিস্ফোরণ, পৌর এলাকায় সশস্ত্র মুখোশধারীদের আনাগোনা ও দর্শনা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের আশেপাশে ২টি দুঃসাহসিক চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড একের পর এক ঘটেই চলেছে। জানা যায়, গত ২৭ এপ্রিল দর্শনা তদন্ত কেন্দ্রের সামনে টাচ মেকওয়েভার বিউটি পার্লারের বিউটিশিয়ান দর্শনা ঈশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামের খবিরউদ্দীনের মেয়ে রুপা খাতুনকে প্রকাশ্য দিবালোকে জবাই করে হত্যা, ২২ জুন গভীর রাতে সদর উপজেলার ভিমরুল্লা গ্রামের তুফান আলিকে তার ব্যবহূত ইজিবাইক ছিনতাই করে নিয়ে তাকে নৃশংসভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। গত ২৬ জুন সন্ধ্যারাতে দর্শনার আজমপুরে নিজ বাড়ি থেকে ব্যবসায়ী আব্দুল কাদেরের স্ত্রী তহমিনা খাতুনকে কুপিয়ে হত্যা করে তার কলেজপড়ুয়া মেয়ে জ্যোত্স্না খাতুনকে দুর্বৃত্তরা মাইক্রোযোগে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এরপর দর্শনা আলাউদ্দীন স্টোরের মালিক আলাউদ্দীন রাতে মালামাল কেনার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হলে ছিনতাইকারীরা তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ৫৭ হাজার টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যায়। গত ১৮ জুলাই রাতে একদল মুখোশধারী দর্শনা মোবারকপাড়ায় মুখোশধারী ডাকাতদল পুলিশের টহল গাড়ির উপরে বোমা হামলা চালায় এতে এএসআই হাদীউজ্জামানসহ ৩ পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়। এর দেড় সপ্তাহ আগে দর্শনা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের অদূরে সাংবাদিক রাজিব মল্লিকের বাড়িতে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটে। গত রোববার গভীর রাতে শ্যামপুর রফিকের বাড়িতে দুর্বৃত্তরা পর পর দু’টি বোমা হামলা চালায়। বোমার শব্দে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। অপরটি অবিস্ফোরিত অবস্থায় সবুজ টেপ দিয়ে জড়ানো তাজা বোমা এবং বোমার আলামত পাওয়া গেলে তা উদ্ধার করে পুলিশ। দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শিকদার মশিউর রহমান জানান, মামলাগুলোর তদন্ত চলছে ও অন্য বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।