চুনারুঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রুগ্নদশা

হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলা সদর তথা চুনারুঘাট পৌরসভায় অবস্থিত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি প্রয়োজনীয় চিকিত্সাসেবা দিতে পারছে না। আমরা এটাকে হাসপাতাল বলে ডাকি। যদিও প্রয়োজনমতো চিকিত্সক নেই। চিকিত্সকদের দেখা যায় হাসপাতালের নিকটবর্তী ব্যক্তি মালিকানাধীন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নয়তো ছুটিতে বা উচ্চতর ডিগ্রির পড়াশনা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে। সরকারি ওষুধের কথা চিন্তাও করতে পারে না সাধারণ মানুষেরা। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিত্সক ও সহকারীদের বাসা থেকে অনুরোধ করে আনতে হয় মুমুর্ষ রোগীর চিকিত্সার জন্য। সর্বাধুনিক প্রযুক্তির চিকিত্সা সরঞ্জাম মজুদ থাকলেও চিকিত্সকরা রোগীদের পাঠিয়ে দেন বেসরকারি ক্লিনিকে। ফলে অব্যবহূত থেকে নষ্ট হচ্ছে অপারেশন থিয়েটারের কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি অন্যদিকে বিপদে পড়া রোগীরা ক্লিনিকের দ্বারস্থ হয়ে অহেতুক খরচ করছেন কয়েকগুণ বেশি। পরিচ্ছন্নতা কী জিনিস তা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানেন না। সুইপার, আয়া, ঝাড়ুদাররা ব্যস্ত থাকে নিজেদের ব্যক্তিগত কাজে, মাঝে মাঝে জরুরি বিভাগের দায়িত্বে পাওয়া যায় এদেরকে। দেখা যাবে, ইলেকট্রিশিয়ান সেলাই করছে কাঁটাছেঁড়ার রোগীকে। বাতি-পাখা-পানিসহ বিদ্যুত্ বিভাগের লোকজন কাজ করছে হাসপাতালের পরীক্ষাগারে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ে। অথচ শক্তিশালী জেনারেটর পড়ে আছে সিঁড়ির নিচে, এটা কয়েক বছর ধরে অচল। তাই বিদ্যুতের লোডশেডিং-এর সময় মোমবাতি জ্বালিয়ে চলে ৩০ শয্যার হাসপাতালটি। রোগীদের জন্য মানহীন ও অস্বাস্থ্যকর খাবার সরবরাহ করা হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে ৩০ থেকে ৫০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করার কথা থাকলেও আজ ৬ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও খোলা হয়নি নতুন ভবনটির দরজা। ইতোমধ্যে নতুন ভবনটির বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরেছে। সাধারণ ভুক্তভোগীরা হাসপাতালের অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলেই নাজেহাল হচ্ছেন। এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির দিকে নজর দিতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আশরাফুল ইসলাম রাসেল, চুনারুঘাট, হবিগঞ্জ