ইন্টারভিউয়ের দিন
প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০১৪, ২১:২৭
ইন্টারভিউয়ের প্রধান উদ্দেশ্য হল সশরীরে প্রার্থীকে বিচার করা। টেবিলের ওপারের লোকগুলি কিন্তু ঠিক আপনার জ্ঞানকে তলিয়ে মাপতে বসেননি। সেসব মাপামাপির কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে লিখিত পরীক্ষাতেই। সেখানে আপনি ভালো ফল করতে পেরেছেন বলেই আপনাকে ডাকা হয়েছে ইন্টারভিউয়ে, অকারণে আপনাকে হ্যারাস করতে নয়। অতএব, ‘আমি এগিয়ে থেকেই শুরু করছি এবং বাকি সাফল্যটুকু অর্জন করতে আমি পুরোপুরি সক্ষম’—এই কথাটা মাথায় রাখলে ইন্টারভিউ রুমে ঢোকার সময়ে দেখবেন পা ভারি লাগছে না।
ইন্টারভিউ পর্বে আপনাকে ডাকা হয়েছে শুধু আপনার পার্সোনালিটি পরীক্ষা করার জন্য। আপনি মানুষটা কেমন, আপনার হাঁটাচলা, অ্যাটিচিউড, চিন্তা-ভাবনার ধরণ, মতামত ইত্যাদি জানতে। ইন্টারভিউ বোর্ডের সামনে নিজের অ্যাড্রিনালিন রাশকে নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। সামনে হয়তো বসে আছেন বেশ কিছু হোমরাচোমরা ব্যক্তিত্ব, বেশ কয়েকজোড়া চোখ আপনার প্রত্যেকটি পদক্ষেপকে মাপছে, এই অবস্থায় নার্ভাস হলে চলবে না। কারণ, যত নার্ভাস হবেন, ততোই সাফল্য লাভের সম্ভাবনা কমবে। কারণ, সেক্ষেত্রে ওই হেভিওয়েটরা নয়, আপনার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবেন আপনি নিজেই। ঘুরে ঢুকে সকলকে অভিবাদন জানান, বিনয়ের সঙ্গে এবং চোখে চোখ রেখে কথা বলুন। অপেক্ষা করুন বোর্ড মেম্বাররা আপনাকে বসতে বলা পর্যন্ত এবং সবার আগে ধন্যবাদ জানাতে ভুলে যাবেন না।
বসার পরে অপেক্ষা করুন অন্যদিক থেকে কী প্রশ্ন আসে তার জন্য। সাধারণত প্রথমে নামধাম, কী নিয়ে পড়াশোনা করেছেন, ক্যারিয়ারে লক্ষ্য কী, এসব বিষয় নিয়ে নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। এই অপেক্ষাকৃত সহজ প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার সময় নিজের মানসিক ধৈর্য বাড়ানোর চেষ্টা করবেন। কারণ, এরপর যখন বড় প্রশ্নগুলি উড়ে আসবে একে-একে, তখন মাথা ঠাণ্ডা করে, প্রশ্নকর্তার চোখে চোখ রেখে স্বতঃস্ফূর্ত উত্তর দেওয়া জরুরি। উত্তর দেওয়ার সময়ে একটা কথা মাথায় রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ, সেটা হলো—ইন্টারভিউয়ের সব প্রশ্নই যে একই মানের হবে এবং সেগুলি আপনার জানা প্রশ্ন, তা কিন্তু নয়। এক্ষেত্রে ধরাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে, উত্তর দিতে। যেটা জানেন, সেটা অতিরিক্ত বেশি বলা বা যেটা তেমন জানেন না, সেটার উত্তর বানিয়ে বানিয়ে বলার পথটি আত্মঘাতি। উত্তর অজানা থাকলে তা সবিনয়ে স্বীকার করে নেওয়াই উচিত। তাছাড়া, কোনো ব্যাপারে মতামত চাইতে বললে, সেটার উপরে ‘এমনটা হওয়া উচিত’ গোছের মন্তব্য করা শ্রেয় নয়। বিনম্রভাবে শুধু নিজের দৃষ্টিভঙ্গি পেশ করতে পারলে ইন্টারভিউ বোর্ডের সামনে এবং সেই মতামত যেন যথেষ্ট ভাবনাচিন্তাপ্রসূত এবং যুক্তপূর্ণ হয়। নিজের পেশাগত বিষয়ের উপর সম্যক জ্ঞান এবং পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি এবং ঘটনাপ্রবাহ সম্বন্ধে যথেষ্ট ঠাণ্ডা থাকা জরুরি। বক্তব্য পেশ করার ক্ষেত্রে যেন পরিচ্ছন্নতা থাকে। তবে প্রশ্নকর্তা তার প্রশ্ন শেষ করার আগেই কথা বলতে শুরু করা সৌজন্যহীনতার পরিচয়। আগে অন্যের কথা শেষ করতে দিন, তারপর নিজে বলবেন। অযথা নিজেকে জাহির করার কিংবা উত্তেজনা প্রকাশ করার কোনো দরকার নেই। কোনো ব্যাপারে যদি মনে হয় প্রশ্নকর্তা ভুল বলছেন এবং আপনি তার সঙ্গে কোনওভাবেই একমত নন, তা হলে তা নম্রভাবে প্রকাশ করবেন। কোনো মতেই পাল্টা চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ফেলবেন না। কে জানে, তিনি হয়তো জেনেবুঝেই আপনাকে ভুল বলছেন, শুধু আপনার টেম্পারমেন্ট পরীক্ষা করার জন্য। অতএব, রেগে গেলে কিংবা উত্তেজিত হলে তা আপনারই পরাজয়। ইন্টারভিউ আদতে একটা সাইকোলজিক্যাল খেলা। প্রশ্নকর্তারা যেমন আপনাকে নানা প্রশ্নে বিদ্ধ করার চেষ্টা করবেন, আপনাকেও একইভাবে চেষ্টা করতে হবে যাতে পরিবেশ, পরিস্থিতি আপনার অনুকূলে আসে। সেজন্য সোজা পথ একটাই, দুর্দান্ত একটা ফার্স্ট ইম্প্রেশন জমিয়ে ফেলা।